• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে দিনপ্রতি ১২ হাজার কোটি টাকা ধার

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২০, ১৭:২৬
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ছবি : সম্পাদিত)

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে। গতকাল থেকে এ প্রবণতা আরও তীব্র হয়। অনেক ব্যাংকই গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। দেশের আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও অনেক দিন থেকেই তারল্য সংকট চলছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নগদ টাকার একমাত্র ভরসা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে দিনে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ধার দিতে হচ্ছে।

এ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস অর্থাৎ রবিবার ব্যাংকগুলোয় নগদ অর্থের চাহিদা ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ছিল। কিন্তু সেদিন আন্তঃব্যাংক (কলমানি) মুদ্রাবাজারে মাত্র ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ধার করতে হয়েছে চাহিদা মেটাতে। 

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৭ দিন মেয়াদি রেপোতে ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, ১ দিন মেয়াদি রেপোতে ৪ হাজার ২৭৪ কোটি ও অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) হিসেবে ৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া বিশেষ রেপোতে ৬৯ কোটি টাকা ধার দিতে হয়েছে। এ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোকেও রেপো ও এএলএস হিসেবে হয়। পরের দিন সোমবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১১ হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যাংকগুলোকে ধার দিয়েছে। মুদ্রাবাজারে চলতি মাসের শুরু থেকেই এ পরিস্থিতি চলছে। 

কলমানি বাজার এবং রেপো, বিশেষ রেপো ও এএলএস সুবিধার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্যাংকগুলো গত মাসের শুরুতে দেশের কলমানি বাজারে দৈনিক ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিল। তারপর থেকেই কলমানি বাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সামর্থ্য কমছে। কলমানি বাজারে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। আর চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবেই কমছে। কমতে কমতে এখন তা হাজার কোটির ঘরে নেমে এসেছে। 

কলমানি বাজারে বিনিয়োগ কমতে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধারের পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত মাসে রেপো ও এএলএস সুবিধার আওতায় ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহণের গড় ছিল ৫ হাজার কোটি টাকার ঘরে। কিন্তু চলতি মাসে তা ঋণ গ্রহণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ১৬ মার্চ রেপো ও এএলএস সুবিধার আওতায় ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তারপর থেকে এ চাহিদা বেড়েই চলছে। 

ব্যাংকাররা বলছেন, দেশের কলমানি বাজার পুঁজিবাজারের মতোই ধসে পড়ছে। শুধুমাত্র করোনা ভাইরাসের কারণে এ বাজার শুকিয়ে যাচ্ছে না। সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত তুলে নিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে আমানতের সুদহার কমানোর বিরূপ প্রভাবও পড়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে সরকারি বিল-বন্ড কিনে নেওয়ার প্রবণতাও এর কারণ। দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য সামগ্রিক এই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তারা। 

আরও পড়ুন : এনজিও ঋণগ্রহীতাদের ৬ মাসের কিস্তি শিথিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলছেন, করোনার প্রভাবের কারণে মানুষ নগদ টাকা তুলে রাখছে। সাধারণ ছুটির প্রভাবও রয়েছে এক্ষেত্রে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে করোনা আতঙ্ক কেটে গেলেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদার আলোকে ব্যাংকগুলোকে টাকা সরবরাহ করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

একাধিক ব্যাংকের শাখা ঘুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা টাকা জমা দেয়ার পরিবর্তে টাকা তুলছেন বেশি। একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জানান, ব্যাংকে আসা প্রতি ১০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৮ জনই টাকা তুলতে এসেছেন। এটিএম বুথগুলোতেও বেশি হারে টাকা সরবরাহ করতে হচ্ছে। 

অন্য একাধিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকও একই পরিস্থিতির কথা জানান। 

ওডি/এওয়াইআর   

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড