• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৩৫ বছরেও এমপিও বিহীন চন্দ্রঘোনা কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়

  কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৬
কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়
চন্দ্রঘোনা কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩৫ বছর পরও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় হতাশ রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকরা। ফলে বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার কেপিএম শিল্প এলাকা হিসেবে সুপরিচিত চন্দ্রঘোনা কেপিআরসি এলাকা। ১৯৫৩ সালে কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. (কেপিএম) এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে কর্ণফুলী রেয়ন মিলস (কেআরসি) প্রতিষ্ঠার পর এ দুই শিল্প কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা, শ্রমিক/কর্মচারীদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য গড়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী কেপিএম স্কুল এবং কেআরসি স্কুল। 

বাংলাদেশ কেমিক্যালস ইন্ড্রাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসির) নিয়ন্ত্রণে এ ২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ, বেতন ভাতাসহ যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্ত কেপিএম স্কুলের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চললেও ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন কেআরসি মিল সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হওয়ার ফলে বিসিআইসি কর্তৃক প্রতি মাসে দেওয়া স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। 

আরও জানা যায়, ১৯৮৪ সাল থেকে স্বনামধন্য শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান ২০০২ সালের আগে রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে ফলের দিক দিয়ে ৩ বার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করে। মিল বন্ধের পর ধীরে ধীরে এই গৌরব হারাতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কোন রকমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সংকটের কারণে ২০০২ সালের পর থেকে এই স্কুলের শিক্ষকরা চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। 

এ ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বান্ধব। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনেক কিছুই করে চলছেন। আমরা চাই আমাদের এ প্রতিষ্ঠানটি অতিদ্রুত এমপিও ভুক্ত করে আমাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিবেন।’ 

কেআরসি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে ৬ জন মহিলা শিক্ষক এবং ৪জন পুরুষ শিক্ষক ৬ষ্ঠ হতে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের থেকে প্রদত্ত সামান্য টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের বেতনের হার এতই কম যে তা দিয়ে শিক্ষকদের পরিবারতো দূরের কথা নিজের আনুষঙ্গিক খরচও মিটেনা।’ তিনি অতি দ্রুত কেআরসি স্কুলকে এমপিওভুক্ত করার জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানান। 

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক দীর্ঘ দিন যাবত এ স্কুলের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে জড়িত আছেন। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়া খুবই জরুরি। তা না হলে অচিরেই ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রাঙ্গামাটির জেলার সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এ স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বছর, বছর অনুদান দিয়েছেন। স্কুলের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য তিনি তার তহবিল হতে নগদ অনুদান দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাদির আহমেদ জানান, অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে যৎসামান্য বেতন নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষকতা করছেন। কিন্ত এ বেতন দিয়ে একজন শিক্ষকের পরিবার চালানো বর্তমান সময়ে অসম্ভব। তাই এ স্কুলটি দ্রুত এমপিওভুক্ত হওয়া জরুরি।

ওডি/এমএ

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড