• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

এবার শেয়ারবাজারেও বন্ধ হলো পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৯
পিপলস লিজিং
(ছবি: সংগৃহীত)

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগের পর এবার শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোম্পানিটি অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে রবিবার (১৪ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।  
গণমাধ্যমে পিপলস লিজিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেক শেয়ারহোল্ডার পানির দরে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিতে চান। শুধু তাই নয়, কোম্পানি থেকে নামমাত্র অর্থে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলেও শেয়ারহোল্ডাররা ক্রেতার অভাবে শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি।   

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারা শেষ তিন কার্যদিবসে দফায় দফায় দাম কমিয়েও শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হন। তাই একরকম বাধ্য হয়েই ডিএসই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দিল। 

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও চরম অর্থ সঙ্কটের কারণে এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। আর এসব কারণেই প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যেই সরকারের সম্মতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান বলেন, এ মুহূর্তে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করা ছাড়া আমাদের উপায় ছিল না। গ্রুপ কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে অনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর  আমরা কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

প্রসঙ্গত,পিপলস লিজিং ২০১০ সাল পর্যন্ত ভালোই ছিল। তবে তদারকি দুর্বলতা ও পরিচালকদের অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন দেউলিয়ার পথে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালকরা পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন। 

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালকরা ভুয়া কাগজ তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটায়। আর এই ঘটনায় ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করে। শুধু প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করার ঘটনায় আত্মসাৎ হয় প্রায় সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকা।

ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমি রেজিস্ট্রির এ জালিয়াতির  মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১১৬ কোটি টাকা, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিন ২৯৮ কোটি টাকা, সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিন মিয়া ১০৭ কোটি টাকা, আরেফিন সামসুল আলামিন আত্মসাৎ করেন মর্মে প্রতিবেদন জমা দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন, হুমায়রা আলামিন ও খবির উদ্দিনকে অপসারণ করে। একই ঘটনায় তৎকালীন চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৯৭ সালে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলে। এছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে এর দুটি শাখা রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে আছে। গত ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি  টাকা। আর এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬  হাজার সাধারণ গ্রাহকের আছে ৭০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পিপলসের ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। 

সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটির কাছ থেকে আমানতকারীরা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। আর এখন প্রতিষ্ঠানটি যদি পথে বসে, তাহলে আমানতকারীদের এক টাকাও ফেরত পাওয়ার কোনও বিমা নিশ্চয়তা নেই। কেননা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো আমানত বিমা নেই। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন চেয়ে আদালতের কাছে যাচ্ছে। মূলত, আমানতকারীর অর্থ ফেরতসহ দায়-দেনা কীভাবে মেটানো হবে, তা আদালতের আদেশে নির্ধারিত হবে।

 ওডি/টিএফ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড