• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন

শিক্ষিত নারীরা বেকার কেন?

  রেহেনা আক্তার রেখা ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০১

নারী
ছবি : প্রতীকী

আমাদের দেশে নারীরা এখনো পুরুষের চেয়ে অনেকগুণ পিছিয়ে। কর্মক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে মেয়েরা কতটুকু পিছিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমাজের অধিকাংশ নারীরা শিক্ষিত হয়েও এখনো বেকার বসে থাকেন। যদিও বেশিরভাগ নারীদের প্রধান ও একমাত্র পছন্দের কর্মস্থল শিক্ষকতা।

শিক্ষকতা মহান একটি পেশা। কিন্তু এই পেশার মধ্যে নারীরা কেন সীমাবদ্ধ থাকবেন? কেন তারা সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ থেকে পড়াশোনা করেও একমাত্র পেশা হিসেবে শিক্ষাকতাকে গ্রহণ করবেন?

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা আসলে এমনভাবেই তৈরি। আমাদের সমাজ নারীদেরকে ধরা বাধা কিছু নিয়মে আবদ্ধ করে রেখেছে যার কারণে নারীরা এর শেকল থেকে বের হতে পারে না। অনেক শিক্ষিত নারীকে দেখা যায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশ সেরা বিদ্যাপিঠ থেকে পড়াশোনা শেষ করেও দিব্যি গৃহিণী হিসেবে স্বামীর সংসার করছেন।

কিন্তু কেন? এইসব নারীদের সাথে কথা বলে দেখা গেলো, তাদের অধিকাংশ স্বামীই যে যার যার মতো সফল। যেমন কারো স্বামী ম্যাজিস্ট্রেট, কারো স্বামী পুলিশ সুপার, আবার কারো স্বামী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। অথচ স্বামীরাও একই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ে এসেছেন।

এটা নারী জাতির জন্য অনেক বড় লজ্জার যে, একই প্রতিষ্ঠানে পরিবারে দু’জন সদস্য গ্রাজুয়েশন শেষ করে আসছেন, একজন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত, অন্যজন শুধুই গৃহিণী হয়ে চার দেওয়ালে পড়ে আছেন। এর অন্যতম কারণ হলো মেয়েরা ছেলেদের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তবে অনেক শিক্ষিত নারীদের চাকরি করার ইচ্ছে থাকলে স্বামীর অনিচ্ছার কারণে চাকরি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছা্ড়া বিয়ের পর অনেক শ্বশুর বাড়ির লোক চায় না তাদের ঘরের বউ বাইরে গিয়ে কাজ করুক। এইসব কারণে শিক্ষত হয়েও নারীরা কর্মক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে।

এখানেই শেষ নয়, আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবার আছে যাদের কন্যা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করে ভালো একটি পাত্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। তাদের ধারণা মেয়ে শিক্ষিত হলে অনেক ভালো ঘরে বিয়ে দিতে পারবেন। কারণ বেশিরভাগ শিক্ষিত ছেলে যারা ভালো চাকরি করেন তারা শিক্ষত নারীদেরকে বিয়ের পাত্রী হিসেবে বেশি পছন্দ করেন। তাই অনেকে ভালো চাকরিজীবী ছেলের হাতে বিয়ে দিতে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করে গড়ে তুলেন।

এই ধরনের পরিবারের বেশিরভাগ মেয়েদের মানসিকতাও পরিবারের মতো। তারা একবার চেষ্টাও করেন না আত্মনির্ভরশীল হতে। কখনো ভাবেও না সে চাইলে পুরুষের চেয়ে অনেক ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন।

এসব শিক্ষিত নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা সম্ভব না হলে দেশ কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। তাই এসব পরিবারে সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরকে সেকেলে ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তাহলেই সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব, নতুবা নয়।

তবে আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছেলেদের পাশাপাশি কিছু শিক্ষত নারী রয়েছেন যারা ইচ্ছে থাকার সত্ত্বেও যোগ্যতা মতো চাকরি না পাওয়ায় মাস্টার্স শেষ করেও ঘরে বসে থাকেন। এছাড়া অনেক নারী আছে যারা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে অনিরাপদ মনে করেন। তাই শিক্ষিত হওয়ার সত্ত্বেও কর্মে অংশ গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে না। এইসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উচিত সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থলে মেয়েদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা। সর্বোপরি কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড