• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

মধ্যরাতে শীতার্তদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী

  হাসান তামিম, নগর প্রতিবেদক

২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৪৪
শীতবস্ত্র

রাজধানীর অলিগলি ও পথে ঘাটে শীতের তীব্রতায় কষ্ট পাওয়া অসহায় মানুষজনের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন ঢাকা কলেজের এক ছাত্রলীগ কর্মী। তার নাম মুহাম্মদ আনজির হুসাইন। মধ্যরাতে শীতবস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। ব্যক্তি উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল, অসহায় মানুষেদের জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেন। তিনদিনে সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, পান্থপথ, গ্রীণরোড, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আজিমপুর, কলাবাগান, পলাশী সহ আশেপাশের এলাকার তিনশতাধিক ছিন্নমূল মানুষের কাছে কম্বল ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে রিকশায়, ভ্যানগাড়িতে শুয়ে থাকা মানুষজন, পথশিশু, ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষ ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন। সেসময় আশেপাশের অন্যান্য অসহায় মানুষজনও সাহায্যের জন্য আসলে তাদের হাতেও কম্বল তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় অনেকেই জড়িয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আনজিরকে জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

গ্রীনরোড এলাকায় আব্দুস সোবহান নামের এক ভ্যান চালক বলেন, আমরা অসহায় গরিব মানুষ। কাজ না করলে পেটে ভাত পড়েনা। ঢাকা শহরে এই ভ্যানগাড়িটিই আমার একমাত্র সম্বল। ভোরে কারওয়ান বাজার চলে যাব। সেখানে থেকে সবজি নিয়ে বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিবো। সেই ভাড়ার টাকাতেই আমার পরিবারের সদস্যদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। আবার দেরি করে গেলে কারওয়ান বাজার থেকে ক্ষেপ পাওয়া যায় না। তাই রাতে বাড়িতে থাকিনা। আগেভাগে ভ্যানগাড়ি নিয়ে আশেপাশের ফুটপাতে শুয়ে থাকি। গরমের দিনে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু শীতের রাতে খুব কষ্ট হয়। তাছাড়া এবছর শীতের মাত্রা অনেক বেশি। মানুষজনও রাতে বের হচ্ছেনা। দিনেরবেলা অনেকেই আয়োজন করে কম্বল দেয় সেটা আমরা পাইনা। রাতের বেলা ঘুরে ঘুরে মানুষকে সাহায্য করছেন এতেই আসলেই যাদের শীতবস্ত্র দরকার তারাই উপকৃত হবে।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে বসে রাতের খাবার খেতে দেখা যায় আব্দুর রশিদ নামের এক বৃদ্ধকে। গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিতেই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, এবারের শীতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন রোদে থেকে শীতের কষ্ট নিবারণ করা যাচ্ছে৷ কিন্তু রাত হলেই কষ্ট বেড়ে যায়। যারা শক্ত সামর্থ্যবান তারা বিভিন্ন সময়ে বড় সাহেবরা যখন আসেন সামনে গিয়ে কম্বল নিয়ে নেয়। আমি পাইনা। গতবছরের একটা কম্বল ছিলো। সেটা মাটিতে বিছিয়ে পুরনো কাপড় গায়ে জড়িয়ে কোনরকমে রাত কাটাই। হাতে হাতে কম্বল পৌঁছে দিলে খুবই আনন্দ লাগে।

ফরিদা খাতুন নামের আরেক বৃদ্ধ বলেন, এইবছর শীত বেশি অথচ মানুষের সাহায্য কম। অন্যান্য বছর তো একটা কম্বলেই শীত চলে গেছে কিন্তু এই বছর সেটি হচ্ছে না। আর যারা সাহায্য আমরা পাচ্ছি না। একজায়গায় না দিয়ে এরকম করে ঘুরে যদি সবাই দেয় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

অপরদিকে শীতের সময় জুড়ে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান ছাত্রলীগ কর্মী মুহাম্মদ আনজির হুসাইন।তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে মানুষের পাশে প্রথম যে সংগঠনটি প্রথম দাঁড়ায় তার নাম ছাত্রলীগ। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ভাইয়ের নির্দেশনায়

শীতের শুরু থেকেই আমরা ঢাকা কলেজ ও তার আশপাশের এলাকার অসহায় মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী হিসেবে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। গত কয়েকদিন ধরেই শীতের প্রকোপ যেহেতু বেড়েছে তাই দ আবারো সপ্তাহব্যাপী নতুন করে কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, পুরো শীতের মৌসুম জুড়েই আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমরা জানি এই একটিমাত্র কম্বল তাদের শীত নিবারণ করতে পারবেনা। কিন্তু এরকম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলে হয়তো অন্যান্যরাও এগিয়ে আসবেন। তাতে করে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড