• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঢাবি যেন বহিরাগত গাড়ি পার্কিংয়ের মূল কেন্দ্র!

  মো. শাহ্ নেওয়াজ

০৫ নভেম্বর ২০১৮, ১০:২৬
ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অন্যতম স্বপ্ন দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ব্রত নিয়েই প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এসব শিক্ষার্থীদের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।

অরক্ষিত প্রবেশপথ, বখাটেদের উন্মুক্ত বিচরণ এবং নিরাপত্তায় রক্ষায় লোকবলের অভাবে নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বহিরাগতের অবাধ বিচরণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অপ্রীতিকর ঘটনা। বেড়েছে চোরের উৎপাত।

শুধু তাই নয়, ক্যাম্পাসে বাইরের গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ছুটির দিন অথবা যে কোনো উৎসবের দিন বহিরাগতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিড় জমায়। শুধু ছুটির দিন বা উৎসব নয়, প্রতিদিনই হাজারো মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসেন অবসর সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু সমস্যা হলো সন্ধ্যার পর এক শ্রেণির যুগল ক্যাম্পাসের নিরিবিলি বিভিন্ন স্থানে ভিড় জমায়। সৃষ্টি করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। এদের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে সব ধরনের গাড়ি অবাধে যাতায়াত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতর দিয়ে গাড়ির এরকম অবাধে প্রবেশের সুযোগ নেই। লেগুনা, মোটরসাইকেল, রিক্সা, মিনি ট্রাক, পিক আপসহ সব ধরনের গাড়ি এর ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে। বড় গাড়ি ও ভারি যানবাহন ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন অবৈধভাবে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, পিক আপ ভ্যান ইত্যাদি যানবাহন। এ কারণে অনেক সময় ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে।

গেল ১ নভেম্বর এক বহিরাগত তরুণী মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাজু ভাস্কর্যের রেলিং ভেঙে ওপরে ওঠে যায় এবং ভাস্কর্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া সন্ধ্যার পর ফুলার রোডসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বাইক রেসারদের যেন গতির প্রতিযোগিতা চলে। এর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক সময় একে কেন্দ্র করে মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

রবিবার (৪ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দীতে এক প্রোগ্রামের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকেরা গাড়ি পার্কিং করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলার মতো কোনো জায়গা ছিল না।

বহিরাগতদের অবাধে চলাফেরার সুযোগে ক্যাম্পাসে বাড়ছে চোরের উৎপাত। চুরি হচ্ছে মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ, সাইকেলসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার্য জিনিস। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মো. মুহসিন হল থেকে এক মানিব্যাগ চোর এবং বিজয় একাত্তর হল থেকে এক সাইকেল চোরকে আটক করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে উভয়েই ছিল বহিরাগত! এসব বহিরাগতরা নানা সুযোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চুরি-ছিনতাই এর ঘটনা ঘটায়। এছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের সক্রিয় অবস্থান লক্ষ করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর ফেরদৌস জিয়ন বলেন, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণের ফলে আমাদের ক্যাম্পাস রীতিমতো একটি পার্কে পরিণত হয়েছে। সব ধরনের গাড়ি অবাধে চলার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়েই চলছে। মারামারি থেকে শুরু করে ছিনতাই পর্যন্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে। এসব বহিরাগতদের কাছে আমরা অসহায়। এমনকি আবাসিক হলেও এদের উৎপাত প্রচুর। বিভিন্ন রুম থেকে মানিব্যাগ, মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের ক্যাম্পাস বহিরাগতদের হাত থেকে মুক্তি পাক এবং শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে একজন ছাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার না হয়ে অবাধে বিচরণ করতে পারে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আসিফ আকরাম বলেন, বহিরাগতদের অবাধে অনুপ্রবেশের কারণে আমাদের প্রায়শই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে ছেলেদের হলে কোনো চেকিং না থাকার কারণে হল থেকে প্রায়ই ল্যাপটপ, মোবাইল বা সাইকেল চুরি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করে। ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম থাকলেও যথাসময়ে সেই স্থানে যাওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি জানান, ক্যাম্পাসে প্রায় লাগামহীন অবস্থায় বাইরের গাড়ি আসা যাওয়া করে। কিছুদিন আগে বহিরাগত এক তরুণী মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে রাজুভাস্কর্যের রেলিং এ উঠিয়ে দেয়। এছাড়াও কয়েকদিন আগে ঢাবি ছাত্র পরিচয়ে এক লোকের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় দুই বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহী। ফুলার রোডসহ প্রায় পুরো ক্যাম্পাসে বিকাল থেকে সন্ধ্যায় প্রেমিক যুগলদের অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জায়গায় অবস্থান করছে সেখানে যদি আমরা রাস্তাগুলো বন্ধ করে রাখি এবং বাইরের গাড়ি ভিতরে ঢুকতে না দেই তাহলে অন্যান্য জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হবে। তবে প্রস্তাব এ রকম আছে যে, কিছু রাস্তা খোলা রেখে কিছু কিছু রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না।

তিনি বলেন, আমরা কিছুদিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ বার দেব এবং বারগুলো নির্মাণ করব। কিছু গেইটে নিয়ন্ত্রণ বারগুলো বসাব। এগুলো বসালে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাইরের গাড়িগুলো ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। নিয়ন্ত্রণ বার আমরা নিচে নামিয়ে রাখব যাতে গাড়ি ভেতরে ঢোকার নিয়ন্ত্রণ আমরা করতে পারি। এই প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, এটি দেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া ঢাকার অন্য কোথাও বসে সময় কাটানোর জায়গা তেমন নেই। সেজন্যই লোকজন এখানে আসেন। এখন সে সব মানুষকে যদি আমরা আসতে না দিই তাহলে এটা উচিত হবে না। তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। আমরা তা সম্পূর্ণরূপে আমরা বন্ধ করে রাখব, সেটা সম্ভব না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কীভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে চিন্তা ভাবনা আমাদের মাথায় আছে।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড