• শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

১৬ মাসেও দখলমুক্ত হয়নি কুবির ব্যায়ামাগার

  কুবি প্রতিনিধি

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:৩৯
কুবি
কুবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত ব্যায়ামাগার। ছবি : দৈনিক অধিকার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত ব্যায়ামাগারটি ১৬ মাসেও দখলমুক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্মাণের পর থেকেই অবৈধভাবে প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যায়ামাগার কক্ষের চাবি নিয়ে নেয় শাখা ছাত্রলীগ। এরপর থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে তারা। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যায়ামাগার ব্যাবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের কাছে ব্যায়ামাগার কক্ষের চাবি অনিয়মিতভাবে থাকায় এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে বেশিরভাগ সময়ে চাবি ছাত্রলীগ নেতাদের দখলে থাকে। একই সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে কোনো ব্যক্তিকে দেখভালের দায়িত্ব না দেওয়ায় নেতাদের মন-মর্জি মতো খোলা হয় ব্যায়ামাগারটি। চলে দলীয় বিচার থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের আড্ডা। মূলত এসব কারণেই ব্যায়ামাগারে প্রবেশের অধিকার হারিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে, ব্যায়ামাগারের বেশ কয়েকটি যন্ত্রাংশ এরই মধ্যে অকেজো হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশে এবং প্রধান ফটকের উত্তর পাশে টিনের চালার এক কক্ষবিশিষ্ট স্থাপনাটির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসহ ‘ব্যায়ামাগার’ লেখা রয়েছে। ফলক থাকলেও মূলত দলীয় কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহার করছে ছাত্রলীগ। এমনকি প্রথম থেকে বিভিন্ন দিবস এবং বিশেষ কর্মসূচি চলাকালীন ব্যায়ামাগারের সামনে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ছাত্রলীগের পতাকাও উড়তে দেখা যায়। এছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে গ্রুপ রাজনীতির জেরে একাধিকবার প্রতিপক্ষের কর্মীদের মারধরের ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ব্যায়ামাগারটি উদ্বোধন করেন। মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে ১৭টি ব্যায়ামের যন্ত্র কেনা হয়। উদ্বোধনের পর নিয়মিত ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালালেও বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে ব্যায়ামাগারটি। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভয়ে সেদিকে যেতে চানা না বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সেটির সুরাহা করতে ব্যর্থ হয় উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরীর প্রশাসন। এতে কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি অর্থে যে ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হয়েছে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেটা এখন ছাত্রলীগ ব্যাবহার করছে। তাদের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখানে পরিচালিত হয়। সবাই এটাকে পার্টি অফিস নামে চেনে। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকলে সেটার জন্য প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মনিরুল আলম যন্ত্রাংশ অকেজো হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ব্যায়ামাগারের চাবি শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ে যায়। পরে তারা আবার জমা দেয়। আমার কাছে একটি চাবি আছে। তবে ব্যবহার করার পর যন্ত্রাংশ পুরাতন হয়। কিছু নষ্ট হবে সেগুলো আবার পরিবর্তন করা হবে। কিন্তু ছাত্রলীগের দখলের বিষয় আমি কিছু জানি না। আমরা দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি।’

তবে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা আমাদের দলীয় কার্যালয় না। আমরা এখন এখানে খুব কম সময়ে যাই। সারাদিনই ব্যায়ামাগার খোলা থাকে। তবে আমরা মাঝেমধ্যে সামনে বসে আড্ডা দেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো চাবি নাই। আমরা দখল করে রাখি এমনটাও সত্য নয়, বরং সময়ে সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এটা ব্যাবহার করে।’

আরও পড়ুন : জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জবি ছাত্র অধিকারের নিন্দা

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ব্যায়ামাগার অবশ্যই ছাত্রদের জন্য। শারীরিক শিক্ষা বিভাগে চাবি থাকে। যারা ইচ্ছুক সেখান থেকে চাবি নিয়ে ব্যাবহার করতে পারবে। কোনো বিশেষ ব্যক্তি এটি ব্যাবহার করার অনুমতি নেই।

তিনি বলেন, ‘এখনতো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে আরও কথা বলা হবে। আর যেহেতু এটি প্রয়োজনে তুলনায় ছোট পরিসরে, ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন প্রকল্পে বড় পরিসরে নির্মাণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে যে কোনো সময় ব্যায়ামাগার ব্যাবহার করতে পারে। আর যন্ত্রাংশ অকেজো হওয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড