• রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কংক্রিটের নগরে একখণ্ড সবুজ ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’

  সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার

২০ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১৪
অধিকার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঢাকার কথা বললে চোখের সামনে বুড়িগঙ্গার ছবি এবং নতুন পুরাতন ভবনের সারিসারি অবস্থান ভেসে উঠে। পুরান ঢাকায় সদরঘাট কেন্দ্রিক ব্যস্ততম জনপদে এক ভবনের সাথে অন্য ভবনের দূরত্ব শুধুমাত্র মানুষ চলাচলের মতো। অধিকাংশ ভবনের পাশে সে সুযোগও নেই। রাস্তাগুলো এতো সংকীর্ণ যে রিক্সা যাওয়ার মতো জায়গা ছাড়া বড় কোন যানবাহন যেতে পারে না। প্রতিটি ভবন যেন আকাশ ছুঁতে চায়। অনেকে পুরান ঢাকার গলি রাস্তার অবস্থা বুঝাতে 'মাইনকা চিপা' শব্দটি ব্যবহার করেন। কংক্রিটের এই ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় বনায়ন তেমন দেখা মেলে না। দুই একটি বাসার ছাদে বাগান দেখা গেলেও রাস্তার পাশে বা বাসার পাশে গাছের দেখা পাওয়া ভার। যেখানে মানুষের চলাচলের জায়গার সংকুলান হয় না সেখানে বনায়ন করাকে বিলাসিতা বলা চলে। তবে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের ভিক্টোরিয়া পার্ক ও কোর্ট-কাচারি এলাকায়। সবুজের সমারোহ এখানে চোখ জুড়ায়।এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কাষ্ঠল, ফলজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ যা এ স্থানকে পুরান ঢাকায় সবুজের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করেছে। সবুজ এসকল বৃক্ষরাজি বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা, কলাভবন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শান্ত চত্বর ও বিজ্ঞান ভবনের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের দেখা মেলে। সে সকল গাছের সৌন্দর্য পুরান ঢাকার প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য বড় উপহার বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে আরও কিছু বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে যা সংখ্যাতাত্ত্বিক দিকে যেমন ভারি করেছে তেমনি বাড়িয়েছে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য। করোনার মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্লাস বন্ধ রয়েছে কিন্তু ক্লাস বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের সবুজ প্রকৃতির মাঝে বিচরণ চোখে পড়ার মতো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শিমু তালুকদার বলেন, ঘরবন্দি জীবন থেকে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে এ এলাকায় ক্যাম্পাস এবং ভিক্টোরিয়া পার্ক ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে পার্কে বাড়তি মানুষের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করা যায় না। ক্যাম্পাসে কিছুটা হলেও নিজের মত করে সবুজের মাঝে থাকা যায়, ফলে সুযোগ পেলে ক্যাম্পাসে আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় কাষ্ঠল বৃক্ষ চোখে পড়ে। এছাড়া এর পাশে সেন্ট থমাস ক্রুস বিদ্যালয় ও কবি নজরুল ইসলাম কলেজের প্রাঙ্গণেও সবুজের দেখা পাওয়া যায়। পাশাপাশি এ স্থানগুলোর গাছগাছালি মিলে পুরান ঢাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশের এক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া পার্কে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এখানে মেহগনি, কাঁঠাল, আম, নারিকেল, দেবদারু, সেগুন, কাঠবাদাম, কড়ইসহ নাম না জানা অসংখ্য কাষ্ঠল, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের দেখা মেলে। পার্কে সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রয়েছে বসার স্থান। তাই কর্ম ব্যস্ত পুরান ঢাকায় বিশ্রাম, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আড্ডা ও ব্যায়ামে জন্য সারাদিন ছোট এ পার্ক থাকে মানুষের কোলাহলে সরব।ছুটির দিনগুলোতে ভিক্টোরিয়া পার্কের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্নরকম।মনে হবে যেন মেলা বসেছে পার্কে।পার্কের কেয়ারটেকার থেকে জানা যায়, পার্ক সংস্কার করার পর নতুন করে গাছ লাগানো হলেও পার্কে আসা মানুষজনের পায়ের পাড়ায় অধিকাংশ গাছ মারা গেছে।পার্কে ঘুরতে আসা সাংবাদিক সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,বাংলাবাজারে ঘোরাঘুরি শেষে পার্কে বসে কিছুটা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটছে।পুরাণ ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিক্টোরিয়া পার্ক ছাড়া অন্য কোথাও প্রকৃতির মাঝে এমন সময় কাটানোর সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহি বলেন, পুরান ঢাকায় গাছ বা বাগান দেখা যায় না। গাছ যে অক্সিজেনের প্রধান নিয়ামক বা সৌন্দর্য বর্ধনে কাজ করে এই মনমানসিকতা এ এলাকার মানুষের এখনো তৈরি হয়নি। আমরা গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডি এলাকায় দেখি রাস্তার আইল্যান্ডে গাছ লাগানো হয়েছে। পুরাণ ঢাকায়ও সেটা করা যেতে পারে। এছাড়া এখানে রাস্তার পাশে গাছ লাগানো ও মনিটরিং করাসহ ছাদ বাগান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন একটা নিয়ম করে দিতে পারে। যে সকল বাসা বাড়ির প্রাঙ্গণে বাগান করা সম্ভব নয় তারা যেন বাসার ছাদ বা বেলকুনিতে বনায়ন করে।

পুরান ঢাকার পাশে বুড়িগঙ্গার দুই ধারে বনায়ন করেও পুরান ঢাকাকে বাস উপযোগী করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড