• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ

করোনা মহামারিতে ২০০০ মানুষকে বিনামূল্যে প্লাজমা ও রক্তদান

  হাসান বিশ্বাস, ঢাবি প্রতিনিধি

২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৯:০৪
প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কোভিড-১৯) এর সদস্যরা
প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কোভিড-১৯) এর সদস্যরা (ছবি : সংগৃহীত)

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, এমন ব্যক্তিদের রক্ত থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্লাজমা দেয়ার চিকিৎসা পদ্ধতিকে প্লাজমা থেরাপি বলা হয়। এই চিকিৎসা আক্রান্তের মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

গত বছরের ৩০শে মে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে প্লাজমা সংগ্রহ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কোভিড-১৯)’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ ইসতিয়াক উদ্দিন। সারা দেশজুড়ে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে গঠিন এই সংগঠনের ‘টিম ৭১’ মাত্র ১১ মাসে দুই হাজারের অধিক রোগীকে বিনামূল্যে প্লাজমা ও রক্ত দিয়েছেন।

কিভাবে সংগঠনটি কাজ করে জানতে চাইলে সংগঠনের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মুনা বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর অধিকাংশ ব্যক্তি নানা কারণে প্লাজমা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। ফলে প্লাজমার অভাবে বেশীরভাগ সময় কোভিড আক্রান্ত রোগীকে এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। মূলত আমরা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই রোগীকে মানসিক সাপোর্ট সহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া শুরু করি। এতে অল্প সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে আমাদের সংগঠনের একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে ওঠার পর আমরা সেসব ব্যক্তিকে প্লাজমা দানের জন্য অনুপ্রাণিত করি এবং তারা আগ্রহী হন। পরবর্তীতে কারো প্লাজমার প্রয়োজন হলে আমরা বিনামূল্যে সেই প্লাজমার ব্যবস্থা করে দেই।

প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ সম্পর্কে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ইসতিয়াক উদ্দিন জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সেচ্ছাসেবী হিসেবে এগিয়ে এসে যুক্ত হয়েছে সময়োপযোগী ওই মানবিক প্লাটফর্মের সাথে। তাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে টিম-৭১। এছাড়াও প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কভিড-১৯) এর সঙ্গে যুক্ত আছেন ডাক্তার, পুলিশ সহ আরও নানা পেশাজীবী কর্মকর্তাগণ। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে দুরন্ত কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এখন পর্যন্ত টিম-৭১ এর কার্যক্রমে প্রায় দুহাজারেরও বেশি কোভিড, নন-কোভিড রোগীকে প্লাজমা এবং রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও টিম-৭১ মহামারিকালীন নানা সচেতনতামূলক প্রচার, মানুষকে প্লাজমা দানে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সম্প্রতি করোনায় অসহায়, ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।’

ইসতিয়াক জানান, মহামারির এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ নেতৃত্ব নিরবচ্ছিন্নভাব স্বেচ্ছাসেবী শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কভিড-১৯) এর কার্যক্রম ধীরে ধীরে সারাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিগত প্রায় এক বছর যাবত দেশের প্রতিটি প্রান্তে আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবাটি দিয়ে আসছি। আস্থা আর বিশ্বাসের জায়গায় ঘাটতি না থাকায় প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে প্লাজমা আর রক্ত চেয়ে অনুরোধের মাত্রা বাড়ছে। সকলের নিরলস পরিশ্রমে টিম-৭১ অর্জন করছে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালবাসা। মানবিক দিক থেকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করোনা মহামারী শেষ না হওয়া অবধি আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ্‌।

সারাদেশে প্লাজমা ব্যাংক বাংলাদেশ (কভিড-১৯) এর টিম-৭১ এর সম্মিলিত প্রয়াসে করোনা মহামারি প্রতিরোধ হবে বলে জানিয়েছেন মানবিক এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।

ওডি

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড