• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোন পথে?

  সম্পাদকীয় ১১ মে ২০১৯, ১৯:৩৫

সম্পাদকীয়

যে মাধ্যম জনগণের পক্ষে কথা বলে, সেটিই গণমাধ্যম৷ সহজ কথায়, জনগণের কথা বলার মাধ্যমই হলো গণমাধ্যম৷ কেমন আছে আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো? কী ধরনের স্বাধীনতা তারা ভোগ করছে?

প্যারিসভিত্তিক গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০০২ সাল থেকে ১৮০টি দেশের ওপর জরিপ পরিচালনা করে আসছে৷ এ জরিপের মাধ্যমে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকে পৃথিবীর দেশসমূহের অবস্থান নির্ণয় করে৷ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি প্রয়োগ করে ৮৭টি অনুসূচকের দ্বারা প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক এ সূচি তারা প্রকাশ করে থাকে৷ বিশ্বের আরও কয়েকটি সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করলেও আরএসএফ এর সূচকটি তুলনামূলকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়৷ কেননা প্রচলিত ক্যাটাগরির বাইরেও তারা দেশগুলোতে সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করে থাকে৷

যে ছয়টি প্রধান ক্যাটাগরি প্রয়োগ করে এখানে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, সেগুলো হলো গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য (মিডিয়া প্লুরালিজম), গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সেল্ফ সেন্সরশিপ, গণমাধ্যম বিষয়ক আইন, সংবাদমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও অবকাঠামো৷ এসব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন, তা একটু দেখে নেয়া যাক৷

বাংলাদেশে দৈনিক সংবাদপত্রের সংখ্যা বর্তমানে ১ হাজার ২৪৮টি; অনলাইন পত্রিকা আছে ১ হাজার ৮৭৪টি, রয়েছে ২৫টির মতো টেলিভিশন চ্যানেল৷ এছাড়াও রয়েছে এফএম রেডিও ও কমিউনিটি রেডিও; সিংহভাগ নাগরিকের রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ৷ এতসব দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য নিশ্চিতে বাংলাদেশ সফল৷ কিন্তু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানি এবং গণমাধ্যম সম্পর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কতিপয় ধারা বিবেচনায় দেখা যায় যে গণমাধ্যমের সংখ্যাধিক্য থাকলেও সকলে সমানভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা না পাওয়ায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সংবাদক্ষেত্র তৈরি হয়নি বিধায় এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর কমে গেছে৷

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সেল্ফ সেন্সরশিপ ক্যাটাগরি দুটি পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল৷ ব্যাপারটি এমন যে সংবাদকর্মী নিজেই নিজের সংবাদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করছেন৷ অর্থাৎ স্বার্থান্বেষী মহল স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অনুগত ব্যক্তিদের হাতে সংবাদমাধ্যমের কর্তৃত্ব তুলে দিতে পারলে উক্ত সংবাদমাধ্যমে সুবিধাজনক সংবাদ প্রচার সহজ হয়৷ এক্ষেত্রে দেখা যায় সংবাদমাধ্যমটির কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ স্বর্থসংশ্লিষ্ট পর্যায়ের পক্ষে যায় এমন সংবাদটুকুই প্রচারে উদ্যোগী হয়৷ পৃথিবীর বহু দেশে এভাবে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করার ইতিহাস রয়েছে৷ বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে বলে আরএসএফ মনে করে৷

সবচাইতে বড় যে দিকটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে নেতিবাচক অবস্থানে অবনত করেছে, সেটি হলো গণমাধ্যম বিষয়ক আইন৷ বিশেষত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭নং ধারা এবং এর অপব্যবহারের সুযোগ ও ইতোমধ্যেই সে সংশ্লিষ্ট সংঘটিত ঘটনাবলির কারণে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে৷ স্বচ্ছতার সাথে সংবাদ পরিবেশন এবং সাহসী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে অনেকেই একটি বড় বাধা হিসেবে দেখছেন৷ যদিও সরকারের পক্ষ থেকে অভয় দেয়ার চেষ্টা চলেছে, তথাপি এ আইনের কঠোরতা, অপব্যবহারের সুযোগ এবং শাস্তির ভয়াবহতাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে হুমকি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা৷

এ সকল দিক বিবেচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে বেশ হতাশাব্যঞ্জক৷ ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০৷ অথচ আগের বছরেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪ ধাপ উপরে ১৪৬-এ৷ বাংলাদেশের এ অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন৷ এমনকি পাকিস্তানের অবস্থানও বাংলাদেশের চাইতে ৮ ধাপ উপরে৷ যেহেতু শক্তিশালী ও মজবুত গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে স্বাধীন গণমাধ্যম৷ তাই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ৷ আর এ চ্যালেঞ্জে উতরে যেতে না পারলে দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে— সন্দেহ নেই৷

ওডি/আরএইচএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড