• সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বেরোবির আন্দোলন : কেমন উপাচার্য চান শিক্ষার্থীরা?

  আবু সাঈদ জনি, বেরোবি প্রতিনিধি

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:২৭
বেরোবি
বেরোবির কয়েকজন শিক্ষার্থী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ জুন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন। উপাচার্য ক্যাম্পাসে নিয়মিত না থাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক নানা জটিলতার।

অভিভাবক হিসেবে কেমন উপাচার্য চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? এ ব্যাপারে মতামত জানতে দৈনিক অধিকারের সাথে কথা বলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ বলেন, উপাচার্য হিসেবে আমি একজন অভিভাবককে চাই। নিয়োগের পর যার সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে, তিনি বেরোবির অভিভাবক। প্রতিষ্ঠার এক যুগ হয়ে গেলেও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা দিয়ে আমরা হাজারও সংকটকে মাথা পেতে নেই। মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এখন পর্যন্ত ৪ জন উপাচার্য বেরোবিতে নিয়োগ হয়েছে। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে অবকাঠামোগত কাজ হলেও, পরবর্তীতে আশানুরূপ কোনো কাজ আমরা দেখতে পাই না। ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ভার্সিটিতে এখনো ক্লাস রুম সংকট। নতুন ডিপার্টমেন্ট খোলা হচ্ছে কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, অবকাঠামোর কোনো পরিবর্তন নেই। বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টকে ৪ বছরের অনার্স ৬ থেকে ৮ বছরে শেষ করতে হয়।

তিনি বলেন, বেরোবিতে আন্দোলন গেলে আন্দোলন আসে, তৈরি হয়ে গেছে নোংরা পলিটিক্স। বর্তমান এখানে অনেক সংকট। তারপরও এমন উপাচার্য চাই যিনি বেরোবিকে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজেকে বেরোবির অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দেবেন। শুধু শুধু আশার বাণী না ছড়িয়ে বেরোবির সংকট নিরসনে দক্ষতা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের পরিচয় দেবেন।

এ দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, উপাচার্যকে হতে হবে উপাচার্যের মতোই। মহামান্য আচার্যের শর্ত পূরণ করে তাকে সকল কাজ করতে হবে। ছাত্র-শিক্ষক সবার চাওয়া সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে, হতে হবে শিক্ষার্থীবান্ধব। আমরা চাই বর্তমানে ক্যাম্পাসের যে ভঙ্গুর অবস্থা তা থেকে তুলে আনতে যে সক্ষম হবে তাকেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। সর্বোপরি আমরা একজন যোগ্যতাসম্পন্ন উপাচার্য চাই।

অন্যদিকে, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার হাসি জানান, আমাদের জন্য একজন উপাচার্য আট ঘণ্টা কাজ করবেন। ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করবে এমন উপাচার্য আমাদের কাম্য নয়। কেননা যিনি ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন বলে জানান দেন তিনি অবশ্যই ধোঁকাবাজ। যিনি শিক্ষার্থীদের সেশনজট নামক সমস্যা দূর করণে উদ্যোগের পাশাপাশি সমাধান করতে পদক্ষেপ নিবেন। সর্বোপরি উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে উপস্থিতি থেকে শিক্ষার্থীদের সেবা করবে এমন একজন উপাচার্য আমরা চাই।

আরও পড়ুন : আইআইইউসি সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে লিমন-আরিফ

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, আমরা এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হবেন। আমাদের জন্যই তো বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের জন্যই তো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। সবাইকে নিয়েই আমাদের একটা পরিবার হয়ে উঠে। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের যতদূর এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ঠিক ততটাই মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে আমাদের। প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাই এর মূল কারণ। যার চরম পরিণতির শিকার আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ কিংবা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা যখন ক্যারিয়ার গড়ে পরিবারকে নিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে, ঠিক সে সময় আমরা সেশন জটের কবলে পড়ে পরিবারের বোঝা হয়ে যাচ্ছি। তাই সকল অন্তরায় কাটিয়ে উঠে নবদিগন্তের নতুন সূর্য দেখাতে পারবে আমরা সেরকম একজন উপাচার্য চাই।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড