• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

উচ্চশিক্ষায় পছন্দের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া

  তাসমিয়া এহসান ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:০৬

উচ্চশিক্ষা
তাসমিয়া এহসান (ছবি : সংগৃহীত)

বর্তমান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা প্রবল। একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ শুধু একটি ভালো সার্টিফিকেটই পেতে সাহায্য করে না, একই সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় ভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার সঙ্গে। ২০১৮ সালে এশিয়ার শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াকে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেছে। এই সকল এশিয়ানদের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম।

অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এ লেভেল বা এইচ. এস. সি পাস করে, অনার্স শেষ করে, ডবল মাস্টার্সের জন্য কিংবা পি.এইচ.ডি এর জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেন। কিন্তু বিপত্তি আসে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনই নয়, ভিসার জন্য ও অনলাইনে আবেদন করতে হয়। অনেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে নিজে নিজেই আবেদন করে থাকেন। কিন্তু, তারা এটা ভুলে যান, বিশ্ববিদ্যালয় আপনার আবেদন গ্রহণ করলেও আপনি অস্ট্রেলিয়ার সীমানা অতিক্রম করতে পারবেন না, যদি না আপনার কাছে ভিসার কাগজ থাকে।

এখানে একটা কথা বলে রাখি, অনেকে মনে করেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আপনার আবেদন গ্রহণ করলেই আপনার ভিসা অটোম্যাটিক হয়ে যাবে। ধারণটা সম্পূর্ণ ভুল। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং অস্ট্রেলিয়ান হোম মিনিস্ট্রি একই কর্তৃপক্ষ নয়। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ইতিবাচক জবাব দিলেও, যদি অস্ট্রেলিয়ান হোম মিনিস্ট্রি আপনার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নেতিবাচক উত্তর দেয়, তবে আপনাকে পুনরায় ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

পারসোনালি, আমি আইডিপি বাংলাদেশের এজেন্টের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন এবং ভিসার আবেদন করেছি। আপনারাও বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেষ্টা করতে পারেন। আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করলে আমি আইডিপি বাংলাদেশের কথাই বলব। আইডিপি বাংলাদেশের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এই প্রতিষ্ঠান সকল কর্ম ফ্রিতে করে থাকেন। অর্থাৎ, আপনাকে বাইরে পড়তে যাবার ক্ষেত্রে যে সহায়তা প্রদান করা হবে, তার জন্য আইডিপি এর কর্মীরা কোনো চার্জ নেবেন না।

এবার আসি আইইএলটিএসের কথায়। আপনি বিদেশে পড়তে যান অথবা চাকরির জন্য আবেদন করুন, উভয়ক্ষেত্রেই আইইএলটিএস দরকার হবে। অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনার জন্য আইইএলটিএস ব্যান্ড মিনিমাম ৬ পেতে হয়। আইইএলটিএসের পরপরই আপনি লেখাপড়ার এবং ভিসা আবেদনের জন্য বিবেচিত হবেন।

সিডনি

অস্ট্রেলিয়ার মনোরম পরিবেশে লেখক তাসমিয়া এহসান

 

আর সকল উন্নত দেশের মতো অস্ট্রেলিয়াতেও অনেক ধরনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। অনলাইনে সার্চ করে এবং আপনার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেও আপনি এই ব্যাপারে আরও তথ্য লাভ করতে পারেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, জাতীয়, সরকারি, বেসরকারি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয় যেগুলোর খোঁজ শুধু অনলাইনেই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শিক্ষাবৃত্তি ছাড়াও আপনি টিউশন ফি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ একেকরকম। খরচ সম্বন্ধীয় তথ্য মিলবে ভার্সিটি ওয়েবসাইটেই।

আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের খবরা-খবর জানার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী ছাত্রছাত্রীদের জীবন-যাপন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। উদাহরণস্বরূপ : অস্ট্রেলিয়ার যাতায়াত ব্যবস্থা আমাদের দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে খুবই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ানরা ‘ওপাল কার্ড’ ব্যবহারের মাধ্যমে বাসে এবং ট্রেনে যাতায়াত করে। বাস এবং ট্রেন থেকে নেমেও অনেকখানি পথ হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌঁছুতে হয়। রাস্তায় হাঁটা এবং পারাপারের জন্যও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। এই সকল ছোট ছোট বিষয়গুলো জেনে গেলে মানিয়ে নিতে সহজ হবে। সবশেষে, নতুন বছরে বিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী সকল শিক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস, সিডনি (লেখক ঢাকাস্থ ‘এস ও এস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ থেকে এস.এস.সি এবং ‘হলিক্রস কলেজ’ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি পাস করেন। পরবর্তীতে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের’ ‘দর্শন বিভাগ’ থেকে অনার্স  সম্পন্ন করেন। বর্তমানে, তিনি সিডনিতে ‘ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ বিষয়ে ‘ ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসে’ মাস্টার্স করছেন।     

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড