• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুবিতে ভিসি দপ্তরে 'লাঞ্চিত' শিক্ষক,  ইন্ধনে কারা?

  কুবি প্রতিনিধি:

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৪৭
কুবি

নবগঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের সাথে দেখা করতে এসে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরিয়াল বডির সামনেই উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রার্থী সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব পালন ও কর্মচারী ও অছাত্রদের ক্ষমতার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।

জানা যায়, দীর্ঘ ১৪ মাস পর ১৯ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা উপাচার্যের দপ্তরে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। উপাচার্য নবনির্বাচিত কমিটির সাথে দেখা করবেন না বলে জানিয়ে বলেন "কিসের শিক্ষক সমিতি!" এ সময় তারা উপাচার্যের সাথে দেখা করার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে। উপাচার্য তাদের সাথে কথা বলতে এসে উত্তপ্ত হয়ে, তিনবার চেয়ার ছেড়ে নিজের ডেস্ক এ বসেন। এসময় প্রক্টরদের ডেকে আনেন উপাচার্য আবদুল মঈন। পরে একজন কল দিলে সাবেক শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থী সহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ পদপ্রার্থী ও চাকরিপ্রার্থী সহ কুবি ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেন সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও উচ্চবাচ্যের পাশাপাশি দরজায় লাথি দিতে থাকেন। এসময় তাদের কয়েকজন শিক্ষকদের দিকে তেড়ে এসে প্রশ্ন করেন, 'হু আর ইউ'। এছাড়াও তারা বলেন, “চিল্লাইতেছেন কেন আপনারা, চিল্লাইতেছেন কেন? আপনারা গুন্ডামি করেন। আমাদের আইন শিখান, কোথায় লিখা আছে এখানে আসা যাবে না।”

তখন তাদের বের করে দিতে আসার নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের প্রাধ্যক্ষ জিল্লুর রহমানের উপস্থিতিতে কর্মকর্তা জাকির “চিল্লাইতেছে কেন, আমরা মানুষ না। থাপড়াইয়া দাঁত ফালাইয়া দিমু” বলেন বলে জানা যায়।

কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন আচরণে ক্ষোভ জানিয়ে শিক্ষক সমিতির অর্থ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক মো. মুর্শেদ রায়হান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “উপাচার্য লালন করছে এক্স স্টুডেন্ট। ভিসি কক্ষ তার দুর্গ। ক্যাডার বাহিনী: প্রক্টরিয়াল বডি, কতিপয় কর্মচারী-কর্মকর্তা, অছাত্র ছাত্র! সন্ত্রাসী দিয়ে শিক্ষক হামলা। শিক্ষকরা কি কথা বলতে পারবে না?”

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদেরকে ‘হু আর ইউ’ বলেছে, অপমান করেছে, হত্যা করার চেষ্টা করেছে এর বিচার যতদিন না হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কর্মকর্তা চলতে পারে না। একজন কর্মচারী কেন এখানে এসে একজন শিক্ষককে বলে ‘হু আর ইউ’। আমরা এখানে এসেছি উপাচার্য স্যারের সাথে আলোচনা করার জন্য। তারা আমাদের সাথে এইরকম ব্যবহার করতে পারে তারা আমাদেরকে যে কোন কিছু করতে পারে।”

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জানান, আমরা উপাচার্যের দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে আসলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে কর্মকর্তা এবং অছাত্ররা দফায় দফায় আমাদের উপর হামলা করেন। উপাচার্যের কাছে আমরা নিরাপত্তার দাবী জানালে তিনি জানান, আপনারা যতক্ষণ থাকবেন তারা এভাবে হামলা করবে। পরবর্তীতে উপাচার্য আমাদের রেখে চলে যান। এখন বিষয়টি পরিস্কার যে, প্রশাসনের কাছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেউই নিরাপদ নয়।"

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং এই ঘটনার পিছনে প্রক্টর ও উপাচার্য দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, “ভিসি দপ্তরে হট্টগোল হয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি সেটা সমাধানের চেষ্টা করেছি।”

অছাত্ররা ভিসি দপ্তরে এসে ঝামেলা করতে পারে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখানে কেউ অছাত্র আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা যদি কারো বিরুদ্ধে অছাত্রের অভিযোগ পাই আমরা ব্যবস্থা নিবো। আর এখানে যারা আছে তারা অনেকে সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তারা এখানে যে পরিস্থিতি, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তারা আসতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যে ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেন নি।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড