• সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এমপিআই শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন

স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে ডাস্টবিন

  কামরান আহমদ, এমপিআই প্রতিনিধি

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৯
ডাস্টবিন
পুরস্কার গ্রহণকালে শিল্টু দাস এবং তার উদ্ভাবিত স্বয়ংক্রিয় ডাস্টবিন (ছবি : অধিকার)

ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য আমরা ডাস্টবিন ব্যবহার করি। শহরাঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় সড়কে রাখা ডাস্টবিনে ঢাকনা সরিয়ে মানুষরা ডাস্ট রাখছেন। কিন্তু নতুন একটি ডাস্টবিন তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) শিক্ষার্থী শিল্টু দাস। তিনি সেটির নাম দিয়েছেন ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডাস্টবিন’।

এই ডাস্টবিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে। ময়লা আবর্জনা নিয়ে বিনের কাছে গেলে অটোমেটিক ঢাকনা খুলে যাবে এবং ময়লা ফেলার পর আবার ঢাকনা লেগে যাবে। এটির বিশেষ আরও একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ময়লা ভর্তি হওয়ার পর আর ঢাকনা খুলবে না এবং যিনি মালিক বা পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মুঠোফোনে ম্যাসেজ ও কল যাবে।

গত কয়েকদিন আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আয়োজনে ৪৩তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলায় মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শিল্টু দাসের এই প্রজেক্টটি ১ম স্থান অর্জন করে।

শিল্টু দাস পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ পর্বের ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কালাপাশা ইউনিয়নের হারুনী গ্রামে তার বাড়ি। শিল্টু সুপ্রভাত চন্দ্র দাসের ছেলে।

শিল্টু দাস অধিকারকে বলেন, আমি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে মৌলভীবাজার পৌর শহরের প্রতিনিয়তই আসতাম। পৌরসভার ডাস্টবিনগুলো আমার চোখে বাঁধত। দেখলাম বেশিরভাগ ডাস্টবিন ময়লা ভর্তি হয়ে উপচে নিচে পড়ে আছে। লোকজনও বাসার, দোকানের ময়লা নিচে ফেলে দিচ্ছে। যেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আবার, পথচারীরাও এইটার পাশ গেলে নাক চেপে যেতে হয়। প্রচুর গন্ধ বের হয়। অনেকেই দেখা যায় ময়লা ফেলতে চায় না হাতে ময়লা লাগতে পারে এই ভেবে। যেটার জন্য তারা ডাস্টবিনের ঢাকনা না তুলে ময়লা না ফেলে কিংবা পাশেই ময়লা রেখে দেয়। আবার আমরা প্রায়ই দেখি ডাস্টবিনের পাশের ময়লাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক সময়ে নিতে আসে না বা তারা বুঝেন না কখন ডাস্টবিন পূর্ণ হয়।

স্বয়ংক্রিয় ডাস্টবিনের উদ্ভাবক শিল্টু দাস বলেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্যই আমার এই প্রজেক্টটি তৈরি করা। আমার তৈরি এই ডাস্টবিনের সামনে ময়লা নিয়ে দাঁড়ালেই সে নিজে নিজেই ঢাকনা খুলে দিবে যার ফলে হাতে ময়লা লাগবে না। কেউই বিনের মধ্যে ময়লা ফেলতে দ্বিধাবোধ করবেন না।

আবার যখন ময়লা পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাস্টবিনের মালিক বা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার অফিসে কল যাবে এবং লোকেশন বলে দিবে। তারপর তারা ময়লার গাড়ি দিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিবে।

প্রজেক্টটি যাতে বাস্তবায়ন হয় এজন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবো বিষয়টি নিয়ে। ময়লা সংগ্রহের, পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিষ্কারের ক্ষেত্রে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডাস্টবিনটি অনেক কাজে দিবে।

মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের ইনস্ট্রাক্টর দেবাশীষ রায় বলেন, তাদেরকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা করেছি। আমরা চাই ভবিষ্যতে তারা আরও উন্নতি করুক। আমার বিশ্বাস তারা যদি ঠিকমত এটি নিয়ে কাজ করতে পারে এবং উপস্থাপনা করতে পারে সেক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে এটি ছড়িয়ে যাবে। কারণ এই প্রজেক্টটি দেশ ও জনগণের কাজে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।

উদ্ভাবনকারী শিক্ষার্থী শিল্টু দাস বলছেন, যেদিন এই প্রজেক্টটি বাস্তবে রূপ নিবে সেদিনই আমি সার্থক। কারণ কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি এই প্রজেক্টটি তৈরির জন্য আমি ২০২১ সাল থেকে কাজ করে আসছি।

ওডি/নিমি

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড