• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

তারা ব্যবসায়ী, আমরাও; পার্থক্য নৈতিকতায়!

  সম্পাদকীয়

২৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:২৩
সম্পাদকীয়

আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের চাইতে আলাদা৷ এখানে মূল্যবৃদ্ধি পণ্যের উৎপাদন বা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামার ওপর নির্ভর করে না; এখানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয় তারিখ ও দিবস মেপে৷ যে গোলাপ সাধারণভাবে ৫ টাকায় বিক্রয় হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনের জন্য তার দাম হবে ২০-৫০ টাকা৷ ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে বাড়বে যে কোনো ফুলের দাম৷ ১৪ এপ্রিলের আগ দিয়ে বাড়বে মাছের দাম৷ রমযান আসলে সেসব পণ্যের দামই বাড়বে, যেগুলো রমজান মাসে অধিক ব্যবহৃত হয়৷ আর ইদে বাড়বে সেমাই-চিনি-মাংসসহ পোশাক-আশাকের দাম৷ সবচাইতে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই যে দামগুলো বৃদ্ধি পায়, এর জন্য নিগূঢ় কোনো যৌক্তিক কারণ দরকার হয় না৷

অথচ পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশেই যে কোনো উৎসব-আয়োজন ও বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম কমে৷ পবিত্র বড়দিন উপলক্ষে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে বাজারে বিশাল মূল্যহ্রাস প্রথা চালু আছে৷ পাশের দেশ ভারতেও পূজার সময় পণ্যদ্রব্যের মূল্যহ্রাসের রীতি প্রচলিত৷ পবিত্র রমযান উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তো বটেই, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রমযানের ব্যবহার্য সকল পণ্যের দাম কমানো হয়৷ এগুলো করেন ব্যবসায়ীরা স্বয়ং, নিজ নিজ উদ্যোগে৷

আসন্ন রমযান উপলক্ষে সম্প্রতি আরব আমিরাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বলা চলে মূল্যহ্রাসের এক রকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে৷ পবিত্র এ মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যে বিশেষ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আরব আমিরাতের অধিকাংশ বড় মার্কেট, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও মেগাশপগুলোতে এরই মধ্যে বিশেষ মূল্যহ্রাস সম্পর্কিত নানা ধরনের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এমনকি নামাজের পর মসজিদগুলোর সামনে মুসল্লিদের মাঝে বিলি করা হচ্ছে মূল্যহ্রাসের বিজ্ঞাপন বিষয়ক প্রসপেক্টাস৷

কিন্তু বাংলাদেশে সম্পূর্ণ তার উল্টো৷ এখানে কোনো উৎসব-উপলক্ষ মানেই মানুষকে জিম্মি করে অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ৷ তাই তো রমযান আসার প্রাক্কালেই পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, সবজি, ছোলা, চিনি, মাছসহ রমযানের সময়টাতে নিত্যব্যবহার্য প্রায় সকল পণ্যের দামই বেড়ে গেছে ইতোমধ্যেই৷

সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না করতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানানো হলেও সে আহ্বানে সাড়া দেয়া মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়৷ উল্টো সিন্ডিকেট করে উৎপাদক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন৷ কখনও কখনও আবার বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যায়৷

মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর সকল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র যেখানে অধিক সওয়াব এবং মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আশায় রমযান উপলক্ষে পণ্যের মূল্য হ্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মুসল্লিদের কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট, সেখানে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা মানুষকে অধিক ভোগান্তি ও অস্বস্তিতে ফেলে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত৷

রমযান মুসলিম বিশ্বের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত৷ এ মাস সংযম ও নাজাতের মাস, এ মাস পাপমুক্তির মাস৷ অথচ ধর্মীয় চেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ও মৌসুমী ব্যবসায়ী যে ধরনের মূল্যসন্ত্রাসে মেতে উঠেছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অনেকে পণ্যদ্রব্য মাসের পর মাস গুদামজাত করে রেখে বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে থাকেন, যদিও মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোগ্যপণ্য (বিশেষত খাদ্যশস্য) ৪০ দিনের বেশি মজুদ করে রাখা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে আছে, কোনো ব্যক্তি যদি মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্যশস্য ৪০ দিনের বেশি মজুদ রাখে, তাহলে তার কাফ্‌ফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে না। তাই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করলেও অন্তত ধর্মীয় নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হলেও রমযানে নিত্যভোগ্য পণ্যের মূল্যহ্রাসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত৷

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড