• শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভ্যাট আদায়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

  অধিকার ডেস্ক

০৮ মে ২০১৯, ১৯:২৮

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হলো বিক্রেতার মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা কর বা ট্যাক্স যার চূড়ান্ত প্রাপক সরকার। সরকারের আয়ের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে ভ্যাট। সম্প্রতি ভ্যাট আইনে বড় পরিবর্তনের কথা বলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড়, আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন বিধান সংযোজনের আভাস পাওয়া গেছে।

এনবিআর যে সকল পরিবর্তনের প্রস্তাব পেশ করেছে, তার মধ্যে একটি হলো বার্ষিক টার্নওভারের সীমা বৃদ্ধি। বর্তমানে এ সীমা ৮০ লাখ টাকা; নতুন আইনে এটি বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে৷ সীমা। বৃদ্ধির পাশাপাশি টার্নওভার ট্যাক্সের হারও বর্তমানের ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হবে। অর্থাৎ ৩ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ শতাংশ বেশি হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে৷ আইনে এ পরিবর্তনের সুফল ভোগ করবে অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে বড় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভ্যাটের চাপ নিতে হবে। এর আওতায় পড়বেন পাইকারি পণ্য ব্যবসায়ী ও পণ্যের উৎপাদকগণ। এখানে ভ্যাটের চাপ বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের দামের ওপর৷ অতিরিক্ত ভ্যাটের চাপ কমাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা ভোক্তার কাছ থেকেই আদায় করে নেয়ার চেষ্টা থাকবে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে ভ্যাট অব্যাহতির সীমায়৷ বর্তমানে যে সকল প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বছরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত, তাদের কোনো ভ্যাট দিতে হয় না।নতুন প্রস্তাবে এ সীমা ৫০ লাখ করা হচ্ছে৷ ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের অধীনে যারা প্যাকেজ ভ্যাট দিতেন, মূলত তাদের ছাড় দিতেই অব্যাহতির সীমা বাড়ানো হচ্ছে। এ পরিবর্তনের আওতায় পড়ছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ আগামী বাজেটেও ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে৷ তবে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের চাইতে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবসায়ীরাও ভ্যাট অব্যাহতির সুযোগ পাচ্ছেন।

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে ভ্যালু প্রথাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। বর্তমানে প্রচলিত ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা উঠিয়ে দিয়ে চালু করা হবে বাজারভিত্তিক ভ্যালু প্রথা। এর প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে দাম বাড়বে বেশিরভাগ পণ্যের। উদাহরণস্বরূপ : বর্তমানে প্রতি কেজিতে এলপি গ্যাসের ট্যারিফ ভ্যালু ৩ টাকা। এ ৩ টাকার ওপরেই ভোক্তাকে ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু বাজারভিত্তিক ভ্যালু প্রথা চালু হলে ভ্যাট আরোপিত হবে পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন খরচের ওপর। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবেই পণ্যের ওপর ভ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে৷ ফলে বাড়বে পণ্যের দামও। সকল খাতে এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বিধায় অত্যাবশ্যকীয় কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ স্কিম চালু করার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়াম ও ঔষধসহ বেশ কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে এ স্কিম চালু করার মাধ্যমে এসব পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নতুন আইনে ভ্যাটের হার রাখা হয়েছে ১৫ শতাংশ৷ এটি পরিবর্তন করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। তবে নতুন আইনে ভ্যাটের ইউনিক হার ১৫ শতাংশই থাকছে। এর মানে হচ্ছে, এই ১৫ শতাংশ হারে যারা ভ্যাট দেবেন, বছর শেষে চূড়ান্ত হিসাবে বাড়তি ভ্যাট দিয়ে থাকলে তারা রিবেট পাবেন। তবে ভ্যাটের অন্য যে হারগুলো রয়েছে- ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ ও ১০ শতাংশ; এ হারে ভ্যাটের আওতায় যারা পড়বেন, তারা কোনো রিবেট পাবেন না।

নতুন আইনের যে প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো ব্যবসায়-বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও কাজ করবে। তবে ভোক্তারা যে ভ্যাট দেয়, তার সম্পূর্ণ অংশ সরকারের কাছে না পৌঁছলে সকল প্রচেষ্টাই অর্থহীন। তথ্য বলছে, এনবিআরে সাড়ে ৭ লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত হলেও রিটার্ন দাখিল করে গড়ে মাত্র ৩০-৩২ হাজার। এছাড়া গত পাঁচ অর্থবছরে মোট ভ্যাটের ৫৬ শতাংশ আদায় হয়েছে মাত্র ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। তাই ভ্যাট ফাঁকি রোধে ভ্যাট আদায়ের কার্যকর অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। ইতোমধ্যেই সরকার অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের অবকাঠামো তৈরি করলেও সব ক্ষেত্রে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। ভোক্তার কাছ থেকে আদায়কৃত ভ্যাটের অর্থ থেকে কেউ যেন সরকারকে বঞ্চিত করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোরতর অবস্থান গ্রহণের বিকল্প নেই।

ওডি/আরএডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড