• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জরিমানার টাকা দিয়েও বিপাকে গবি শিক্ষার্থীরা

  গবি প্রতিনিধি

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৪৭
গবি
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রধান ফটক। ছবি : দৈনিক অধিকার

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) সাবেক রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের গত বছরের জুনে দেওয়া জরিমানা সংক্রান্ত এক মৌখিক আদেশের বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আনেন।

জানা যায়, গত বছরের ১ জুলাই অনলাইনে শুরু হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে ২৪ জুন সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রশাসন। বকেয়া পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়। এর দুই দিন পর ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সাথে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ছাত্র সংসদ, সাংবাদিক সমিতি, ছাত্র পরিষদসহ অন্যরা আলোচনায় বসে।

ওই সময় রেজিস্ট্রার জানান, বকেয়ার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। একই সাথে ১০ জুলাই তারিখের মধ্যে যারা বকেয়া পরিশোধ করবে, তাদের জরিমানা দিতে হবে না। পাশাপাশি যারা তখন ইতোমধ্যে ৫ হাজার জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেছেন, তাদের জরিমানার টাকা পরবর্তী সেমিস্টারে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরবর্তীকালে রেজিস্ট্রারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সে সময় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন রেজিস্ট্রারের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।

তারা জানান, আমরা ২৭ জুন তারিখের ওই ঘোষণার আগেই জরিমানাসহ টাকা পরিশোধ করেছি, কিন্তু জরিমানার ৫ হাজার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত করা হয়নি। এর ফলে তাদের ওই ৫ হাজার টাকা এখনো বাকি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা পরীক্ষার ফল দেখাসহ পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাসে অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিপাকে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী ইহসানুল কবির জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধ করেন গত বছরের ২২ জুন। একই অনুষদের মো. সাগর সরকার রকি রেজিস্ট্রারের ঘোষণার পূর্বেই জরিমানার ৫ হাজারসহ বকেয়া পরিশোধ করেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের উভয়েরই জরিমানার টাকা পরের সেমিস্টারে যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত বকেয়া তালিকায় তাদের উভয়েরই ৫ হাজার টাকা বাকি দেখানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ববি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, প্রতিবাদে বশেমুরবিপ্রবিতে মানববন্ধন

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল কাদের দৈনিক অধিকারকে জানান, লিখিত না পেলে মৌখিক আদেশে তো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারি না।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি, তৎকালীন সময়ে রেজিস্ট্রারের মুখের কথাতেই অনেক কিছু বাস্তবায়ন হতো। লিখিত নোটিশ তিনি কমই দিতেন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন রেখে বলেন, সিদ্ধান্ত হওয়ার পর যদি তিনি লিখিত নোটিশ না দেন, এর দায়ভার কে নেবে? এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে?

তৎকালীন রেজিস্ট্রারের ওই আদেশের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে, জানতে পরপর দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর সাথে অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁসের পর ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেয় ট্রাস্টি বোর্ড।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড