• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংকট-অর্জনে হাবিপ্রবির ২৩ বছর

  হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫২
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)

হাঁটিহাঁটি পা পা করে ২২টি বছর পার করেছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( হাবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯ টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এম.কামরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার।

পতাকা উত্তোলন শেষে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে শান্তি ও আনন্দের প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এম কামরুজ্জামান।

সংকট ও অর্জনের গল্প-

১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নয়টি অনুষদে ৪৫ টি বিভাগে ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ৩২৪ জন শিক্ষক, ২১৪ জন কর্মকর্তা, এবং ৩০২ জন কর্মচারী রয়েছেন।১২ টি বিষয়ে দেয়া হচ্ছে পিএইচডি ডিগ্রি।বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত একটি বিদ্যালয় ও ইন্সটিটিউট রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সংকটে আটকা এই বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ ২২ বছর পার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পান না পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। সেশনজট, আবাসন সংকট, শিক্ষক-শ্রেনীকক্ষের সল্পতা, পরিবহনের অপ্রতুলতা, গবেষণার অনগ্রসরতা, শিক্ষকদের রাজনীতি ও ক্ষমতায় দ্বন্দ্ব, ছাত্রসংগঠনগুলোর গ্রুপিং ভিত্তিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংকট ইত্যাদির কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমাবর্তন হয়েছে মাত্র একটি, নেই কোনো অ্যালামনাই সংগঠন।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাসন, পরিবহন, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট।

মোট সাতটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থী বাস করছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার। এর মধ্যে ছাত্রদের ৪টি আর ছাত্রীদের তিনটি। ফলে আবাসন সংকট রয়েই গেছে। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজও সম্ভব হয়নি।

তবে সংকটের সঙ্গে দিনের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুলিতে অর্জনের কমতি নেই। বর্তমানে ৯টি অনুষদে ৪৫টি বিভাগে চলছে পাঠদান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদেশি গ্রাজুয়েট তৈরির তালিকায় হাবিপ্রবি প্রথম। বর্তমানে প্রায় ১৩৮জন বিদেশী শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির তৃতীয় তলায় স্থাপিত "মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারে" শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রায় সাড়ে তিনশ টাইটেলে সহস্রাধিক বই সংরক্ষিত আছে। হাবিপ্রবিতে ভিভিএম অনুষদে গবেষণার জন্য রয়েছে একটি উট পাখির খামার ও নানা প্রজাতির পশুপাখির সমন্বয়ে একটি গবেষণা স্থান।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে 'কৃষক সেবা কেন্দ্র '। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ও কৃষি উন্নয়নকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই 'কৃষক সেবা কেন্দ্র'।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে উদ্ভাবিত শস্য শুকানোর মেশিন (টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়ার) কৃষকদের মাঝে আলোড়ন তৈরি করেছে। এই মেশিনের মাধ্যমে বৈরি আবহাওয়াতেও অল্প সময়ে সীমিত খরচে ধান, গম ও ভুট্টা শুকানো যায়।

এছাড়াও দেশের প্রথম বিশেষায়িত ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক ও ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস), মৎস্য হ্যাচারি, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম, মেডিকেল সেন্টার, বোটানিক্যাল গার্ডেন সমৃদ্ধ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে।

হাবিপ্রবির ২৩ বছরে পদাপর্ণ উপলক্ষ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘসময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় হাবিপ্রবির রজতজয়ন্তীতে আমরা উৎসব মুখর পরিবেশে কনভোকেশন আয়োজনসহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানবিধ ক্ষেত্রে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছি।

এছাড়া গবেষণা কার্যক্রমকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে একটি অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল ল্যাব তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সেসনজট কমাতে ইউজিসির গাইডলাইন অনুসরণ করে আমরা সেমিস্টার সিস্টেমকে পুনর্বিন্যাস করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্টবোর্ডের অনুমোদনক্রমে আমরা সেশনজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হব বলে প্রত্যাশা করছি।

ওডি/নিমি

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড