• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

চিকিৎসার অভাবে কি নিভে যাবে মেধাবী শহিদুলের জীবন?

  শেরপুর প্রতিনিধি ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৩৩

শহিদুল ইসলাম
অসুস্থ শহিদুল ইসলাম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম (২৩)। তার দুইটি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। জীবন বাচাঁতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। একটি কিডনির ব্যবস্থা হলেও স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। এতো টাকা যোগাড় করতে গিয়ে তিনি হতাশায় পড়েছেন। 
শহিদুল ও তার পরিবার এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষির রানীগাঁও গ্রামের মোফাজ্জল আলীর ছোট ছেলে শহিদুল।

২০১০ সালে সন্ন্যাসীভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ২০১২ নাজমুল স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ২০১৩ সালে শহিদুল ঢাকা ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে শহিদুল তার খালাতো বোনরে সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। 

গত বছরের ৭ এপ্রিল হঠাৎ করে তার দুই পা ফুলে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে চিকিৎসকরা তার দুই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান। পরে  কিডনি ফাউন্ডেশনে ভর্তি হয়ে দেড় মাস চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তার সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। 

ভাগ্যক্রমে তার স্ত্রীর স্মৃতির সঙ্গে কিডনি মিল হওয়ায় শহিদুল তার (স্ত্রীর) কিডনি গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু এই কিডনি প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসা বাবদ তার প্রয়োজন প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা। 

এ ছাড়া ১৭ মাস ধরে চিকিৎসায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্ত কৃষক বাবার পক্ষে এতো টাকা যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শহিদুলকে বাঁচাতের তার বন্ধুরা তাকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিচ্ছেন। কিন্তু এ আর্থিক সহযোগিতা খুবই সামান্য। তাই শহিদুলকে বাঁচাতে বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান তার পরিবারের।

শহিদুলের বাবা মোফাজ্জল আলী বলেন, আমার আট ছেলে মেয়ের মধ্যে শহিদুলই সবার ছোট। সবাই যার যার মতো সংসার করেও আলাদা হয়ে গেছে। তবে এ পর্যন্ত শহিদুলের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। জায়গা-জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। আমি কৃষক হওয়ায় আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না তার চিকিৎসার চালানো। তাই সমাজের সকলের কাছে অনুরোধ করছি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

অসুস্থ শহিদুল বলেন, চিকিৎসক আমাকে একদমই পানি খেতে মানা করেছেন। সারা দিন রাতে হাফ লিটার পানি খেতে পারি। তাতে পিপাসা মিটে না। আমার অনেক কষ্ট হয়। সারাদিন গামছা ভিজিয়ে শরীর মুছি। আমি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখি। মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমি ভালো হয়ে যাবো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহিদুল।

অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনায়েত আলী বলেন, শহিদুল মেধাবী শিক্ষার্থী। তার চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের সেই সামর্থ নেই। যদি বৃত্তবানরা তার চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন তাহলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্ত সেই অর্থ একেবারেই সামান্য। আপনাদের সহযোগিতায় নতুন করে স্বপ্ন দেখবে শহীদুল এমনটাই মনে করছেন শহীদুলের পরিবার। 

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড