• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনার বন্ধে নানা প্রতিবন্ধকতায় তরুণ শিক্ষার্থীরা

  মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৫ জুন ২০২১, ১৫:১২
মাভাবিপ্রবি
মাভাবিপ্রবির কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী। ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ তাণ্ডবের কারণে গত প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এই বন্ধে মানসিক অবসাদ, পারিবারিকভাবে নানা চাপ, আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন দেশের শিক্ষার্থীরা। তবে পরিবারের হাল ধরার দ্বারপ্রান্তে এসেও বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীরা অনেকটা কূল হারিয়ে পরিবার ও সমাজের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাথে ভবিষ্যতে চাকরির অনিশ্চয়তাতো আছেই। মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন।

করোনার হানায় দীর্ঘ বন্ধের মাঝে শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী।

মাভাবিপ্রবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নূরনবী মন্ডল দীর্ঘ বন্ধে নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধকতার অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘প্রতিটা ছেলের স্বপ্ন থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করে ভালো একটা সরকারি চাকরি বা ক্যারিয়ার গড়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। যাতে তারা পরিবারের কাছে বোঝা না হয়ে পরিবারের হাল ধরতে পারে। কিন্তু করোনার এই ক্রান্তিকালে সেটা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

তরুণ এই শিক্ষার্থীর ভাষায়, একদিকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে চতুর্থ বর্ষে এসেও গ্রাজুয়েশন শেষ করতে পারছি না। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে যে কয়েকটা টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ বহন করতাম সেটাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার থেকে এখন ক্যারিয়ারটাই আমার কাছে অনেক বেশি ডিপ্রেশনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি নিজেকে এখন পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে, এ দেশের কাছে বোঝা মনে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমার মতো লাখ লাখ তরুণদের স্বপ্ন, তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিষয়টিতে রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। যেখানে এতদিনে অনার্স শেষ হয়ে জীবনের জন্য, পরিবারের জন্য হাল ধরার রাস্তা তৈরি করা যেত। মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে উঠে আসা ছাত্রদের চিন্তা-ভাবনাগুলো পরিবারকেন্দ্রীক হয়। বাসায়, আত্মীয়স্বজন, চারপাশে নিজেকে বোঝা মনে হয়। মানসিকভাবে চরম হতাশায় কাটছে দিন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা জুনিয়র ছিল তারাও বের হয়ে চাকরিরত। সেখানে পাবলিকে পড়ে নিজেদের অসহায় ছাড়া কিছু মনে হচ্ছে না।

তার মতে, ‘আমার মতো অনেকেই এই সমস্যাগুলো সম্মুখীন হচ্ছে। উঠতি তরুণদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। যেখানে পড়াশোনার চাপ অন্য কোনো খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারত, পরিবারও চাপে রাখতে পারত। সেখানে আজ অবসরের এই সময় পুরোপুরি কেউ অনলাইন গেম এ দিচ্ছে, কেউ মাদক কিংবা জুয়ায় ডুবে গেছে আবার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির অনেকে জীবিকার খোঁজে পড়াশোনার অনিশ্চয়তায় ও অভাবের কারণে শ্রমিকের কাজ করছে।’

মাভাবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কাশিফ আহমাদ জানান, ‘প্রথমত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ায় এবং আমাদের কোনো পরীক্ষা না হওয়ায় আমরা পড়ালেখা থেকে দেড় বছর পিছিয়ে গেছি। এরপর আমার পরিবার হয়তো প্রত্যাশা করছে যে, আমি তিন বছর পর অর্থনৈতিকভাবে পরিবারে অবদান রাখতে পারব। যেই প্রত্যাশায় আমি সম্পূর্ণভাবেই ব্যর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং এর বহির্ভূত বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস অনলাইনে হওয়ায়, প্র্যাকটিক্যালি অনেক বিষয়াদি সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় দেড় বছর পিছিয়ে যাওয়ায় এবং সরকারি কর্মক্ষেত্রে আবেদনে বয়সের সময়সীমা না বাড়ানোয়, এই দেড় বছর সময়ের ভুক্তভোগী কেবল আমি হব। একঘেয়েমি চলে আসছে। যার ফলে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা করা হচ্ছে না এবং বিভিন্ন অদরকারি কাজে সময় অপচয় হচ্ছে।’

তরুণ এই শিক্ষার্থী আরও জানান, অনলাইনে কোনো ক্লাস টেস্ট এক্সাম ও না নেওয়ায়, পড়ার প্রেশারটা অনুভব করতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা এখন পর্যন্ত উপভোগ করার সুযোগও পায়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, করোনাকালীন এই দীর্ঘ বন্ধে এখন পর্যন্ত ২৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে যাদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সী তরুণ। জীবনের অনিশ্চয়তা, পারিবারিকভাবে চাকরির চাপ, সামাজিকভাবে ব্লেইমসহ অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী অভাবের কারণেও আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া করোনাকালে উঠতি তরুণরা অনলাইন গেমে আসক্ত হওয়া, মাদকদ্রব্য সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে।

যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সম্প্রতিককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীর মাদকাসক্তের কারণে আত্মহত্যা। ওই ঘটনার পর এলএসডি নামক ভয়ংকর মাদকের অস্তিত্ব বাংলাদেশেও পাওয়া গেছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : পরিস্থিতি বুঝে এসএসসি-এইচএসসির সিদ্ধান্ত

সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনাসহ মানসিক ও শারীরিকভাবে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ সরকারকে গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন মাভাবিপ্রবির উদীয়মান এই তরুণরা।

ওডি/আইএইচএন

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড