• রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সর্বোচ্চ ২০ ক্রেডিট মানোন্নয়ন পরীক্ষার সিদ্ধান্তে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

  মোহাম্মদ রায়হান, সরকারি তিতুমীর কলেজ:

১৯ জুলাই ২০২২, ২২:৪৯
অসন্তোষ

সদ্যই শেষ হলো সাত কলেজের ইদের ছুটি। ছুটি কাটিয়েই স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণের নোটিশ হাতে পেল শিক্ষার্থীরা। নোটিশ প্রকাশের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ৪ বছরের অনার্স কোর্সে সর্বোচ্চ ২০ ক্রেডিট ইমপ্রুভ পরীক্ষা দিতে পারার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেছে তীব্র অসন্তোষ।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক(সম্মান) শ্রেনীর ২য় ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে মান উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে 'একজন শিক্ষার্থী ১ম থেকে ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ ক্রেডিট মানউন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবে'। এমন নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই নির্দেশনা শিক্ষার্থীবান্ধব নয়, অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত এবং অবিচার বলে দাবি তুলেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাতিল হোক। এমন নিয়ম চালু করতেই হলে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য করার দাবিও তুলছে শিক্ষার্থীরা।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোঃ বাহালুল হক চৌধুরীর ফরম পূরণ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টে শিক্ষার্থীরা নানা ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডেন মহিলা কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী উষ্মা প্রকাশ করে দৈনিক অধিকারকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি নেয়া সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক । আমি নিজের অবস্থান থেকে বলছি, এখন আমরা ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। আমি গত বছর ৩য় বর্ষে থাকাকালীন ২য় বর্ষের ৩ টি বিষয়ে ইমপ্রুভ পরীক্ষা দিয়েছিলাম এখন এই শর্ত অনুযায়ী আমার হাতে আর মাত্র ২ টি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু আমার আরও বেশ কিছু বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া অত্যাবশ্যক। এই নিয়ম যদি করারই হয় যারা সদ্য ভর্তি হওয়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করুক। বাকিদের এখন এই অবস্থায় এনে ভোগান্তির সাগরে ফেলার কোন মানে আছে কি!

সুরাইয়া বিশ্বাস নামের সরকারি বাঙলা কলেজের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত আমি কোনো বিষয়ে ফেইল করি নাই। আমার সিজিপিএ ২.৯১ যেখানে আমার ৩য় বর্ষের জিপিএ মাত্র ২.৬১। আমি ৩ টা বিষয়ে ইমপ্রুভ দিলে ইনশাল্লাহ ফার্স্ট ক্লাস পেতে পারি। কিন্তু ইতোমধ্যেই আমি ১৬ ক্রেডিটের মানোন্নয়ন পরিক্ষা দিয়েছি। এখন কিভাবে ফার্স্ট ক্লাস আসবে তা নিয়ে টেনশনে পরে গেছি। অথচ আমি ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করতেছি। আমার মত আরো অনেকে ২০ ক্রেডিটের পরিক্ষা দিয়ে ফেলছে তাদের কি হবে। এমন সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া উচিত ছিল। শেষ বর্ষে এসে কেনো। ১ম বর্ষ থেকে করলে আমরা ভেবে চিন্তে মানোন্নয়ন পরিক্ষা দিতাম।

তবে, এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোঃ বাহালুল হক চৌধুরী কে একাধিক বার কল করেও ফোনে পাওয়া যায় নি।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড