• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

এক বছরে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব বেড়েছে তিন লাখ ৬৪ হাজার ৪৭৭টি

  অধিকার ডেস্ক    ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৩৬

বাংলাদেশ ব্যাংক

২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় শিক্ষার্থীরা মোট ১৮ লাখ ১৮ হাজার  ৪১৩টি অ্যাকাউন্ট খুলেছে। ২০১৭ সালের একই সময় এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৬টি। এক বছরের ব্যবধানে সে হিসাবে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে তিন লাখ ৬৪ হাজার ৪৭৭টি। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।  

এদিকে, সেসব অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এটি তার আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। তবে গ্রামের তুলনায় শহরে এই হিসাব খোলার প্রবণতা বেশি।

এই হিসাব সংখ্যা বাড়াকে ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি গ্রামে স্কুল ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় সুবিধা তুলে ধরতে হবে।  

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, এই হিসাবধারী অ্যাকাউন্টের প্রায় সাড়ে ৪৭ শতাংশই ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যাংকিং সেবা গ্রামীণ এলাকায় এখনও পিছিয়ে আছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মোট অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৬৩ শতাংশ শহরে আর গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ৩৭ শতাংশ। তবে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। 

সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাংকে ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৪১৩টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে শহরের ব্যাংক শাখাগুলোতে রয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৪৩টি অ্যাকাউন্ট। আর গ্রামীণ এলাকার শাখাগুলোতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ছয় লাখ ৭৪ হাজার ১৭০টি। 

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে শিক্ষার্থীদের স্কুলের সঞ্চয়ের অভ্যাসে উৎসাহিত করতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম চালু করে। শিক্ষার্থীরা মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়ে নিজের নামে হিসাব খুলতে পারে। এতে করে একদিকে শিক্ষার্থীদের অর্থ জমা হচ্ছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকেরও আমানত বাড়ছে। দেশে কার্যরত ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে ৫৬টি ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক আবুল বশর এ প্রসঙ্গে বলেন, এই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যাংকমুখী করে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন সময় প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এভাবেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব বাড়ছে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ইউথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনালের’ (সিওয়াইএফআই) ‘কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলায় শীর্ষে রয়েছে। আর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড আমানতের পরিমাণের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তিন লাখ ২৩ হাজার ১৮৭টি, যা মোট অ্যাকাউন্টের প্রায় ১৭ দশমিক ৭৭ ভাগ। আর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে তিন লাখ সাত হাজার ৯৮৯টি, অগ্রণী ব্যাংকে দুই লাখ সাত হাজার ৮৭৩টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে এক লাখ সাত হাজার ১০২টি এবং উত্তরা ব্যাংকে ৮৮ হাজার ৭৪৭টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিংয়ে সঞ্চয়ের দিক থেকে জমা পড়েছে ৪৫২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, যা মোট জমার ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর ইসলামী ব্যাংকে ১৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকে ১২৬ কোটি সাত লাখ টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং রূপালী ব্যাংকে ৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের তুলনায় শহরাঞ্চলের স্কুল ব্যাকিং হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৬৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। আর সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলের সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১৯৭ শতাংশ বেশি।

তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১২ লাখ ২৭ হাজার ৬০৯টি ব্যাংক হিসাব ছিল। এটি মোট হিসাবের ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। এতে জমার পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা অর্থাৎ ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সে হিসাবে বেসরকারি ব্যাংক হিসাবসমূহে জমার পরিমাণ হিসাব সংখ্যার তুলনায় বেশি। 

এদিকে, দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহে চার লাখ ৫৭ হাজার ৩২০টি অর্থাৎ ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে মোট জমা ছিল ১৯৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা অর্থাৎ ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, এটা আর্থিক সাক্ষরতার একটা অংশ। নতুন প্রজন্ম কীভাবে ব্যাংকিং, কীভাবে সঞ্চয় করবে এসব শেখার একটা উপায়। 

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্থ দীর্ঘমেয়াদের জন্য রাখে। এতে ব্যাংকিং খাত উপকৃত হচ্ছে। কারণ ব্যাংকে আমানতকারীরা স্বল্প সময়ের জন্য আমানত রাখে। কিন্তু ব্যাংককে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিতে হয়। ফলে ব্যাংকে মাঝে মাঝে তারল্য সংকটও দেখা দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরাও তাদের জমা অর্থ দীর্ঘদিন পরে উত্তোলন করে।

ওডি/টিএফ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড