• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে জাককানইবি প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ

  জাককানইবি প্রতিনিধি

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪১
জাককানইবি
হোটেল পরিদর্শনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) সংলগ্ন খাবার হোটেলসমূহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিন্মমান ও খোলামেলা খাবার পরিবেশনের জন্য হোটেল মালিকদের সতর্কতার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. বাকীবিল্লাহর নেতৃত্বে শুরু হওয়া অভিযান কার্যক্রমে প্রায় ২০টি খাবার হোটেল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্য, আনসার, জাককানইবি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিওয়াইবি জাককানইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান প্রমুখ।

খাবারের হোটেলগুলোতে পরিদর্শন চলাকালীন পরিদর্শক দলের কাছে শিক্ষার্থীরা খাবার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- খাবারে পোকা ও মাছি, স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা রান্নাঘর, বাসি খাবার পরিবেশন, নিম্নমান ও পূর্বের ব্যবহৃত ভোজ্য তেল ও খোলামেলাভাবে খাবার পরিবেশন। 

এ ব্যাপারে সহকারী প্রক্টর মো. বাকীবিল্লাহ বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা যেন খাবারের মূল্য কেন্দ্রিক কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয় এবং খাবারের মান যেন ঠিক থাকে। সে ব্যাপারে আমরা হোটেল পরিদর্শন করে মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছি এবং তারাও সম্মত হয়েছেন।’ 

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান শাকিল বলেন, ‘এ ধরনের পরিদর্শন কার্যক্রম নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি সারা বছর এখানকার বসবাসরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে সেটি আমাদের জন্য ভালো হতো। তাতে হোটেল মালিকরা খাবারের মান নিয়ে আরেকটু সতর্ক থাকত।’

ভবিষ্যতেও পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সহকারী প্রক্টর আরও জানান, হোটেলগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান ভালো না। আমরা তাদেরকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছি। তারাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন বলে কথা দিয়েছেন। বাস্তবায়ন হলো কি না, সেটিও তদারকি করবে প্রশাসন। প্রশাসন থেকে এ ধরনের তদারকি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

এ দিকে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) যুব সংগঠন কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশর (সিওয়াইবি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে স্থানীয় হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে কনফারেন্স রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, ক্যাফেটেরিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের নিয়ে আয়োজিত সভায় ভর্তি পরীক্ষায় আগত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের খাবার নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সিওয়াইবি জাককানইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ানের সঞ্চালনায় ও সভাপতি মো. আদীব রাহমানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, সহকারী প্রক্টর মো. আল জাবির ও মো. বাকীবিল্লাহ, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মো. অলিউল্লাহ প্রমুখ।

সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খাবারের মান, মূল্য তালিকা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং সচেতনতা নিয়ে মতবিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ ও আগত ব্যবসায়ীরা।

খাদ্যের গুণগত মান এবং খাবারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা ভর্তি পরীক্ষায় আসা পরীক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের খাবারের ভোগান্তিতে না পড়েন এজন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ভর্তি পরীক্ষায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খাবারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিম্নমানের খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করে থাকেন।

সিওয়াইবি জাককানইবি শাখার উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘খাবারের নিম্নমান এবং মূল্যবৃদ্ধি ভর্তি পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই খাবারের মান ঠিক রাখা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা অতীব জরুরি।’

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা তাদের অভিমত প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে হোটেল মালিকদের যে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রক্টর। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও যেন একই পথে না হাঁটেন ব্যবসায়ীরা সে বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চান তিনি।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড