• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের রক্ষায় শিক্ষকদের পাহারা

  ক্যাম্পাস ডেস্ক

০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৩
শিক্ষকদের মানব বেষ্টনী
নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষকদের মানববেষ্টনী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে মানববেষ্টনী তৈরি করে রেখেছেন শিক্ষকরা। পুলিশ কোনোভাবেই যেন অতর্কিত হামলা চালাতে না পারে বা শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ায় সেটি খেয়াল রাখতেই এ ব্যবস্থা নিয়েছেন জাবি শিক্ষকরা। মহতী এই বেষ্টনীর মধ্যে থেকেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’- এর ব্যানারে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে বেলা ১১টার পর থেকে একে একে এসে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। সেখানেই উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন শিক্ষকরা।

তারা বলেন, আমার যে অভিযোগ করছি তা তদন্ত করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা তো গোয়েন্দা সংস্থার লোক না, আমরা কীভাবে উপাচার্যের দুর্নীতি প্রমাণ করব।

এই পরিস্থিতিতে সহিংসতাকে উস্কে দিতে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

 শিক্ষকদের বেষ্টনীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বৃহস্পতিবার সকালে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’- এর ব্যানারে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘গতকাল শিক্ষা উপমন্ত্রী যে কথা বলেছেন সেই কথার সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। উনি আমাদের অর্থাৎ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রমাণ সহকারে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছেন। আমরা তো বিষয়টি প্রমাণ করতে আসেনি, আমরা অভিযোগ তুলেছি। এখন তদন্ত করে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের।’

এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘তদন্তে যদি উপাচার্য নির্দোষ হয়; তখন কোনো কথা হবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব যখন কেউ নিচ্ছেন না তখনই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’

এর আগে বুধবার (৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিক জাবি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে উপাচার্যর অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এই হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ প্রায় ২৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের উপস্থিতিতেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

তবে আন্দোলনে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয় অধ্যাপক রাইয়ান রাইন বলেন, ‘আন্দোলনে কোনো শিবির সংশ্লিষ্টতা নেই, আন্দোলন দমাতে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের উস্কানিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

ছাত্রলীগের এ হামলায় আহত হন- আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক ড. মির্জা তাসনিমা, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক আনোয়ারুলউল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহামুদ ও বিবি হাফছা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক রাইয়ান রাইন।

     বেষ্টনীবদ্ধ শিক্ষকরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)  

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন- দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম, বার্তা২৪ এর প্রতিনিধি রুদ্রু আজাদ, বাংলা বাজারের প্রতিনিধি ইমরান হোসেন হিমু ও বাংলা লাইভের আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল। হামলায় উপাচার্য অপসারণ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো আশিকুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ এবং আন্দোলনকারী মারিয়াম ছন্দা মারুফ মোজ্জামেল, সাউদাসহ আরও ১০/১২ জন গুরুতর আহত হয়।

এ ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওডি/জেআই

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড