• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাকৃবিতে ছাত্রলীগের হামলায় সাংবাদিক আহত

  বাকৃবি প্রতিনিধি ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩০

বাকৃবি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীদের মধ্যে ২ দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধর করে ওই হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা। গুরুতর আহত সাংবাদিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে হল প্রভোস্ট বরাবর আবুল বাশার মিরাজ ও প্রক্টর বরাবর বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি লিখিত আবেদন দেয়।

প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে গেস্টরুম চলাকালে ২য় বর্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মী প্রথম বর্ষের এক কর্মীকে থাপ্পর মারে। এতে প্রথম বর্ষের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন বুধবার গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানায়। ১ম বর্ষের কর্মীদের সঙ্গে হলের ২য় বর্ষের কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ওই হলের হল শাখার ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা ১ম বর্ষের কর্মীদের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা ২ বর্ষের কর্মীদের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেবার চেষ্টা করেন। এরপর সিনিয়র নেতারা গেস্টরুম থেকে চলে গেলে আবারও ওই ২ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। 

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশার খবর সংগ্রহ করতে গেলে দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীরা তাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী মিলে তাকে এলোপাথারি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই হলের ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা আবুল বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।  

এই ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি শাহরিয়ার মনির, আবুল বাশার মিরাজকে খবর সংগ্রহ করার জন্য শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি এখানে কেন এসছো? হলের খবর কেন তুমি বাইরে দিবে?' হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে।’ পরে এ বিষয়ে শাহরিয়ার মনিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা আহত আবুল বাশারকে রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে যান এবং সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানও হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ আহমেদ হাসপাতালে আবুল বাশারকে দেখতে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার রাতে বারবার হল প্রভোস্টকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকনকে জানানো হলেও তিনি পরবর্তীতে কোন ধরনের খোঁজখবর নেননি।

প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি হলের বিষয়, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। যেহেতু আমাকে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি তাই আমি কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম। 

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ন্যাক্কার জনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসন আছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্যই, অন্য কোন শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কোন দায়ভার নেই। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড