• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গেল বছর ৩২৫ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখেছে বীমা কর্পোরেশন

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৩:২৬
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন
(ছবি: সংগৃহীত)

সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ২০১৮ সালের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী (নিরীক্ষিত) ৩২৫ কোটি টাকা লাভ করেছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তারা ২০১৭ সালে প্রায় ২০৩ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করেছে।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোষাগারে ৪০ কোটি টাকার নন-ট্যাক্স রাজস্ব জমা দিয়েছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৬৫ কোটি অগ্রিম আয়কর এবং ৬৪ কোটি টাকার ভ্যাট প্রদান করেছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে কর্পোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক সুপ্রতিভ হালদার জানান, দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি মোকাবেলার মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা রাখছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন। বীমা দাবি পরিশোধ না করার মতো অভিযোগ নেই বললেই চলে। এমনটি ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবির নিষ্পত্তির হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সূত্র থেকে জানা গেছে, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন প্রথমবারের মত বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর  মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর ইন-অরবিট ইনস্যুরেন্স গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের বীমা অংকের পরিমাণ ১৪০ মিলিয়ন ইউরো।

পাশাপাশি সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথ দোহাজারী থেকে কক্সবাজার, পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, বঙ্গবন্ধু টানেল ও মেট্রো রেল প্রকল্পগুলোর বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

কর্পোরেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দেশের বীমা আইন ও বিধি যুগোপযোগী করার বিষয়েও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। সৈয়দ শাহরিয়ার প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদানের পর ১৯৮৪ সালে প্রণীত অর্গানোগ্রাম, ১৯৯০ সালে প্রণীত ভ্রমণ প্রবিধানমালা ও ১৯৯২ সালে প্রণীত সার্ভিস রুলস, গৃহনির্মাণ অগ্রিম বিধিমালাসহ শৃঙ্খলতাজনিত অন্যান্য বিধি-বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।

পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের ডীন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এ বিষয়ে তাঁকে সার্বিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন ।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ শাহরিয়ার জানান, ‘ইতোমধ্যেই সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্যবীমার পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবাভূক্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন গবাদি পশু বীমা চালু করার পরিকল্পনা করছে। তাছাড়া বর্তমানে চাকুরীজীবী স্বাস্থ্য বীমা, বেকারত্ব ও মাতৃত্বকালীন বীমা নামে দুটি বীমা পলিসি চালুর প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।’   

এছাড়া বীমা কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে বীমা ও পুনঃবীমা ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’

কর্পোরেশনের আয়-বৃদ্ধি, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন,আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নতুন বীমা পণ্য  উদ্ভাবন, ডিজিটাল সেবা প্রদান করা ও বীমা ব্যবসায় পেশাদারী মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে একটি অন্যতম সেরা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারীদের অবদান কম কিছু নয় বলেও জানান এই পরিচালক।

ওডি/টিএফ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড