• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান একাত্তরের বার্তাবাহক মকবুল

  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩০
সংবাদ সম্মেলন
মকবুল হোসেনের সংবাদ সম্মেলন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সরকারের কাছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক কর্মচারী ও একাত্তরের বার্তাবাহক মকবুল হোসেন (৬৫)। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন। 

জানা যায়, মকবুল হোসেন রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার মেহেরচন্ডী এলাকায় থাকেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় চায়ের দোকানে কাজ করেন। তার স্থায়ী বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে।

সংবাদ সম্মেলনে মকবুল হোসেন জানান, ১৯৬২ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ক্যান্টিন বয় হিসেবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আব্দুল হক, গণিত বিভাগের শিক্ষক আফতাবুল রহিম, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক এনায়েতুর রহমান মকবুল হোসেনসহ কয়েকজনকে মুক্তিযোদ্ধাদের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেন। পরে তিনিসহ উপাচার্য বাসভবনের মালি গেদু, বাংলা বিভাগের প্রহরী মফিজ ও সাবিরুল হক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যান। ফিরে এসে তিনি ও গেদু ৭ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীর অধীনে বার্তাবাহকের কাজ শুরু করেন।

মকবুল হোসেন বলেন, '১৮ আগস্ট মুখে করে কাগজ নিয়ে যাওয়ার সময় বিনোদপুর গেটে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমিসহ অনেক জনকে চোখ বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেককে হত্যা করা হয়। এ অবস্থান আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পাকিস্তানিরা আমার গলায় গ্রেনেড বেঁধে লাথি মেরে পানিতে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে জেগে উঠে ঘণ্টাখানেক পর ভারতীয় বাহিনীর একটি গাড়ি দেখতে পাই। পরে তারা আমার চিকিৎসা করায়। 

তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ থেকে অবসর পাই। ২০০৪ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করেছি। ২০১৭ সালে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করেছি।

জানতে চাইলে মকবুল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর সবাই কাগজ করাচ্ছিল। আমি তো আর জানি না কাগজের এত মূল্য। সেই সময়ে আমার স্ত্রী ও বড় ছেলে মারা যায়। তাই ওসব করার মানসিকতাও ছিল না। আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি স্বীকৃতিটা দেয় তাহলেই আমি খুশি।’

এ সময় তিনি ১৯৭২ সালে ভারতীয় এক ক্যাম্প কমান্ডের ক্যাপ্টেনের দেওয়া টেলিফোন শাখায় কাজের স্বীকৃতিপত্র, ১৯৯৪ সালের ভোটার পরিচয়পত্র, ২০১৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অংশগ্রহণের কাগজপত্র দেখান।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড