• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে সুসংহত বন্ড মার্কেট তৈরি করতে হবে

  সম্পাদকীয়

৩০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৬
সম্পাদকীয়

বর্তমানে দেশের অবকাঠামোসহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত৷ দেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের শক্তিবৃদ্ধির বিকল্প নেই৷

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্য ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ— এটিই প্রমাণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ গতি পেয়েছে। এ ধারা যে কোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে৷ এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ কাছাকাছি সময়েই সারা পৃথিবীতে শক্তিশালী অর্থনীতির একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশে সমর্থ হবে৷

কিন্তু এটি নিশ্চিত করতে অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন৷ ঢাকা চেম্বার বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের জন্য এ খাতে ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বন্ড মার্কেট বিষয়ক একটি রিপোর্টে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ প্রয়োজন। পানি, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, নদীবন্দর, বিমানবন্দর, রেল ও সড়কপথের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এ অর্থ প্রয়োজন হবে। যদিও বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, এই প্রয়োজনীয় অর্থের মধ্যে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে; এরপরেও অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি থেকেই যাবে৷

অবকাঠামো-উন্নয়নের এ কর্মযজ্ঞে আমাদের জাতীয় বাজেটের ওপর যাতে ব্যাপকভাবে নির্ভরতা তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে বেসরকারি খাতকে অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে৷ কিন্তু অবকাঠামো-উন্নয়নের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থান প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে ব্যাংকখাত যথোপযুক্ত উৎস নয়৷ বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কাজ করছে, তা সুদীর্ঘকাল ধরে চলতে পারে না৷ কেননা এভাবে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেই অপ্রত্যাশিত অস্থিতিশীলতা তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এই সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ থাকতে হলে দেশের বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করে তোলা প্রয়োজন৷ কেননা বন্ড  ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে৷

দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সামনের দিনগুলোতে আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার, বন্ড মার্কেট, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং পেনশন ফান্ডের মতো বিবিধ উৎসের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারার সক্ষমতা রয়েছে৷ পুঁজিবাজার এবং বিশেষ করে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা আবশ্যক; কেননা এ দুটো অনুষঙ্গ সমন্বিতভাবে দেশের অবকাঠামো খাতের অর্থায়ন সহজতর করে তুলতে পারবে৷

দেশে সরকারিভাবে গৃহীত বড় বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের প্রয়োজন হচ্ছে; আর এ প্রয়োজন মেটাতে বন্ড প্রধান সহায়ক হয়ে উঠতে পারে৷ তাছাড়া করপোরেট বন্ড, সাব-অরডিনেট বন্ড, ডিবেঞ্চার, ডলার বন্ডসহ নানা ধরনের বন্ড রয়েছে যা প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে লাভজনক বিনিয়োগেরও একটি খাত হতে পারে। তবে বন্ড ইস্যুর সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ সংস্থাগুলোর মধ্যস্থ সমন্বয়হীনতার কারণে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ তাছাড়া বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের উভয় ক্ষেত্রেই কর দিতে হয় বলে অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান না৷ এমন অনেক কারণে বড় ধরনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট বিকশিত হচ্ছে না। বিশেষত কর্পোরেট বন্ডের অনুপস্থিতির কারণে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটের অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। একটি তৎপর কর্পোরেট বন্ড মার্কেট ব্যাংক ঋণের ওপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ভরশীলতা হ্রাসে দারুণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎসের সাথে সংযুক্ত করে দিতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে৷

যে কোনো দেশের জন্যই একটি টেকসই এবং যথাযথ অবকাঠামো দরকার। তাই এ অবকাঠামোর জন্য অর্থায়নটিও যেন যথাযথ হয়, তা নিশ্চিত করাও আবশ্যক৷ এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং শক্তিশালী বন্ড মার্কেট নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও তৎপর ও সচেতন হতে হবে৷

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড