• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রাণীর প্রজনন খাতে পবিপ্রবিতে নতুন ডিভাইস উদ্ভাবন

  পবিপ্রবি প্রতিনিধি

২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৯
পবিপ্রবি
নতুন উদ্ভাবিত ডিভাইস, ইনসেটে ড. অসীত কুমার পাল (ছবি : সম্পাদিত)

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কৃষিতে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাণিসম্পদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অ্যানিম্যাল সাইন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মেডিসিন, সার্জারি অ্যান্ড অবস্ট্রেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অসীত কুমার পাল নতুন এক ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন।

প্রাণিসম্পদের চিকিৎসায় প্রজনন খাতে উন্নয়নের ধারাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এ ডিভাইসের উদ্ভাবন। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জায়গায় কৃত্রিম প্রজননের (আর্টিফিশিয়াল ইনসিমিনেশন- এআই) মাধ্যমে উন্নত জাতের ব্রীড দিয়ে গবাদি প্রাণীর প্রোডাকশন করা হয়। এতে দুধ ও মাংসের গুণগত মান বাড়ে। কিন্তু বর্তমানের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে গবাদি প্রাণীর প্রজননের ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতিতে হাতের সাহায্যে পশুর সারভিক্সের অবস্থান জানতে হয়। অনেকসময় নিখুঁতভাবে এর অবস্থান না জানার কারণে টেকনিশিয়ান ও গবাদি প্রাণী উভয়েই অস্বস্তিতে পরে। এছাড়াও দেখা যায় জরায়ু সমস্যার কারণে জন্মকালীন সময় বা জন্ম পূর্ববর্তী এবং জন্ম পরবর্তী সময় নানা কারণে গবাদি পশু মারা যায়। তাই প্রাণীর অবস্থা বিশদভাবে জানার জন্য ছোট একটি ডিভাইস এটি।

উদ্ভাবিত এ ডিভাইসটির নাম দেওয়া হয়েছে- পিএসটিইউ ভ্যাজাইনো সারভাইকাল ডিভাইস (PSTU- VCD)। এই ডিভাইসের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে সহজেই সারভিক্সের অবস্থান নিখুঁতভাবে জানা যাবে। যা কৃত্রিম প্রজননের সময় এআই গান ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এ যন্ত্রের সাহায্যে- প্রাণীর সারভিক্সের বহির্মুখ দেখতে সহায়তা করবে, সারভাইকাল কৃত্রিম প্রজননে (Cervical AI) ব্যবহার করা যাবে, ভ্যাজাইনাল ও সারভাইকাল প্রদাহ দেখতে সহায়তা করবে, গর্ভবতী প্রাণী বাচ্চা প্রসবের সময় জরায়ুর মুখ খুলেছে কিনা দেখতে সহায়তা করবে, কৃত্রিম প্রজননের সময় সারভিক্স এর মধ্যে সহজেই কৃত্রিম প্রজনন পাইপ (AI gun) প্রবেশ করানো যাবে, জরায়ু হতে সংক্রামক দূষিত পদার্থ অপসারণ করতে সহায়তা করবে, কৃত্রিম প্রজনন টেকনিশিয়ানদের কৃত্রিম প্রজননে সহায়তা করবে।

উদ্ভাবিত এ ডিভাইসটি এসএস (স্টেইনলেস স্টিল) পাইপ দ্বারা বিশেষ কৌশলে ও পরিমাপে প্রাণীর প্রজাতি অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু বা মহিষের ক্ষেত্রে আকার ভেদে বড় উন্নত জাতের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাইপের দৈর্ঘ্য ১২", ব্যাস ২" হাতলের দৈর্ঘ্য ৫", ব্যাস ১"; মধ্যম জাতের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাইপের দৈর্ঘ্য ১০", ব্যাস ১.৫" হাতলের দৈর্ঘ্য ৫", ব্যাস ১"; ছোট দেশি জাতের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাইপের দৈর্ঘ্য ৮", ব্যাস ১" হাতলের দৈর্ঘ্য ৫", ব্যাস ১" এবং ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে বড় উন্নত জাতের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাইপের দৈর্ঘ্য ৬", ব্যাস ০.৭৫" হাতলের দৈর্ঘ্য ৫", ব্যাস ০.৭৫"। ছোট জাতের ক্ষেত্রে পরীক্ষণ পাইপের দৈর্ঘ্য ৬", ব্যাস ০.৫" হাতলের দৈর্ঘ্য ৫", ব্যাস ০.৫"।

এ বিষয়ে ড. অসীত কুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দৈনিক অধিকারকে জানান, আমরা যখন কোনো পশুকে উন্নত জাতের ব্রিড দিতে যাই তখন সারভিক্সের অবস্থান সহজে জানা যায় না। এতে সঠিকভাবে কাজও করা যায় না। উদ্ভাবিত এ ডিভাইসটি পরিবেশ ও প্রাণীর শরীরের ওপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেলবে না এবং ডিভাইসটির প্রস্তুত মূল্যও খুবই কম (আকার ভেদে মাত্র ২০০-৫০০) টাকা।’

প্রসঙ্গত, ড. অসীত কুমার পাল বিভিন্ন প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনীমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ছাত্রজীবন থেকে তিনি নানা গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। কয়েকবছর আগে থাইল্যান্ডে পিএইচডি করা অবস্থায় পেপার ডিভাইস নামে এক ডিভাইস উদ্ভাবন করেছিলেন। যার সাহায্যে প্রাণীর ভ্রূণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। বর্তমানেও তিনি উদ্ভাবনীমূলক বিভিন্ন প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড