• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট (এনপিআই)-এর প্লট রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:২৮
ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট (এনপিআই)-এর প্লট রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট (এনপিআই)-এর প্লট রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট (এনপিআই)-এর প্লট রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এনপিআই এর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ, তার সহোদর মো. আব্দুল আলিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

তাদের বক্তব্য, আমি আব্দুল আজিজ, আমার সহোদর মো. আব্দুল আলিম দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে দেশের কর্মসংস্থান তৈরিতে এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে ভূমিকা পালন করে আসছি। আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রিজ, এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, মিডিয়া তালিকাভুক্ত প্রিন্ট গণমাধ্যম, অটোমোবাইল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখছি। সেইসাথে নিয়ম মেনে রাষ্ট্রিয় কোষাগারে আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাক্তিগত আয়ের উপর আমরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা ট্যাক্স হিসেবে জমা দিচ্ছি।

আমাদের বহু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট (এনপিআই) একটি প্রতিষ্ঠান যা দেশে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। এনপিআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে তা রাজধানীর মহাখালীতে ভাড়া বাসা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল, কিন্তু করোনা মহামারীর লকডাউনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সর্ব সিদ্ধান্তক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির লক্ষ্যে প্লট ক্রয়ের টাকা পরিশোধ করে দ্রুত সেখানে ভবন নির্মাণ করেও প্লটের রেজিষ্ট্রি ও দলিল বুঝে না পাওয়ায় হয়রানির শিকার এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন হুমকিতে পড়েছে।

ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট (এনপিআই) প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিচিত হয়ে মোঃ সালাহ উদ্দিন (জাতীয় পরিচয় নং- ১৪৫৩৩৭৬৭৬৪, পিতা- মোঃ জহির উদ্দিন, মাতা- আমির জান, সাং- বাসা নং-২১, রাস্তা নং- ৪, ব্লক- এফ, ডাকঘর- খিলগাঁও-১২১৯, থানা- খিলগাঁও, জেলা- ঢাকা, এবং বর্তমান ঠিকানা: সেক্টর :২০, রোড: ৪০১/বি এর মাদ্রাসা সংলগ্ন ভবন) এর নিকট থেকে সেক্টর-২০, রোড- ৪০১/বি,০৯,১১,১২, ০১৪ নং প্লট এবং সেক্টর-২০, রোড- ৪০১/সি এর প্লট নম্বর : ১২ সহ অন্যান্য প্লট‌ ক্রয় এবং বিক্রয় নিয়ে আমাদের চুক্তিপত্র সাক্ষর হয়।

সেই মোতাবেক সালাউদ্দিন গং প্লট বিক্রয় বাবদ আমাদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করে বায়না স্ট্যাম্প দলিল মূলে সালাউদ্দিন আমাদেরকে রাজউকের ২০ নং সেক্টরের ৪০১/বি রাস্তার ১৪ নং প্লট নকশা অনুমোদনসহ প্লটের দখল বুঝিয়ে দেয় এবং উক্ত প্লটে আমরা‌ নিজ খরচে স্হাপনা নির্মাণ করে বর্তমানে উক্ত প্লটে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান অবস্হায় দখলরত রয়েছি। কিন্তু দু:খের বিষয় সালাউদ্দিন গং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সময়ে আমাদের নিকট থেকে রাজউক থেকে বরাদ্দকৃত প্লট এবং জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্লট এবং জমি বিক্রয় বাবদ গত ১২/৩/২০২০ ইং থেকে ২৬/০১/২০২১ ইং তারিখের মধ্যে ব্যাংক চেক, ব্যাংক ডিপোজিট, পে অর্ডারের মাধ্যমে এবং নগদ আমাদের নিকট থেকে মোঃ সালাউদ্দিন মোট ৭৭,৫৮৯,৮২০ (সাত কোটি পঁচাত্তর লাখ ঊননব্বই হাজার আটশত কুড়ি টাকা গ্রহণ করেছেন (সালাউদ্দিনকে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকার প্রদানের কপি সংযুক্ত)। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন নাই। যেহেতু তারা জমির পজিশন বুঝিয়ে দিয়েছে, সেজন্য আমরা সরল বিশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকি।

এই অবস্থায় আমরা স্থানীয়ভাবে ও লোকমুখে জানতে পারি, মোঃ সালাউদ্দিন মোটেও স্বচ্ছ চরিত্রের অধিকারী না এবং তিনি বিভিন্নসময় বিভিন্নজনের কাছ থেকে জমির দালালি, জমির দখল বাবদ অর্থ আত্মসাত/জালিয়াতি ও নানা বেআইনি কার্যক্রম এর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত বলে অভিযুক্ত। বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় মুরব্বি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আমরা কথা বলে তার অস্বচ্ছ নানা কর্মকাণ্ড সর্ম্পকে জানতে পেরেছি। এগুলো জেনে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জমির ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। এবিষয়ে তাকে একাধিকবার তাগাদা দেয়ার পর সে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে তালবাহানা করতে থাকে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত উক্ত প্লটগুলোতে আমাদের ভবন নির্মাণ বাবদ বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে মোট ১৭০০০০০০/ এক কোটি সত্তর লাখ টাকা প্রদান করতে হয়েছে। সর্বমোট ৯৪৫৮৯৮২০/= (নয় কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ উনানব্বই হাজার আটশত কুড়ি ) টাকা ভবন নির্মাণ খরচসহ ব্যয় করার পর সালাউদ্দিন উক্ত জমি এবং প্লট রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিবর্তে আমাদেরকে এই প্লটগুলো থেকে উৎখাত করার জন্য পায়তাড়া শুরু করে। উল্টো সে বিন্দু পরিমাণ দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার প্লট‌ দখলের মিথ্যা‌ অভিযোগ উঠিয়ে আমাদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করে আমাদের সম্মানহানির চেষ্টা করছে। এখানে উল্লেখ্য না করলেই নয়, দালিলিক প্রমাণ অনুযায়ী রাজউক থেকে আবাসিক প্লট হিসেবে বরাদ্দকৃত ২০ নম্বর সেক্টরের ২১৭/বি রোডের মোঃ জয়নাল হক গং এর ১৪ এবং ১৫ নম্বর প্লট সালাউদ্দিন গং ভয় ভীতি প্রদর্শন করে মাদ্রাসার সাইনবোর্ডের আড়ালে জোর পূর্বক দখল করে সালাউদ্দিন গং বসতি হিসেবে ব্যবহার করছে (রাজউক কর্তৃক ১৪ এবং ১৫ নং আবাসিক প্লট বরাদ্দের কপি এবং রাজউক এর ম্যাপ সংযুক্ত)।

উপরে উল্লেখিত প্লটগুলো যেহেতু একাধিক পক্ষের সেজন্য আমরা কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি সেইসব মালিকের নামে পে-অর্ডার দিয়েছি এবং তার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সালাউদ্দিন গং থাকায় সেখানেও নানা নয়-ছয় করেছে তারা। যেহেতু রাজউকের এলাকায় কোন প্লট ক্রয় এবং বিক্রয়ের পূর্বে রাজউক থেকে বিক্রয় অনুমোদন নিতে হয় এবং এই প্রক্রিয়া একটু সময় সাপেক্ষ। এই সুযোগটি মোঃ সালাউদ্দিন কাজে লাগিয়ে আমাদের হয়রানি করেছে এবং আমরা বর্তমানে প্রতারিত হয়েছি মর্মে উপলব্ধি করছি।

যেহেতু সালাউদ্দিন গং'র হাতে আমাদের দেয়া জমি বাবদ কয়েক কোটি টাকা আছে, সালাউদ্দিন গং সেই টাকা নানাভাবে অপব্যবহার করে আমাদের মানহানিকর নানা কাজে লিপ্ত আছে এবং টাকার জোরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের ক্যাম্পাসের জমি নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে আসছে বলে আমাদের মনে হওয়ায় আমরা আদালতের দারস্থ হয়েছি।

জমি কেনা বাবদ টাকার বিপরীতে জামানত বাবদ সালাউদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে যেই পরিমান টাকা দিয়েছি, সেই পরিমান টাকার বিপরীতে উক্ত টাকা পরিশোধের জন্য সালাউদ্দিন উক্ত আমাদের প্রদেয় টাকার জামানত বাবদ আমাদেরকে আমাদের প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট স্কুল এর নামে ব্যাংক চেক প্রদান করেছিলো (চেকের কপি সংযুক্ত)। এছাড়া সালাউদ্দিনের ব্যাংক একাউন্টে ব্যাংক ডিপোজিট এবং প্লটের মালিক রফিকুল ইসলাম কে আমরা প্লটের মূল্য বাবদ ২৫ লাখ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে‌ পরিশোধের পর পূর্বাচল ২০ নম্বর সেক্টরের ৪০১/বি রোডের ১৪ নম্বর প্লটের মালিক রফিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে আমাদের নামে প্লট রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার কথা থাকলেও মোঃ সালাউদ্দিন গোপনে নিজের নামে প্লট রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছে! সালাউদ্দিন আমাদের নিকট থেকে টাকা আত্মসাৎ করে উক্ত জমি আমাদেরকে রেজিষ্ট্রি করার ব্যবস্হা না করে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার পর এতদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিল।

আমরা সালাউদ্দিনকে জমি ক্রয় বাবদ টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই বিষয়ে সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে এনআই এক্ট আইনে এবং বিভিন্ন আইনের বিভিন্ন ধারায় আদালতে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছি। আত্মগোপনে থাকা সালাউদ্দিন হঠাৎ বিদেশ থেকে দেশে এসে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে আমাদের দায়ের করা মামলাকে দূর্বল করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এবং টাকা ব্যবহার করে আমাদেরকে হয়রানি করে মানষিকভাবে দূর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আদালতে আমাদের সকল কাগজ দাখিল করার পর মহামান্য আদালত সালাউদ্দিনের মিথ্যা মামলা সম্পূর্ণরুপে খারিজ করে দিয়েছে (কপি সংযুক্ত)। সালাউদ্দিন আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে কোন সুবিধা না করতে পেরে সালাউদ্দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের ‌নামে সর্বদা মিথ্যা তথ্য প্রদান করে আমাদের সামাজিক মানসম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

কিন্তু আমাদের দায়ের করা মামলায় সালাউদ্দিনের নামে বর্তমানে ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে এবং আদালতে দায়ের করা আমাদের মামলার পক্ষে আদালত একটি আদেশ দিয়েছে এবং আমাদের অন্যান্য মামলা চলমান রয়েছে। আমাদের দায়ের করা মামলায় সালাউদ্দিন আদালতে জামিন না নিয়ে, পলাতক হিসেবে আত্মগোপনে রয়েছে! আমরা আইন এবং আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

প্রকৃতপক্ষে সালাউদ্দিন গংয়ের প্রতারণাসদৃশ আচরণের মাধ্যমে আমাদেরকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সালাউদ্দিন সামাজিকভাবে আমাদের সম্মান এবং মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের নিকট সালাউদ্দিন প্লট বিক্রি নাম করে প্লট বাবদ টাকা গ্রহণ করেছে, কিন্তু প্লট রেজিস্ট্রেশন না করে দিয়ে, মোঃ সালাউদ্দিন প্রতিনিয়ত আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। আমরা যেন ভয় পেয়ে এবং মানসম্মানের ভয়ে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেন সালাউদ্দিনের সাথে আপোষ মিমাংসা করে ফেলি।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, মোঃ সালাউদ্দিন এই ধরনের ঘটনা শুধু আমাদের সাথেই ঘটায় নাই! আমাদের পার্শ্ববর্তী পূর্বাচল ২০ নম্বর সেক্টরের ২১৭/বি রোডের ১৪ নম্বার এবং ১৫ নম্বার প্লট আদিবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে রাজউক‌ থেকে বরাদ্দকৃত ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্লট মাদ্রাসার‌ সাইনবোর্ডের আড়ালে জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে(দালিলিক কাগজ সংযুক্ত)! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জহিরউদ্দিন গং ২১৭/বি রোডের ১৪ নম্বার এবং ১৫ নম্বার প্লটের মালিক না! এই প্লট দুটির মালিক আদিবাসী হিসেবে দুইজন ভদ্রলোক এখানে দুইটা প্লট বরাদ্দ পেয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের ভয় ভীতি প্রদর্শন পূর্বক দুইটা প্লট মাদ্রাসার সাইনবোর্ডের আড়ালে দখল করে রেখেছে। প্লটের মালিকদের উক্ত প্লটে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না! উল্লেখিত এই দুইটি প্লটের রাজউক থেকে বরাদ্দকৃত চিঠি হাতে থাকার পরও সালাউদ্দিন গং দের প্লটের মালিকরা নিজেদের প্লটে যেতে পারছে না!

গত ৬ জুলাই ২০২২ ইং তারিখে পূর্বাচলের হেলিপ্যাড চত্বরে এই মোঃ সালাহ উদ্দিন ও তার পিতা জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে স্থানীয় ভুক্তভোগীসহ সহস্রাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যাক্তিদের প্রায় সকলেরই বক্তব্যের সাধারণ বিষয় ছিল মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার জমি ভোগ-দখল করে নিজের বসতবাড়ি স্থাপন করে সালাহ উদ্দিন গং এক ঘৃণ্য অপরাধ করেছে। সমাজের নিরীহ মানুষদের ভয় দেখিয়ে প্লট দখল করারও অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এবং নিরুপায় হয়েই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। এই বিষয়ে জাতীয় অসংখ্য গনমাধ্যম প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সালাউদ্দিনের অপকর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে অসংখ্য রিপোর্ট প্রচারিত এবং প্রকাশিত হয়েছে (গণমাধ্যমের রিপোর্ট সংযুক্ত)।

সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে নিয়ে মোঃ সালাউদ্দিন "থ্রি ফিঙ্গারস এন্ড ডেভলপার্স লিমিটেড" নামে একটি নামধারী সাইনবোর্ড কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করে এবং উক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সালাউদ্দিন উক্ত কোম্পানির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে কোম্পানি স্হায়ীভাবে জয়েন্ট স্টক থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। এই কোম্পানির সকল কার্যক্রম বন্ধ করার পূর্বে মোঃ সালাউদ্দিন স্বপ্ন কুঞ্জ হাউজিং এন্ড ডেভলপার্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এর সাথে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের বায়না নামা দলিল নং:১৪৫৭৫, ভলিয়ম নম্বর:৫৯৯/১৬, তারিখ : ১৭/১০/২০১৬ খ্রি: এর মাধ্যমে এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু সালাউদ্দিন তরিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে বায়না বাবদ টাকা গ্রহন করে জমি রেজিস্ট্রি না করে দিয়ে জটিলতা তৈরি করে । তরিকুল এই বিষয়ে আদালতে সালাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলা চলমান থাকা অবস্থায় উক্ত মামলার কথা এবং এই জমি সাব রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করার কথা গোপন রেখে সাবকাবলা দলিল মূলে আমাদের নিকট বিক্রি করে এই ১০২ শতাংশ জমির মূল্য বাবদ আমাদের নিকট থেকে নগদ ৩৭,০৩৯,৮২০ (তিন কোটি সত্তর লাখ ঊনচল্লিশ হাজার আটশত কুড়ি) টাকা গ্রহন করেছে। এরকম বহু বিষয়ের জন্ম দিয়েছে সালাউদ্দিন গং। আপনারা আপনাদের সাংবাদিকতা পেশার জ্ঞান ও যোগাযোগ দিয়ে বিষয়গুলো তদন্ত করলে তা আরও পরিষ্কার হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় এবং ইন্ধনে সন্ত্রাসী টাইপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের পরিবহনের কাজে নিয়োজিত বাসগুলোতে ভাংচুর করেছে। সম্প্রতি সালাউদ্দিন গং অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের পূর্বাচল প্লটে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে কালো কাপড় দিয়ে‌ ক্যামেরা ঢেকে দিয়েছে! এই বিষয়ে আমরা এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের সকলে আতংকিত ! আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীসহ অফিস স্টাফ যারা রাতে ঐখানে অবস্থান করছে তাদের ভবন স্হায়ীভাবে ত্যাগ করার জন্য রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন সময় সালাউদ্দিন গং প্রাননাশের হুমকি প্রদান করেছে এবং আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করে হেনাস্তা করার বিষয়ে হুমকি দিচ্ছে! সালাউদ্দিনের নিকট থেকে ক্রয়কৃত পূর্বাচলে আমাদের ভবন থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠান সড়িয়ে না নিলে উক্ত ভবনে থাকা সকলের প্রাননাশের হুমকি দিয়ে গেছে সালাহ উদ্দিনের নিয়োজিত সন্ত্রাসীরা।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ২/০৯/২০২১ তারিখে সালাহ উদ্দিনের ভাই রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্রসহ পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক এলাকার সেক্টর-২০, রোড- ৪০১/বি, ০১৪ নং প্লটে নির্মাণাধীন ন্যাশনাল প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট (NPI) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। সেখানে আমাদের অফিসের স্টাফদের মারধর ও লুটপাট করে এবং প্রতিষ্ঠানটির স্টাফদেরকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, এক পর্যায়ে স্থানীয় জনতা, আমরা এবং আমাদের লোকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে ৯৯৯ এ ফোন দিলে রুপগঞ্জ থানার একাধিক টিম এসে আমাদের উপস্হিতিতে লোকজনকে উদ্ধার করে। যার পরিপেক্ষিতে আমরা রুপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি।

অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, আমরা আগেই বলেছি, আমরা দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি পথে বিষয়গুলোকে সমাধানের চেষ্টা করতে করতে আমরা ক্লান্ত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কিন্তু হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা এখনও আইনি পথেই আছি। বর্তমানে সালাহ উদ্দিন গং একাধিকবার আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে আমরা আমাদের পাওনা দাবি ছেড়ে দেই এবং সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সকল মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদেরকে প্রতিনিয়ত চাপ এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মোঃ সালাউদ্দিনের হুমকিতে আমরা মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে মোঃ সালাউদ্দিন আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে আমাদের নামে অপপ্রচার চালানোর কৌশল বেঁছে নিয়ে আমাদের সন্মানহানি করছে।

বর্তমানে আমাদের কাছে বিক্রি করা জমিগুলো ওয়াকফের জমি ও সেগুলো মসজিদ-মাদ্রাসার বলে উল্লেখ করে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আসছে। যা করে সে আমাদের সামাজিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে। যেহেতু আমরা সালাউদ্দিন গংকে প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি বলে আশঙ্কা করছি । সালাউদ্দিনকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্লট ক্রয় বাবদ টাকা প্রদানের বিপরীতে সেই সময় সালাউদ্দিন‌ আমাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্লট রেজিস্ট্রেশন করার পূর্বে উক্ত প্লটের দখল প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠানের স্হাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বুঝিয়ে দিয়েছিলো । এছাড়া‌ মোঃ সালাউদ্দিন একটি জমি সাব কাবলা দিয়েছে , কিন্তু সেই জমি পূর্বে আরেকজনের নিকট বিক্রি করেছে! তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে‌ আইনের আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সালাউদ্দিন গং এর মিথ্যা অভিযোগের পরিপেক্ষিতে আমি এবং আমাদের সামাজিক সন্মান নষ্ট হচ্ছে এবং মোঃ সালাউদ্দিন আমাদের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে‌ নিয়ে আমাদেরকে মিথ্যা আইনী ঝামেলায় জড়ানোর বিষয়ে এবং গনমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার বিষয়ে আমরা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছি। সেইসাথে হাজার হাজর শিক্ষার্থীর প্রিয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষা জীবনে যে প্রতারণার অন্ধকার নেমে এসেছে তা নিয়েও আমরা চিন্তিত রয়েছি।

উপরোক্ত বিষয়ে আরও বহু তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা এই স্বল্পসময়ের সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা সময় সাপেক্ষ। কাজেই এই বিষয়ে আরও কোনো প্রশ্ন ও প্রমাণের দরকার হলে শুধুমাত্র সঠিক সাংবাদিকতার খাতিরে আমরা পেশ করতে প্রস্তুত আছি। বিষয়গুলো যেহেতু এখন আদালতে বিচারাধীন, সেগুলোর যতটুকু পাবলিক তথ্য আছে তাও শেয়ার করতে প্রস্তুত আমরা। সেইসাথে আমরা আপনাদের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের সাহায্য প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও ন্যায্য বিচার আশা করছি। সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচার পেতে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আগামী (১ সেপ্টেম্বর,২০২২) সকাল ১১ টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।অনুষ্ঠানটি কাভারেজের জন্য সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক রিপোর্টার/ক্যামেরাম্যান/ফটোগ্রাফার প্রেরণের জন্য এডিটর/নিউজ এডিটর/চীফ রিপোর্টার বরাবর বিনীত অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড