• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

শিক্ষক সংকটে কক্সবাজার সরকারি কলেজ

  তামিরুল ইসলাম মিল্লাত ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১১

সিজিসি
কক্সবাজার সরকারি কলেজ (ছবি : সংগৃহীত)

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ এবং আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি কলেজ। ১৯৬২ সালে প্রায় ১৮ দশমিক ৭৪ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ৪৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এর মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য কলেজে শিক্ষক আছে মাত্র ৫৮ জন। হিসেব করে দেখলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর অনুপাত দাড়ায় ১:১৯৭!

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংঝা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় কলেজটি বরাবরের মতো ২০১৮ সালের এইচ. এস. সি. পরীক্ষায়ও কক্সবাজার জেলায় শীর্ষস্থান দখল এবং বোর্ডে অন্যতম ওপরের সারিতে থাকলেও শিক্ষক সংকট সমস্যা যেন কাটছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি পুরনো কাঠামো মানলেও বর্তমানে কলেজে মোট ১০০ জনের ওপরে শিক্ষক দরকার। কিন্তু বারবার আবেদন করেও রহস্যজনক কারণে শিক্ষক পাচ্ছে না কলেজটি। এছাড়া শিক্ষক সংকটের মধ্যেও কলেজের কোনো শিক্ষক সরকারি নিয়মে অন্য কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে শূন্য পদে শিক্ষক আসতে লেগে যায় দীর্ঘসময়। যার ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

এতদিন ১০টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও চারটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ানো হলেও আরো তিনটি (পদার্থ, রসায়ন, প্রাণিবিজ্ঞান) বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) চালু হয়েছে এ বছর থেকে। এছাড়াও বিগত বছর থেকে নতুন করে ব্যবস্থাপনা, গণিত ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান এ স্নাতকোত্তর চালু হয়েছে। সেই সাথে প্রত্যেক বিভাগের জন্য ২ জন করে মোট ৬ জন শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষক শূন্যতা পূরণ হয়নি। ফলে সবার মনে একটাই প্রশ্ন স্নাতকের জন্য যেখানে কলেজ পাচ্ছে না পর্যাপ্ত শিক্ষক, সেখানে স্নাতকোত্তর চালুর পর শিক্ষক শূন্যতা আদৌ কমবে কিনা সেটা দেখার বিষয়।

কলেজ সুত্রে জানা যায়, চলমান ১৩টি অনার্স কোর্সের মধ্যে দর্শন বিভাগে প্রয়োজনীয় ৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে এখনো কোনো শিক্ষক পাঠায়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে বাংলা বিভাগে ১ জন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ১ জন, ব্যবস্থাপনা বিভাগে ১ জন করে শূন্য পদ সৃষ্টি হলেও শিক্ষক পাচ্ছে কলেজটি।

গেল কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা সারা বাংলাদেশে ১ম হলেও সেই গণিত বিভাগেই শিক্ষকের শূন্যপদ আছে দুটো। শুধু গণিত বিভাগেই ২৫০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছে মাত্র ৩ জন!

এমন শিক্ষক সংকটে চরম ক্ষোপ প্রকাশ করেন কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে গণিত বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত ক্লাসের শিডিউলেও অনেক সময় ক্লাস মিস হয়ে যায়। এছাড়া পরিবহন সমস্যার কারণে দূর থেকে গিয়ে ক্লাস করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে’।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি আবাসন ও পরিবহন সংকটও উল্লেখ করার মতো। অধ্যায়নরত প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীরা শহরের বাইরের এলাকার। এরপরও ছাত্রদের জন্য কলেজে নেই আবাসনের কোনো ব্যবস্থা। ২০০৯ সালে ছাত্রাবাস বন্ধ হওয়ার পর তা আর চালু করা হয়নি এখনো।

অন্যদিকে, পরিবহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক একটি বাস উপহার দেয়া হলেও তা শুধুমাত্র শহরের মধ্যেই ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক পরিবহন করে। এছাড়াও ১৯৯১ সালে ইউএনএইচসিআরের প্রদানকৃত চেয়ার কোচটিও বর্তমানে অচল বলা চলে। ফলে দূর দূরান্তের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে মেয়েদের কলেজ গমন অনেকটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পরিবহনের এই সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হারাচ্ছে কলেজে যাওয়ার মানসিকতা।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘কলেজের লেখাপড়া ও ফলাফল ভালো হলেও আছে সমস্যার পাহাড়। দুর্গম এলাকার গরিব ছাত্রদের জন্য ২০০ আসনের একটি পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের জন্য কয়েক বছর ধরে লেখালেখি হচ্ছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও শ্রেণিকেক্ষর সংকট দূর করতে পাঁচ তলা বিশিষ্ট পৃথক দুটো অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে অনেক আগে। এ ছাড়া শিক্ষকদের থাকার জন্য একটি ডরমিটরি ও মিলনায়তন দরকার’।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড