• রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দীর্ঘ বন্ধে নানা প্রতিবন্ধকতায় নারী শিক্ষার্থীরা

  মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১১ জুন ২০২১, ১২:৩০
মাভাবিপ্রবি
মাভাবিপ্রবির কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৪ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এই বন্ধে মানসিক অবসাদ, পারিবারিকভাবে বিয়ের চাপ, আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ততাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন দেশের নারী শিক্ষার্থীরা। এ সকল বিষয়ে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসরত সুহা তার অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি মেয়েই চায় তার নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত হতে। তাই সে যখন ভার্সিটির প্রথম দিনে এক বুক স্বপ্ন সাথে নিয়ে প্রবেশ করে, তখন তার উদ্দেশ্য থাকে নিজস্ব সত্ত্বা তৈরি করার আর অপেক্ষা করতে থাকে কবে এই ভার্সিটি থেকে বের হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবে। কিন্তু যখন ভার্সিটি গণ্ডি পার হওয়াটাই অনিশ্চিত হয়ে যায়, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শেষ বর্ষে পরে থাকে তখন সে নিজেই ভুলতে থাকে তার স্বপ্নগুলোকে।

তিনি বলেন, পরিবারের কাছে বাড়তি বোঝা না হওয়ার জন্য সারাদিন ক্লাস শেষে যে সামান্য টিউশন করাতো সেটিও যখন ভার্সিটির সাথে বন্ধ হয়ে যায় তখন জীবনে নেমে আসে হতাশা। আত্মীয়দের মাধ্যমে আসা সম্বন্ধে ‘ভালো ছেলে’ নামক বিশেষণ তখন আর বিরক্ত লাগলেও বলতে পারছে না। মুখ বুজে মেনে নিতে হচ্ছে অনেক ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেশ হারাবে অনেক মেধাবীকে। আমরা হারাব অনেক সহপাঠীকে। আর ভার্সিটি হারাবে একরাশ হাস্যোজ্জ্বল নক্ষত্রদের।’

এ বিষয়ে মাভাবিপ্রবির ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনা নিপা বলেন, ‘করোনার পূর্বে লেখাপড়া শেষ করার পর বিয়ের কথা ভাবতেন বাবা-মা। এখন তারা এমন অনিশ্চয়তা দেখে বিয়ের কথা ভাবছেন। দীর্ঘদিন লেখাপড়ার বাইরে থাকায় জ্ঞানের বা মেধার চর্চা সুষম হচ্ছে না। অতিরিক্ত রাত জেগে সোশাল মিডিয়া আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় শরীর-মন দুয়েরই ক্ষতি করছে।’

তরুণ এই শিক্ষার্থীর ভাষায়, মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় দীর্ঘদিন এভাবে বসে থাকা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। এছাড়া হতাশা বাড়ছে বিয়ের উপযোগী হয়েও বিয়ের প্রতি আপত্তি জানালে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের কাছে বুলিংয়ের স্বীকার হওয়াতে। সমবয়সী সম্পর্কের ক্ষেত্রে লেখাপড়ায় এমন বিলম্ব ঘটায়, ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে হতাশা, দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। ফলে মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিশেষে অনেকটা ইন্ট্রোভার্ট হয়ে যাচ্ছি, যা একজন বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টের জন্য সুবিধাজনক নয়।’

মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন সুলতানা জানান, ‘করোনাকালীন এই সময়ে বেড়ে গেছে বাল্যবিবাহের হার। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের অসচেতনতা এবং অক্ষমতার কারণে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ দিক দিয়ে হিসেব করলে দেখা যায়, গ্রামের মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরত আনা সম্ভব হবে না। যে সকল নারীরা পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখত এই কোভিডে দীর্ঘ বন্ধে পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে তাদের পড়াশোনার অনিশ্চয়তা দেখে বিয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে হতাশা নিয়ে অনেকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

এ দিকে, আঁচল ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গত এক বছরে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যা করেছে যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর এরমধ্যে নারীদের আত্মহত্যার হার সবথেকে বেশি।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, করোনাকালে পারিবারিক জটিলতা, সম্পর্কের অবনতি, বিয়ের চাপ, পড়াশোনা নিয়ে হতাশাসহ বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন : কুবিতে আইকিউএসির সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

এমতাবস্থায় এ সকল সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাসহ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারেরই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন মাভাবিপ্রবির এই নারী শিক্ষার্থীরা।

ওডি/আইএইচএন

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড