• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাকি না দেওয়ায় দোকানীকে মারধর করলো ছাত্রলীগ নেতা

  জাবি প্রতিনিধি

০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৩:৩৮
ছাত্রলীগ নেতা

হোটেলে খাবার শেষে টাকা চাওয়ায় দোকানীকে মারধর করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা। রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকার সিংগাইর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দোকানী মো. আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে খাবার বিক্রি করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আল রাজী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ৪৫তম ব্যাচের আবাসিক ছাত্র এবং শাখা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সিংগাইর হোটেলে খাবার খেতে যান অভিযুক্ত আল রাজী। খাবার শেষে ক্যাশ টাকা না থাকায় পরে দিতে চাইলে দোকানী বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা জানান, তার কাছে ক্যাশ টাকা নেই মোবাইল ব্যাংকিং নগদে তিনি দিতে পারবেন। পরে দোকানী জানান তার নগদ একাউন্ট নেই বিকাশ একাউন্ট আছে। এ সময় দোকানে খাবার খেতে বসা অন্য একজন ক্রেতা জানান তার নগদ একাউন্ট রয়েছে তাতে টাকা পাঠালে তিনি দোকানদারকে ক্যাশ টাকা দিয়ে দেবেন। এক পর্যায়ে আল রাজী পাওনা টাকা নগদ একাউন্টে পাঠানোর পরই চড়াও হয়ে দোকানদারকে মারধর করেন। পরে দোকানে থাকা আরও দুই ছাত্রলীগের কর্মী এবং ক্রেতারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

ভুক্তভোগী দোকানদার আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দোকান বন্ধ ছিল। আমার দোকানেও খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনুরোধে আমি খাবার রান্না করি। ওই শিক্ষার্থী (অভিযুক্ত) খিচুড়ি এবং লটপটি খেয়েছিলেন। যার দাম আসে ১২০ টাকা। পরে তার কাছে ক্যাশ টাকা নেই নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা দেবেন বলে জানান। আমি তখন বলি আমার শুধু বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে। পরে পাশ থেকে আরেক ক্রেতা বলেন তার একাউন্টে টাকা পাঠালে তিনি আমাকে ক্যাশ টাকা দিয়ে দেবেন। ওই ক্রেতার নাম্বারে টাকা পাঠিয়েই একজন (আল রাজী) আমাকে মারধর করেন। এর আগেও ওই ছাত্র আমার দোকানে খাবার নিয়ে টাকা দেয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই দোকানদার বলেন, যে আমাকে মারধর করেছে সে আমার ছেলের বয়সী। এই বুড়া বয়সে সে আমার শিক্ষিত স্ত্রীর সামনে মারধর করলো। আমার স্ত্রীকেও সে ধমকিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আল রাজী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি খাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করেছিলাম। দোকানির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল তবে আমি মারধর করিনি। তার হয়ত মানসিক সমস্যা আছে এজন্য এসব কথা বলেছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, এ ঘটনা আমার জানা নেই। যদি কেউ এমন করে থাকে তবে সেটা কাম্য নয়।

আল রাজী সরকারের এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ এর জুলাই মাসে জাবির পাশের রাঙামাটি এলাকা থেকে স্থানীয় এক মাদক কারবারিকে তুলে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন এই আল রাজী সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর জামাতাকে মারধর, ছিনতাই ও তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে অন্যতম অভিযুক্ত আল রাজি সরকারকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড