• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করদাতার সংখ্যা বাড়াতে মোবাইল অ্যাপস তৈরি করছে এনবিআর

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

০৯ জুলাই ২০১৯, ১১:৫১
এনবিআর
(ছবি: সংগৃহীত)

দেশের মানুষকে করদানে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং করদাতার সংখ্যা  বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ওয়েবভিত্তিক  নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যারা কর দিতে অনাগ্রহী, সেই সকল মানুষকে  করজালে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে বলে আশা করছে রাজস্ব প্রশাসন।  

এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আয়কর বিভাগের ৬৪৯টি করাঞ্চলকে মোবাইল অ্যাপসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা  ব্যক্তির কর পরিশোধ সনদ বৈধ কিংবা কার্যকর  আছি কি না অথবা সেই সনদের মেয়াদ আছে কি না , তা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো কারণে অ্যাপসটি যদি কার্যকর না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট করাঞ্চলে অভিযোগ করারও সুযোগ থাকছে।    

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একজন ক্রেতা বা সাধারণ নাগরিক যখন অ্যাপস ব্যবহার করে কোনো ব্যবসায়ী  প্রতিষ্ঠানের কর পরিশোধ সনদের বিষয়ে অভিযোগ করতে পারে, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কর প্রদানে সতর্ক হয়ে যায়। আর এই ভাবনা থেকেই এনবিআর ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এই মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সত্যিকার অর্থে যেন কর ফাঁকি রোধ হয় এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ে, এ জন্য আয়কর আইনে কিছুটা পরিবর্তনও আনা হবে। 

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে,  যে মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে, তাতে শুধু কর পরিশোধ সনদ যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। এছাড়া এখানে অন্য কোনো বাড়তি তথ্য থাকবে  না। পাশাপাশি কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিয়োজিত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ অন্যান্য পেশায় যাঁরা আছেন, তারা নিয়মিত কর না দিলে কর পরিশোধ সনদ আপনা-আপনি বাতিল হয়ে যায়। আর এর দ্বারা এটি প্রতীয়মান যে, অকার্যকর সনদ মানেই তিনি কর পরিশোধন করেননি। এজন্যই এর চেয়ে বাড়তি তথ্য অ্যাপস-এ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ৪০ লাখ মানুষ ইটিআইএনধারী। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ২০ লাখ আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) দাখিল করেন। অর্থাৎ অর্ধেক টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেন না। 

ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস চালু করা গেলে ইটিআইএনধারী ও রিটার্ন দাখিল জমাদানকারীর মধ্যে যে ব্যবধান আছে, সেটা অনায়াসে কমে আসবে এবং অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে বলে প্রশাসন আশা করছে। আর এতে কর ফাঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ শতাংশ এখন কর দেন। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। তাই আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশে করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

এ লক্ষ্য আমরা কাজও শুরু করেছি। কর জরিপ চলছে। এর পাশাপাশি কর অফিস ও জনবল বাড়ানো হবে। সর্বোপরি অনলাইন কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ানো যাবে, কর ফাঁকি রোধ করার পাশাপাশি করদাতার সংখ্যাও তত বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। আর  সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

ওডি/টিএফ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড