• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাবিতে জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব প্রদানে সেমিনার অনুষ্ঠিত

  রাবি প্রতিনিধি

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৫৮
রাবিতে জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব প্রদানে সেমিনার অনুষ্ঠিত
সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘আইন চর্চা ও আইনের শাসন : মানবাধিকার সুরক্ষা জনঅধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও আইন বিভাগের যৌথ আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার একটি নীতির দুটি দিক। তাই আইনের শাসন ও মানবাধিকারের মধ্যে একটি অবিভাজ্য ও অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকেই এই অন্তর্নিহিত সম্পর্কটি সদস্যরাষ্ট্রগুলো দ্বারা সম্পূর্ণ রূপে স্বীকৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে বলা হয়, যেহেতু মানুষ যাতে অত্যাচার ও উৎপীড়নের মুখে সর্বশেষ উপায় হিসেবে বিদ্রোহ করতে বাধ্য না হয়; সে জন্য আইনের শাসন দ্বারা মানবাধিকার সংরক্ষণ করা অতি প্রয়োজনীয়। অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইনের শাসন দ্বারা মানবাধিকার রক্ষা করা উচিত। সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে'।

তার মতে, সুতরাং এদেশে আইনের চর্চা ও আইনের শাসনের ভিত্তি আমাদের সংবিধান। বাংলাদেশে এই আইন চর্চা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সুদূরপ্রসারী নই। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে আমি মনে করি বাংলাদেশ অগ্রগামী।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, সদ্য মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের লক্ষ শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনের স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, সমতা ভিত্তিক ও ন্যায় বিচার সম্পন্ন একটি সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত করা।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন সবাই নামমাত্র বঙ্গবন্ধুর কথা বলি। কিন্তু আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের কোটি ভাগের এক ভাগ মানতাম তাহলে আজকের বাংলাদেশে কোনো অসাম্য থাকতো না ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন হতো না।

এ সময় আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র ছিলেন। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে তার কন্যা কোনো থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ইন্দেমনিটি নামক আইনের মাধ্যমে বিচারের পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে সংবিধানকে ধারণ করে আইনের সকল প্রতিবন্ধকতার শিকড়কে উপড়ে ফেলে আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মেহজাবিন কথার সঞ্চালনায় সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভাগরে শিক্ষকসহ প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড