• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

নিরাপদ পানি নিশ্চিতে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন 

  সম্পাদকীয় ডেস্ক ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৩

সম্পাদকীয়

আগে বলা হতো— পানির অপর নাম জীবন; অথচ এখন বলা হচ্ছে— বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন৷ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে একটিমাত্র উপাদানই আছে যা ক্যালরি, চর্বি, শর্করা ও চিনি হতে পুরোপুরি মুক্ত; সেটা হলো পানি। আমাদের শারীরিক নানান প্রক্রিয়ায় পানির গুরুত্ব নিশ্চয়ই নতুন করে বলার কিছু নয়৷ আমাদের রক্তে ও কোষে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানসমূহ সরবরাহে প্রধান ভূমিকা রাখে পানি। পানি পান করলে শরীরের রক্ত সরবরাহ ও সঞ্চালনে যেমন সুবিধা হয়, আবার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও পানিই সবচাইতে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে৷ পানি হজমপ্রক্রিয়া ঠিক রাখার পাশাপাশি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রক্ষা করে৷ কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে পানি৷ এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানো, চর্বি জমতে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে ওজন হ্রাসে সাহায্য করা, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পানির আরও অসংখ্য উপকারী দিক রয়েছে যা বর্ণনা করে শেষ করার নয়৷

এত এত উপকার করছে যে পানি, সে পানির বিশুদ্ধতার গুরুত্বও সহজেই অনুমেয়৷ তথ্য বলছে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে সৃষ্ট নানা রোগবালাইয়ে দেশে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ৫০ হাজার শিশু। এ কারণেই সম্ভবত বর্তমানে পানিকে নয়, বিশুদ্ধ পানিকে জীবনের সমার্থক বলে উল্লেখ করা হচ্ছে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে সংখ্যাটি সাড়ে সাত কোটি৷ অর্থাৎ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ অনিরাপদ পানি পান করছে৷ দেশের ৯৭ শতাংশ মানষকে পানি সরবরাহের আওতায় আনা সম্ভব হলেও বিশুদ্ধ পানির এ সংকট অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বৈকি৷

ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই এমন দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি৷ আবার জাতিসংঘের পানি বিষয়ক সংস্থা বলছে, পানি নিয়ে সবচাইতে বেশি নিরাপত্তা-ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশে রয়েছে একেবারে উপরের দিকে৷ কিন্তু এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে কারণ কী? এর মূল কারণ ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার৷ বর্তমানে দেশের উপরিভাগের মাত্র ২.৫ ভাগ পানি ব্যবহার-উপযোগী। এমন বাস্তবতায় দেশের মোট চাহিদার ৯০ শতাংশই মেটানো হচ্ছে মাটির নিচের পানি দিয়ে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশে বর্তমানে নদী আছে মোট ৩১০টি, যার ৫৭টিই আন্তর্জাতিক নদী। এর মধ্যে ৫৪টি নদী ভারতের সাথে। এ নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে রয়েছে নানান জটিলতা৷ ভারত কর্তৃক কয়েকটি নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করার ফলে বর্ষার সময়েও অনেক নদীতেই পানির কাঙ্ক্ষিত প্রবাহ থাকে না; শুষ্ক মৌসুমের কথা তো বলাই বাহুল্য৷ এসব কারণে দেশের ১১৭টির মতো নদী এখন হয় মৃত, অথবা মৃতপ্রায়; এবং এর বেশিরভাগই গত ২০ বছরের ঘটনা৷ ফলে পানির চাহিদা মেটাতে আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর৷

বর্তমানে দেশে যে সকল উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার ৪১ শতাংশেই ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়৷ পাইপের মাধ্যমে বসতবাড়িতে সরবরাহ করা পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি প্রায় ৮২ শতাংশ, নলকূপের পানিতে ৩৮ শতাংশ। এই ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলি ও অন্ত্রের প্রদাহের জন্য প্রধানরূপে দায়ী। এছাড়া, দেশের ১৩ ভাগ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে বলেও জানা গেছে৷

এসব দূষিত ও অনিরাপদ পানি ব্যবহারের ফলে নানাবিধ রোগবালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয় তো বটেই, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের রোগ এবং গ্যাস্ট্রিকসহ ত্বকের নানা রোগেরও অন্যতম কারণ দূষিত পানি৷

এ সকল দিক বিবেচনায়, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের বিকল্প নেই। বিশেষত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নতকরণ, বর্ষায় পানি যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভূগর্ভে রক্ষিত হতে পারে তা নিশ্চিতকরণ, নদ-নদীর ড্রেজিং ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে৷ এছাড়া গভীর কূপ ও পুকুর খননের পাশাপাশি দূষিত পানি ও কলকারকানার বর্জ্য নিষ্কাশনেও ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া দরকার৷

ওডি/আরএইচএস 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড