• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

  বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

০৬ মার্চ ২০২১, ১৬:০৫
বশেমুরবিপ্রবি
করোনার অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন বশেমুরবিপ্রবির তরুণ শিক্ষার্থীরা। ছবি : দৈনিক অধিকার

মহামারি করোনায় মানুষ প্রায় ঘরবন্দি। এই সময়ের অলস জীবনযাপনে সর্বত্রই করোনার আতঙ্ক। তবে এই আতঙ্কের মাঝেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কিছু শিক্ষার্থী অলস এই সময়কে কাজে লাগাতে ভিন্নধর্মী কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এমন কিছু ভিন্নধর্মী তরুণ উদ্যোক্তার কথা তুলে ধরা হলো আজকের ফিচারে।

মিনি স্পাইসি ধাবা

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ তরুণদেরই স্বপ্ন থাকে শিক্ষাজীবন শেষ করে সরকারি চাকরি করা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বশেমুরবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাসুম। এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন তিনি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়াবেন না বরং উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। আর এই স্বপ্ন থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মিনি স্পাইসি ধাবা।

মাসুম বলেন, ‘করোনাকালীন সময় বাড়িতে থাকা অবস্থায় আমি একটা দেশি মুরগির ফার্ম করি যেখানে মোটা অংকের একটা প্রফিট আসে। সেই থেকেই কাজ শুরু। এরপর গোপালগঞ্জে এসে ইউটিউবিং করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজ খুঁজতে থাকি। এভাবেই এই ধাবাটি আমার চোখে পড়ে এবং পুরনো মালিকের কাছ থেকে এটা সম্পূর্ণরূপে কিনে নিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নতুনভাবে শুরু করি।’

বশেমুরবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাসুমের ধাবা। ছবি : দৈনিক অধিকার

মাসুম জানান, তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি মেজ। পরিবারের সদস্যরা চিন্তা করতে পারে একারণে তিনি ধাবার বিষয়টি এখনও পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন। ভবিষ্যতে যদি এই পর্যায়ে থেকে ভালো কিছু করতে পারেন তবেই বিষয়টি পরিবারের সকলকে জানাবেন।

সরেজমিন ঘুরে গোপালগঞ্জের লঞ্চঘাটে অবস্থিত ধাবায় গিয়ে দেখা যায়, ছোটো সাজানো পরিবেশে দু-জন সহযোগীকে নিয়ে কাজে ব্যস্ত রয়েছেন মাসুম। বর্তমানে ধাবায় যেসব আইটেম পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে- আপু লুচি ও মাংস, ডাল, তেঁতুলের চাটনি, জলপাই এর চাটনি, কফি এবং চিপস।

পড়ালেখা ও ব্যবসার সমন্বয় প্রসঙ্গে মাসুম বলেন, ‘এখানে আমরা তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় দেই তাই পড়ালেখায় খুব একটা প্রভাব পড়ে না।’

মাসুম স্বপ্ন দেখেন বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ শুরু করলেও এক সময় তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন।

ট্রু আইডেন্টিটি

ছোটোবেলা থেকেই কাজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন বশেমুরবিপ্রবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। বিশেষ করে ২০১৮ সাল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন অনলাইনে ব্যবসা করার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য অন্যদিকে মন দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে প্রায় ২ বছর পর নুসরাতকে তার ইচ্ছে পূরণের সু্যোগ করে দেয় করোনার কারণে পাওয়া অবসর সময়।

নুসরাত জানান, প্রথম ৪ থেকে ৫ মাস খুবই অগোছালোভাবে সময় কাটিয়েছি। এমন সময় ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও উদ্যোক্তা প্লাটফর্মের সন্ধান পাই। সেখানে অনেক মেয়েদের স্ব-নির্ভর হওয়ার গল্প ও অনলাইন বিজনেসের সকল বিষয় সম্পর্কে ধারনা পাই। এরপর আগস্টেই মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করি।

বর্তমানে নুসরাতের ‘True Identiity - your online shop’ নামে একটি গ্রুপ ও একটি পেজ রয়েছে।

নুসরাত জানান, তার ব্যবসা সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর। তার পেজ ও গ্রুপে যশোরের বিখ্যাত হাতের সেলাই করা ‘যশোর স্টিজ’, থ্রি পিছসহ সেলাই করা কাপড় পাওয়া যায়। এছাড়াও কুমিল্লার খাদি পাঞ্জাবি, শাড়ি, ওয়ান পিছ, থ্রিপিছ এর উপর তিনি নিজেই হ্যান্ডপেইন্ট করেন।

ব্যবসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নুসরাত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকেই আমাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছেন সে জন্য সকলকে অনেক ধন্যবাদ।’

নুসরাতের স্বপ্ন তিনি ভবিষ্যতে ‘True Identity’ কে একটা ব্রান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা করবেন।

মিলস অন হুইলস

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবাই যখন অলস সময় পার করছিলেন তখন ভিন্নধর্মী কিছু করার চিন্তা করছিলেন তারা। আর সেই চিন্তা থেকেই ‘মিলস অন হুইলস’ নামের ফুডকোর্টের যাত্রা শুরু করেন বশেমুরবিপ্রবির চার শিক্ষার্থী জগৎ মোহন, শিহাব শাহরিয়ার, ইমন মারুফ ও তানিম মিয়া।

বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী জগৎ মোহন, শিহাব শাহরিয়ার, ইমন মারুফ ও তানিম মিয়ার মিলস অন হুইলসে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : দৈনিক অধিকার

সরেজমিন ঘুরে নবীনবাগে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে এই চার শিক্ষার্থীর ফুডকার্টের চিকেন বার্গার বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ব্যবসার কারণে পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ ইমন বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ গুলো সুন্দরভাবে ভাগ করে নিয়েছি। যার ফলে এখন পর্যন্ত আমাদের পড়াশোনা ভালোই চলছে এবং কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : নোবিপ্রবির সূর্যমুখীদের মন ভার

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসসহ গোপালগঞ্জ শহরে শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে।’

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড