• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

মানবপাচার বিষয়ক মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে কবে?

  অধিকার ডেস্ক    ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:২৬

পৃথিবীর যেসব দেশ থেকে মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ যায়, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ একটি দেশ৷ প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করতে দেশের বাইরে যাচ্ছে৷ ২০১৮ সালে সারা দেশ থেকে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বিদেশে গিয়েছেন৷ ২০১৭ সালে সংখ্যাটি ছিল সাড়ে সাত লাখের মতো৷ অর্থাৎ বাংলাদেশিদের প্রবাসে যাবার হার প্রতি বছর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে৷

ব্যাপক হারে মানুষ দেশের বাইরে যাওয়ায় অনিয়মও চলছে ব্যাপক হারে৷ একদিকে দালালচক্র যেমন হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা, আবার মানবপাচারের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে৷ সঠিক তথ্য জানা না থাকার ফলে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই হয়রানির শিকার হচ্ছে, শিকার হচ্ছে পাচারের৷ গত কয়েক বছরে দেশে মানবপাচারের ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টায়ার-২ ওয়াচ লিস্টে রাখা হয়েছে। মানবপাচারের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ২০১২ সালে দেশে 'মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়৷ এ আইন প্রণীত হবার পর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭১৬টি মামলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে খুবই নগণ্য সংখ্যক মামলার৷

মানবপাচারের ঘটনা বিভিন্ন রূপে ঘটে থাকে৷ কিছুকাল আগেও সাগরপথে হাজার হাজার মানুষের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড গমনের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় ছিল৷ এরই মধ্যে মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ছাত্র ও পর্যটক সাজিয়ে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোসহ নানা উপায়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা চলছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম অভিবাসনের নামেও পাচার বেড়েছে। এসব কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে৷

সময়ের সাথে সাথে এসব সমস্যা আরও ঘণিভূত হচ্ছে৷ তাই আরও অনেক ভয়াবহ রূপ নেয়ার আগেই, নিয়ন্ত্রণের একেবারে বাইরে চলে যাবার আগেই মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন৷ মানবপাচারের অন্যতম কারণ হচ্ছে, যারা বিদেশে যাচ্ছেন তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানের অভাব৷ বিদেশগামী বেশিরভাগেরই সে দেশের ভাষা জানা থাকে না বলে এটা মানবপাচারে যুক্তদের সাহায্য করে৷ তাই, বিদেশযাত্রার আগে গমনেচ্ছুদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহসহ ন্যূনতম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার৷ দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থায়ও যথেষ্ট দুর্বলতা রয়ে গেছে৷ তাই নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে কী কী করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করতে হবে৷ এর বাইরেও সবচাইতে বেশি যেটা দরকার, সেটা হলো আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ৷ যে হাজার হাজার মানবপাচার মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে, নিষ্পত্তি হচ্ছে না, সেগুলো নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷ মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ যত দ্রুত সম্ভব এটা বাস্তবায়ন করতে হবে৷ তবে, কেবল ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই হবে না, সেগুলোকে দক্ষতার সাথে কার্যপরিচালনা করতে হবে৷ কেননা তথ্য বলছে, কেবল কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের হালনাগাদ (ফেব্রুয়ারি-২০১৯) মামলার বিবরণী তালিকাতেই মানবপাচারসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০১। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ৪০১টি মামলার একটিও গত আট বছরে নিষ্পত্তি হয়নি৷ ফলাফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে, মামলার আসামিরা জামিন নিয়ে ফিরে গিয়ে পুনরায় মানবপাচারের সাথে যুক্ত হচ্ছে৷

আবার, মানবপাচারের ঘটনা কমিয়ে আনতে কেবল ক্ষুদ্র পর্যায়ের পাচারকারীদের ধরলে হবে না, বিভিন্ন দেশে বসে যারা এ কাজগুলো পরিচালনা করছে, সেই সব মূল হোতাদের ধরতে হবে৷ এটা সম্ভব করতে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে এসব বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে৷ পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাবার আগেই যেভাবেই হোক যে কোনো মূল্যে যত দ্রুত সম্ভব মানবপাচার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ প্রসারিত করার কোনো বিকল্প নেই৷

ওডি/আরএডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড