• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিদায়ী অর্থবছরে

জিডিপি, রেমিটেন্সে স্বস্তি মিললেও নিয়ন্ত্রণ আসেনি খেলাপি ঋণ, সুদহারে

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

০১ জুলাই ২০১৯, ১৪:১৬
জিডিপি
ছবি : প্রতীকী

সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণের  মধ্যে ছিল। পাশাপাশি রপ্তানি আয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ছিল আশানুরূপ অবস্থানে। 

কিন্তু বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, ঋণের সুদহার এক অঙ্কে না নামা এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ অর্থনীতিতে সমস্যা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি  খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হয়েছে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগও সেভাবে বাড়েনি। অর্থনীতির এরূপ পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরু করেছে নতুন অর্থবছর।   

বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই খেলাপি ঋণ নতুন করে আর বাড়বে না বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ জোরদারের পরিবর্তে ঋণখেলাপিদের সুবিধা ও ছাড়ের পথ তৈরি করে দেন। ঋণ শ্রেণীকরণ ও পুনঃতফসিল উভয় নীতিমালাতেই ঋণখেলাপিদের বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১১.৮৭ শতাংশ। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা বা ১০.৩০ শতাংশ। ফলে মাত্র তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকরা ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থা রেপোর সুদহার কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে। ২০১৮ সালের জুন থেকে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর করার কথা থাকলেও ব্যাংকের মালিকরা সে কথা রাখেননি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামায়নি ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের মে মাসে দেশের ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৩১ ব্যাংকের ঋণের সুদহার দুই অঙ্ক ছাড়িয়েছে। আর বাকি বেশির ভাগ ব্যাংকেরও এই সুদহার দুই অঙ্কের কাছাকাছি। তবে কোনো কোনো ব্যাংকের সুদহার সর্বোচ্চ ১৭-১৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। 

বিদায়ী অর্থছরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তারল্য সংকট। শেষ সময়ে ব্যাংকের ঋণ নেওয়া বাড়ায় অর্থবছরের শেষ সময়ে এই সংকট আরও বেড়েছে। এতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। গত এপ্রিল মাসে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১২.৭ শতাংশ, যা গত ৫৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। জানুয়ারি থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী ছিল এবং বেসরকারি বিনিয়োগও কম ছিল। 

তবে আশার খবর হচ্ছে, গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় ছিল স্বস্তিদায়ক অবস্থানে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথমবার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।বাজেটে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭.৪ শতাংশ। 

অন্যদিকে, বিবিএসের সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮.১৩ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৭.৮৬ শতাংশ। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী,  মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে এক হাজার ৯০৯ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড