• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

নতুন কৃষককে খুঁজে স্বল্পসুদে ঋণ দিচ্ছে কৃষি ব্যাংক

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

১৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৩
বিকেবি
(ছবি: সংগৃহীত)

কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) নতুন করে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা নতুন কৃষককে খুঁজে বের করে তাদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা এ জন্য নতুন প্রকল্পও হাতে নিয়েছে।  

জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৫ জন নতুন কৃষককে ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ফলে গত অর্থবছরে এই ব্যাংক কৃষি খাতে মোট ৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।   

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন, বিশেষায়িত ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো গত অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়।   

সাধারণত ব্যাংক সরাসরি কৃষি ঋণ দিলে সেখানে সুদের হার হয় ৯ শতাংশ। অথচ এনজিওর মাধ্যমে এই ঋণ দিলে সুদহার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অথচ ব্যাংকগুলো এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণেই প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ, এখানে ব্যাংকের কোনো কার্যক্রম থাকে না এবং এর ফলে খরচও কমে যায়। তবে কৃষি ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় এখানেই আলাদা। কেননা তারা সরাসরি কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঋণ পাননি এমন কৃষককেও খুঁজছে তারা।   

এ দিকে গত মে মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কৃষি ও পল্লী পরিসংখ্যান জরিপের ফল প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, কৃষকেরা যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা পান, তার ৬৩ শতাংশই এনজিও থেকে পান। আর ব্যাংক খাত থেকে পান মাত্র ২৭ শতাংশ। এছাড়া মহাজন ও আত্মীয়স্বজন থেকে ধারকর্জ  করেন ১০ শতাংশ কৃষক।   

সেখানে আরও দেখা গেছে, দেশের ২ কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৪টি পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৫টি পরিবার কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পরিবার ঢাকা বিভাগে, এরপরই চট্টগ্রাম বিভাগে এবং পরবর্তীতে আছে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ।  

বিকেবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষকের হাতে সরাসরি ঋণ পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যেসব কৃষক ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণসুবিধা না পেয়ে বেশি সুদে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছেন, তাঁদের কাছে আমরা ঋণ পৌঁছে দিতে চাই। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) একটি লক্ষ্য পূরণ হবে। দেশও এগিয়ে যাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ কৃষিনির্ভর। আর কৃষি ব্যাংক হবে শুধু কৃষকদের জন্য। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি।’ 

গত অর্থবছরে বিকেবি পৌনে দুই লাখ কৃষককে নতুন ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি গত প্রায় চার লাখ নতুন আমানতকারীও তৈরি করেছে। ফলে নানা অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি যে খারাপ অবস্থায় চলে যাচ্ছিল, সেখান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত জুনে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ কমে নেমে এসেছে ১৭ শতাংশে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১ শতাংশ।   

তবে কয়েকটি বড় খেলাপি গ্রাহকের কারণে ব্যাংকটিকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এর মধ্যে ফেয়ার ইয়ার্নের খেলাপি ঋণ ৩১৩ কোটি টাকা, আনিকা ট্রেডার্সের ১০১ কোটি, এস এ অয়েলের ৮৬ কোটি ও রহমান ট্রেডিংয়ের ৬২ কোটি টাকা রয়েছে।   

প্রতি বছর ব্যাংকটি পয়লা বৈশাখে হালখাতা আয়োজন করে খেলাপি ঋণ আদায় করে। গত অর্থবছরে এর মাধ্যমে ব্যাংকটি ৫৭৪ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছিল।   

এ ছাড়া বিকেবি প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রেও বেশ সফল। ব্যাংকটির মাধ্যমে গত অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ১ হাজার ৩৭টি শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলেই তারা এই সফলতার মুখ দেখেছে। 

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড