• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে দেশের ৬৭ শতাংশ শিশু

  রেহেনা আক্তার রেখা ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২৭

শিক্ষা
প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা (ছবি : সংগৃহীত)

পরিবারের একমাত্র সম্বল হয়ে দাড়িঁয়েছে পঞ্চম শ্রেণি শেষ না করা ছেলেটি। সকালে ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিদিন তাকে ছুটতে হয় জীবিকার টানে। কারণ তার ওপর নির্ভর হয়ে আছে গোটা পরিবার। অথচ ছোটবেলায় তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। স্বপ্ন ছিলো ভালো একটি চাকরি করে কাছের মানুষদের সুখী করবে, স্বপ্ন ছিলো জ্ঞানের মহা রাজ্যে প্রতিদিন বিচরণ করবে, স্বপ্ন ছিলো দিন শেষে প্রিয় লেখকের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়বে।

এসব কিছুই তার জীবনে হলো না, অল্প বয়সেই তাকে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। যার কারণে সে ইচ্ছে থাকার সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। শিক্ষার আলো থেকে সে অল্প বয়সেই ঝড়ে পড়েছে।

আমাদের দেশে এটি একেবারে কমন একটি চিত্র। বিশেষ করে গ্রামে দেখা যায়, পরিবারের বড় ছেলে বা বড় মেয়েটি পড়াশোনা শেষ করতে পারে না। ছেলেটিকে অল্প বয়সে বাবার  কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিতে হয়। আর বড় মেয়েটির না হয় অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, না হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে হাই স্কুলে ভর্তি না হয়ে ঘরে বসে থাকে। আবার অনেককে দেখা যায়, কোনো মতে প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে হাই স্কুলে ভর্তি হলো, কিন্তু পরিবারের অর্থের অভাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠতে পারেনি।

আবার অনেক পরিবার স্বচ্ছল, মেয়ে পড়াশোনায়ও খুব ভালো। কিন্তু কুসংস্কার আর ধর্মীয় গোড়ামীর বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে অকালেই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আর্থিক অস্বচ্ছলতা, ধর্মীয় গোড়ামী, বাল্য বিবাহের কারণে বেশিরভাগ শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া অনেকেই আছেন যারা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুযোগও পায় না। ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে- দেশের ৬৭ শতাংশ শিশুই প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে রাজধানীসহ সারাদেশে দেখা যায় যায় কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসতে। এছাড়া এসব ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করতে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে দেখা যায়। তবে যতদিন পর্যন্ত এই ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এছাড়া শিক্ষার মূল্যবোধ সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিই হতে পারে এর মোক্ষম সমাধান।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড