• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গবিতে সেমিস্টার ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  গবি প্রতিনিধি

০৩ মে ২০২২, ১৭:০৮
গণ বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি: সংগৃহীত)

ইদের ছুটির আগে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ছয়টি বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ফি ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে গবি প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস. তাসাদ্দেক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস, ফার্মেসী, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি), কম্পিউটার সায়েন্স আ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইংরেজি ও আইন বিভাগের পুনঃনির্ধারিত ফি জানানো হয়। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত কিংবা সেবার মানের কোনো উন্নতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ফি বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের প্রতি এক রকম অন্যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বাস্তবতার নিরিখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মোহতাসিম লস্কর হৃদয় লিখেছেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া নেই, পর্যাপ্ত বাস নেই। এসব নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে।'

ফার্মেসী বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী পবিত্র কুমার শীলের মন্তব্য, 'গরিব মানুষের কথা ভেবেই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাঙালি জাতির ক্রান্তিলগ্নের বীর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্যারের স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেনাবেচার বাজারে রুপান্তর করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এমনটা চলতে থাকলে গরিব মানুষদের একটা ভরসায় আঘাত করা হবে। ফলে আমি চাই ফি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হোক।'

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. সুজন রানা ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, 'আগের চেয়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে। তবুও কিছু শিক্ষক নিজেদের পকেট ভরতে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এটা কোনভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত হতে পারে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।'

তবে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। ফি বৃদ্ধির বিষয়ে ফার্মেসীর আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘যোগ্য শিক্ষক বাড়ানো হোক। একইসঙ্গে তাদের সম্মানটাও যেন দেখা হয়। তাতে ফি বাড়লে সমস্যা নাই।’

এদিকে মেডিক্যাল কলেজের ফান্ড আলাদা হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বেড়েছে। তার প্রভাবে এই ফি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন জয়দেব বসাক নামক মেডিক্যালের সাবেক এক শিক্ষার্থী।

আরও বেশকিছু মন্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেকে অসন্তোষ হলেও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ফি বৃদ্ধিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন উল্লেখযোগ্য অংশ। তবে তাদের আশঙ্কা, এই ফি শেষ পর্যন্ত মূল উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য খাতে ব্যয় না হয়!

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস. তাসাদ্দেক আহমেদ বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থেকেই নিম্ন-মধ্যবিত্তের বিষয়টি মাথায় রেখেই ফি নির্ধারণ করেছে। বর্তমান সবকিছু বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে ফি কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের সুপারিশেই এটা করা হয়েছে। আমাদের মোট আসন সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক কম। এত কম আসন নিয়ে সবকিছু চালানো বেশ কঠিন। তবুও আমরা সাধ্যের মাঝে রাখার চেষ্টা করেছি।'

ওডি/কেএ

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড