• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বন্ধ হলো এক লাখ ১৪ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট 

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

১৫ জুলাই ২০১৯, ১৪:২১
বিও অ্যাকাউন্ট

গত এক মাসে শেয়ারবাজারে নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেওয়ায় এক লাখ ১৪ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির ৪৪টি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) ৯ হাজার ৫২৫ অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এখন এসব অ্যাকাউন্ট আর লেট ফি দিয়েও চালু করা সম্ভব নয়।  ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই নবায়ন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। 


সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধের তালিকা পাঠানো শুরু করে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের শেয়ারবাজারে এখন মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৭ লাখ ২১ হাজার। আর অর্থনীতিবিদরা বাজারের স্বচ্ছতায় এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিনিয়োগকারীদের অমনিবাস অ্যাকাউন্ট (বিশেষ অ্যাকাউন্ট) বন্ধ হয়েছে। বাজারে স্বচ্ছতা আনতে হলে বিও অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ বিদ্যমান আইন পরিপালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৫০০ টাকা লাগে। এর মধ্যে সিডিবিএল ১৫০ টাকা, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয় বলে সূত্র থেকে জানা গেছে।

নিয়মানুযায়ী, প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এই ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। চলতি বছর ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সক্রিয়তা বিবেচনা করে বছরের বিভিন্ন সময়ে অ্যাকাউন্ট বাতিল করে। আর যারা নবায়ন ফি দিতে পারে না, জুনে বেশির ভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। গত ১১ জুন শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৩৫ হাজার। আর এখন অ্যাকাউন্ট বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তা ২৭ লাখ ২১ হাজারে নেমে এসেছে। যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ২৫ লাখ ৪৮ হাজার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক লাখ ৬০ হাজার এবং  বিভিন্ন কোম্পানি ১৩ হাজার ২৩০টি।
 
সিডিবিএল থেকে জানা গেছে, ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও অলিখিতভাবে আরও কিছু দিন  সময় রয়েছে। এখনো কিছু হাউস তালিকা পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়বে। এ প্রক্রিয়ায় গত বছর দুই লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়েছিল।

এছাড়া যেসব অ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে, অথবা টাকা জমা আছে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু হাউস অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত জমা দিয়েছে। তাদের ওইসকল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি।   

সিডিবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউস থেকে বন্ধের তালিকা পাঠানো হয়। এটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে এখানে সিডিবিএলের খুব বেশি কিছু করার নেই। আর কোনো অ্যাকাউন্ট যদি একবার বন্ধ হয়, তাহলে সেটি আর চালু হয় না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩ এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাব রক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেওয়া হতো।
  
তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি দেওয়ার সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময় বিও নবায়ন ফি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। পরে বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। আর তা না হলে অ্যাকাউন্ট বাতিল করা  হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়। 
 
জানা গেছে,  সারা দেশে ২৭ লাখ ২১ হাজার বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ঢাকায় ২২ লাখ এবং ঢাকার বাইরে ৫ লাখের কিছুটা বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩ হাজার সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে যেগুলো থেকে শেয়ার আছে এবং এগুলো থেকে নিয়মিত লেনদেন হয়। তাছাড়া ১০ লাখ ৩৮ অ্যাকাউন্টে মাঝে মাঝে শেয়ার থাকলেও বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

আরও জানা গেছে, এই সকল অ্যাকাউন্টের মধ্যে  চার লাখ ২৪ হাজার ২২৪টি বিও অ্যাকাউন্টে  কখনই কোনো শেয়ার ছিল না। সাধারণত আইপিওর জন্য এসব বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া লটারিতে কোনো শেয়ার বরাদ্দ পায়নি বলে এসব অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই।  
  
পূর্বে শেয়ারবাজারে আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। সেসময় একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ’ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতো। আর এসব বিওতে শুধু আইপিও আবেদন করা হয়। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। 

তাই পরবর্তীতে এই প্রবণতা রোধ করতে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। শুধু তাই নয়, বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা করা হয়। সেসময় অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা আনতে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাজার সংশ্লিষ্টদের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড