• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই, সতর্ক হতে হবে

  সম্পাদকীয়

০৯ মে ২০১৯, ১৬:০৩
সম্পাদকীয়

পৃথিবীব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিস্তার দিনকে দিন আরও মারাত্মক জটিল আকার ধারণ করছে৷  সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো পারস্পরিক বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়ে প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধের যে রক্তখেলায় মেতে উঠেছে, সেটা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের চেহারাকে নতুন রূপে আবিষ্কার করছে৷

২০১৭ সালে স্টকহোমে ট্রাক হামলার সময় নিহত এবা-র মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ২০১১ সালে নরওয়েতে ঘটে যাওয়া হামলা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা করা হলো ২০১৯ সালের মার্চে৷ মুসলিমদের ওপর সে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ বছর এপ্রিলেই হামলা করা হলো শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জায়৷ না জানি এর প্রতিশোধস্বরূপ আবার কোথায় মুসলিমদের ওপর হামলা হয়৷ এ ধরনের হিংসা-প্রতিহিংসা, আঘাত-প্রত্যাঘাত, শোধ-প্রতিশোধের প্রবণতা মানবসভ্যতাকে এক কঠিন ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷

শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে, সুইডেন ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে যখন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, সুখী দেশগুলোর অন্যতম নেদারল্যান্ডসে, ফ্রান্সে ও স্পেনে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন এই ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ একটি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এখন আর বন্দুক, স্টেনগান, বোমা, গ্রেনেড ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রের ওপর নির্ভর করারও দরকার পড়ে না। ট্রাকচাপা দিয়েও যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানো যায়, তার দৃষ্টান্তও তো পৃথিবীতে রয়েছে৷ কেবল চলতি বছরেই এক মাসের মধ্যে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ এসব হামলার ঝুঁকি থেকে তাই কোনো দেশই আর নিরাপদ নয়; বাংলাদেশও৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার ভয়ঙ্কর ইতিহাস রয়েছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৪০টি হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস এবং আল কায়েদা ইন দি ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট-আইকিউআইএস৷ তবে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে অনেক হামলাচেষ্টা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও সে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷ স্থানীয় জঙ্গিদের পরাস্ত করতে এবং দেশে জঙ্গি-তৎপরতাকে অকার্যকর করতে বাংলাদেশ সরকারের সফলতা পৃথিবীর অনেক দেশের কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ তাই সরকারকে এর কৃতিত্ব দিতেই হয়৷

যদিও স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে খুব বেশি আশঙ্কা নেই; তবে সম্প্রতি ব্রাসেলসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তাহীনতা তথা জঙ্গিবাদকে উসকে দিতে পারে। এ সম্ভাবনা ধীরে ধীরে প্রবল হচ্ছে৷ তাছাড়া, শ্রীলঙ্কায় হামলার পরপরই ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আইএস এর একটি বার্তা দায়িত্বশীল মহলকে কিছুটা যে ভাবিয়ে তুলছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই৷

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আইএসপন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বাংলায় লেখা একটি পোস্টারের সূত্রে এই হামলা-পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। সে পোস্টারে বাংলায় লেখা হয়েছে ’শিগগিরই আসছি’। শ্রীলঙ্কার একাধিক গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কয়েকদিনের মাথায় এ ধরনের হুমকির খবর দুশ্চিন্তার উদ্রেক করেছে৷ টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পোস্টারে 'শিগগিরই আসছি ইনশাল্লাহ' লেখার পাশাপাশি আল মুসারাত নামে একটি গ্রুপের লোগো সংযুক্ত রয়েছে। এ থেকেই তারা ধারণা করছে যে এটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে হামলার ইঙ্গিত হতে পারে। আইএস এর কেন্দ্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের (নব্য জেএমবি) মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থান জোরালো করেছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সূত্রে এমনটাই দাবি করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া৷ তাদের দাবি— কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশি কয়েকটি রাজ্যে সদস্য নিয়োগ ও আস্তানা তৈরি করেছে জেএমবি। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার পর এমন পোস্টার প্রকাশকে তাই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বলে জানা গেছে৷

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশে এ ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা না থাকলেও ঝুঁকি রয়েছে৷ সুতরাং এসব বিষয়ে আমাদের নিশ্চিন্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই৷ ইতোমধ্যেই জানা গেছে যে শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা সংস্থা সেখানে ছোটখাট একটি হামলার তথ্য আগেই পেয়েছিল৷ কিন্তু যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা উদ্যোগী হয়নি৷ 'ছোটখাট' হামলার কথা বলা হলেও কী ভয়ানক হামলার ঘটনা সেখানে ঘটে গেল৷ তাই ছোটবড় যে কোনো আশঙ্কার ব্যাপারেই আমাদের সচেতন থাকতে হবে৷ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও আরও অনেক বেশি তৎপর ও সতর্ক থাকতে হবে৷ এসব ব্যাপারকে হালকাভাবে নেয়ার আর কোনো সুযোগ নেই৷

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড