• সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

চলতি মাসেই ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা ক্যাটাগরি গঠিত হবে

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:৪০
বিএসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে পরিচালক ছাড়া যেসব কোম্পানি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ, তাদের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আলাদা ক্যাটাগরি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। 
 
বিএসইসি সম্প্রতি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এ নির্দেশনা দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আলাদা ক্যাটাগরি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন অনুসারে ২১ মে কমিশনের জারি করা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পাানির স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য  দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের সংশ্লিষ্ট ট্রেডিং বোর্ডে আলাদা একটি ক্যাটাগরি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা কমিশনের কাছ থেকে শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা ক্যাটাগরি গঠনের চিঠি পেয়েছি। ইতোমধ্যেই আমরা এজন্য কাজও শুরু করেছি। আশা করছি, এ মাসেই নতুন ক্যাটাগরি চালু করা হবে। 

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক বলেন, বিএসইসির কাছ থেকে এ  সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। আমরা নতুন ক্যাটাগরি গঠনের জন্য কাজ শুরু করেছি।
  
জানা গেছে, বিএসইসির ৬৮৭তম কমিশন সভায় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত অন্য পরিচালক ও উদ্যোক্তারা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কোম্পানির শেয়ার বিক্রয়, হস্তান্তর কিংবা বন্ধক কার্যকর হবে না। তবে ঋণখেলাপি হলে বন্ধকি শেয়ার বাজেয়াপ্ত কিংবা মারা গেলে শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে।

এছাড়া উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি রিপিট পাবলিক অফার (আরপিও), রাইট শেয়ার অফার, কোম্পানির একত্রীকরণ, বোনাস শেয়ার বা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে মূলধন বাড়াতে পারবে না। এছাড়া উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের ট্রেডিং বোর্ডে আলাদা একটি ক্যাটাগরি গঠন করবে। 

অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের  বিপরীতে একজন ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করতে পারবে। এ সময় ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতায় পরিচালকের পদ শূন্য হওয়ার কারণে যে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হবে, তা ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এমন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে পরিচালকের পদ শূন্য হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের  সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়টি নিয়ে নোটিফিকেশন জারির পর থেকেই বিবাদ চলে আসছে। এর মধ্যের বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা-পরিচালক নোটিফিকেশনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএসইসির পক্ষে আপিল বিভাগের রায় আসে। পরে বিএসইসির পক্ষ থেকে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়টি পরিপালনের কোম্পানিগুলোকে তাগাদা দেওয়া হলেও এখনো অর্ধশতাধিক কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছেই ন্যূনতম শেয়ার নেই।  

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড