• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

২৪ দিনে ১৩৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক ২৭ মে ২০১৯, ১৩:৪৩

রেমিট্যান্স
প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে (ছবি : সংগৃহীত)

প্রতিবছরই ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে যায়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। চলতি মাসের ২৪ দিনেই তারা ১৩৫ কোটি (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স নিয়ে পাঠানো সবশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ঈদের আগে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রবাসীরা অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে সাধারণত বেশি টাকা পাঠান। ফলে একক মাস হিসেবে মে মাসেই দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। এর আগে জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন,রেমিট্যান্স প্রবাহ এমনিতেই ভালো ছিল। রোজা এবং ঈদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। আগামী  ৫ বা ৬ জুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ অনুষ্ঠিত হবে।সে হিসেবে মাসের বাকি সপ্তাহে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে। 

তিনি আরও বলেন, অর্থবছর শেষে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। গত বছর যা ছিল ১৫ বিলিয়নের কাছাকাছি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মে মাসের ২৪ দিনে দেশে ১৩৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ১ থেকে ৩ মে ১১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, ৪ থেকে ১০ মে এসেছে ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, ১১ থেকে ১৭ মে ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং ১৮  থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

সেখানে আরও দেখা যায়, মে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০১ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসীরা এক হাজার ৩৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার (১৩.৩০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের  চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। আর মে মাসের ২৪ দিনের ১৩৫ কোটি ডলার যোগ করলে চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪৬৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। 

এদিকে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩২ শতাংশ বেশি।  

এক দিকে দেশে যেমন রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ গত ৭ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণেই রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইরান, মিয়ানমার ও মালদ্বীপ—এই ৯টি দেশ আকুর সদস্য। বাংলাদেশ এই দেশগুলো থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্থানীয় বাজারে ডলারের উচ্চমূল্য এবং হুন্ডি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। 

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড