• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সুস্থ প্রকৃতি চাও যদি, বাঁচাতে হবে নদ-নদী

  মো.আল-ফাহাদ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৩৭
নদী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস। নদী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ও মানুষের মধ্যে নদী ভাবনা তৈরি করতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার পালন করা হয় বিশ্ব নদী দিবস।

নদী মানেই সভ্যতা, নদী মানেই সংযোগ। নদীই এ দেশের সংস্কৃতি বিনির্মাণ করেছে, জনপদ তৈরি করেছে ও খাদ্য যুগিয়েছে। নদীর সাথে এদেশের মানুষের সম্পর্ক অতি নিবিড়। কিন্তু এ নদীগুলোই হারিয়ে যেতে বসেছে। আর আমাদের এ নিভু নিভু প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকা নদীগুলোকে নিয়ে পরিবেশবাদীসহ সাধারণ মানুষের যতো উদ্বেগ। তবে নদী রক্ষার তৎপরতা সারা পৃথিবী জুড়েই দৃশ্যমান। নদী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ও মানুষের মধ্যে নদী ভাবনা তৈরি করতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার পালন করা হয় বিশ্ব নদী দিবস।

গ্রামের পাশে বহমান স্রোতস্বিনী নদীতে চলমান নৌকা, জেলেদের কর্মব্যস্ততা, নদীর পাড়ে শিশুদের দুরন্তপনা এই বাংলার চিরায়ত রূপ। তবে নয়নাভিরাম দৃশ্যই শুধু নয়, নদী ও গ্রাম কেন্দ্রিক জীব বৈচিত্র্য এ দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে। শিরা উপশিরার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নদীগুলোর কারণে বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত। সারা বছর কম-বেশি জল প্রবাহ থাকায় এ সব নদী হয়ে উঠেনে লক্ষ প্রাণের এক গতিময় অভয়ারণ্য।

মিঠাপানির এই আধারগুলো অসংখ্য ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী, মাছ,উভচর,সরীসৃপ, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। আমাদের দেশের মিঠাপানির মৎস্য সম্পদের প্রধান উৎস এই নদীগুলো। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬০ প্রজাতির দেশী মাছ পাওয়া যায় এই নদীগুলোতে। খাদ্যের সন্ধানে নদীর তীর ও চরে এসে ভিড় করে বক, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। নদীতে দেখা যায় স্তন্যপায়ী প্রাণী শুশুক ও ভোঁদড়। এ ছাড়া নদীতে শামুক,ঝিনুক,কাঁকড়া, চিংড়ির মত অসংখ্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর উপস্থিতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কারণ এ সব প্রাণীর উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে পাখি ও অন্যান্য প্রাণী।

নদী ভরাট ও দূষণের ফলে মাছসহ অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই নদীগুলো হতে কিছু মাছ বিলুপ্ত হয়েছে, কিছু মাছ বিলুপ্তির প্রহর গুনছে।এর সাথে সাথে নির্ভরশীল অন্যান্য প্রাণীকুলও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর। নদীগুলো সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। নদী ভরাট হতে বিরত থাকতে হবে। নদীর গতিপথ ও নাব্যতা ঠিক রাখতে হবে। নদীর সাথে বিলের সংযোগ স্থাপন করে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টানা দুমাস বন্ধ ছিল নৌ চলাচল। নদী তীরবর্তী অনেক শিল্প কারখানাও এ সময় ছিল বন্ধ। যান্ত্রিক নৌ-যান চলাচল ও বেশিরভাগ শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় নদ-নদীতে দূষণ হয়েছে কম। পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল বিভিন্ন জেলায়।

তাই ওই সময় বেশিরভাগ জেলে মাছ না ধরায় ইলিশের বংশবৃদ্ধি হয়েছে। অনেকটা অবাধে নদ-নদী ও সমুদ্রে বিচরণ করতে পেরেছে ইলিশ। পাশাপাশি বেড়ে ওঠার সময়ও পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ আবার নতুন করে নদীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপর পক্ষে করোনাকালে প্লাস্টিক কাপের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায়, তা আবার নদ-নদীতে ফেলায় হুমকির মুখে জলজ জীব বৈচিত্র্য। সম্প্রতি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের জন্য দায়ী সার্স কোভ-২ ভাইরাস এর জীনগত উপাদান বাংলাদেশের নর্দমা ও ড্রেনের বর্জ্য পানিতে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। তাই দ্রুত ড্রেন ও নর্দমার পানিকে নজরদারির আওতায় এনে কার্যকর ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি হাইকোর্ট নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে রায় দেয়। নদী ময়লা ফেলার ভাগাড় নয়।পানির অপর নাম জীবন আর নদী সেই জীবনের গতিময় ধারা। তাই নদীর বাঁচা-মরার ওপর বাংলাদেশের অস্তিত্ব জড়িত।সুস্থ প্রকৃতির জন্য নদী সংরক্ষণ করতে হবে। বাঁচলে নদী বাঁচবে দেশ, বাঁচবে প্রিয় বাংলাদেশ।’

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড