• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কুয়াশা উৎসব’

  জাককানইবি প্রতিনিধি

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:১১
কুয়াশা উৎসব
কুয়াশা উৎসব (ছবি : অধিকার)

‘প্রত্যাশার নব কহন, কুয়াশায় অবগাহন’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘কুয়াশা উৎসব’।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফানুস উড়িয়ে ২ দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

রঙ-বেরঙের লাইটের আলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ছিল আলোকোজ্জ্বল। একক কোনো মঞ্চ না থাকলেও মাঠজুড়ে একই সঙ্গে চলেছে বিভিন্ন আয়োজন, যার মধ্যে ছিল উদ্বোধনী মঞ্চ, বিবিএ মঞ্চ, লোকমঞ্চ, নজরুল মঞ্চ, আদিবাসী উঠান।

উৎসবের একদিকে কবিতা পাঠ, গানের আসর, নাচ, নাটক, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। মাঠজুড়ে বসেছে বিভিন্ন দোকান, ছিল মেলার অনুষঙ্গ নাগরদোলা। মাঠের এক অংশে আদিবাসী কর্নার, যেখানে পোষাক থেকে মিলছে নিজস্ব খাবারও।

বৃহস্পতিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন শাস্ত্রীয় ও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় কুয়াশাকে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা উৎসবে যোগ দিয়েছেন।

ত্রিশালের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও কুয়াশাকে বরণের উৎসবে এসেছেন।

উৎসবে আসা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী সানি জানান, শহরের বাইরে হওয়ায় আমরা কুয়াশার আসল ছোঁয়াটা এখানে পাই। গ্রামীণ পরিবেশে মেলার মতো লাগে, শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম। আগেরবারও এসেছিলাম এই উৎসবে, ভিন্নধর্মী এই আয়োজন প্রতিবছর হোক, সেটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় নানাদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশে অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় একেকটি বিশেষ কাজে পরিচিত থাকে। কুয়াশা উৎসবটি তেমনই উৎসবে পরিণত হয়েছে। শান্তিনিকেতনে যেমন তাদের নিজস্ব একটি অনুষ্ঠান হয় পৌষমেলা, তেমনি আমরা বোধ করি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াশা উৎসবটি আগামীতে একটি জাতীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

কুয়াশা উৎসবের সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা থেকেই এই উৎসবের শুরু। আমরা শিক্ষকরা কেবল সেটিকে সমন্বয় করে এগিয়ে যাবার কাজ করে যাচ্ছি। শীতের ইতিবাচকতাকে বরণ করে নিতেই এই আয়োজন। আশা করি এই আয়োজন একদিন আরও ব্যাপকতা পাবে।

প্রসঙ্গত, ২য় বারের মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে কুয়াশা উৎসব। এর আগে কুয়াশা উৎসবটি উদযাপিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে মাঝে উৎসবটি বন্ধ ছিল। প্রথমবার গণ অর্থায়নে আয়োজিত হলেও এবারের কুয়াশা উৎসব আয়োজনে কোনো বিজ্ঞাপন বা পৃষ্ঠপোষকের সহযোগিতা নেওয়া হয়নি। তবে উৎসব বন্ধু নামের একটি ফরমের মাধ্যমে অর্থ সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজন করা হয় খেজুরের কাঁচা রসের আয়োজনে রস উৎসব। আয়োজক আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মোরসালিন রহমান শিখর জানান, প্রথমবারের কুয়াশা উৎসবে লক্ষ্য করেছি, শীতের সময় কুয়াশাকে কেন্দ্র করে কুয়াশা উৎসব হলেও খেজুরের রস ছাড়া শীতের সকাল পূর্ণতা পায় না। তাই এবার এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

ওডি/এএম

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড