• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সুপারির বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা

  পিরোজপুর প্রতিনিধি

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৪
সুপারি
বাজারে রপ্তানিকৃত সুপারি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পিরোজপুরে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে জমজমাট চলছে সুপারি বেচা-কেনা। তবে চাষিদের অভিযোগ, বিদেশি সুপারি আমদানি করায় দেশীয় সুপারির দাম কমে যাচ্ছে। তাই ফলন ভালো হলেও ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। এ দিকে চাষিদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য জেলা কৃষি অফিস দিচ্ছেন নানা পরামর্শ। 

দেশে সুপারির অন্যতম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুর সুপরিচিত। এক সময় দেশে উৎপাদিত সুপারির বড় অংশ পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা বাজারে বেচা-কেনা হতো। বর্তমানে জেলার গাজিরহুলা, চৌরাস্তা, তালুকদারহাট, মিয়ারহাট, ধাবড়ী, নতুনবাজার, কেউন্দিয়া ও চলিশা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ছোট বড় হাটে সুপারি কেনা-বেচা হয়। এ সকল হাটে সারা বছরই সুপারি কেনা-বেচা চলে। তবে শুকনো সুপারির মৌসুম ফাল্গুন থেকে আষাঢ় পর্যন্ত এবং পাকা সুপারি মৌসুম শ্রাবণ থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত। এ সময় বেশির ভাগ সুপারি  বেচা-কেনা হয়ে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠায়। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন সুপারি কিনতে।

সুপারি চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর এই মৌসুমে বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি কিনে মজুদ করে রাখে। শুকিয়ে ও পানিতে ভিজিয়ে সুপারি সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সুপারি এলসির মাধ্যমে ভারত, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। 

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য পান না চাষিরা। তাই সরকারের কাছে চাষিদের দাবি, বিদেশি সুপারি আমদানি বন্ধ করে দেশের সুপারি বেশি বেশি রপ্তানি কারার জন্য।

শুকনো সুপারি সাধারণত ফাল্গুন মাস থেকে বিক্রি শুরু হয়ে আষাঢ় মাস পর্যন্ত চলে। শ্রাবণ মাস থেকে কাঁচা সুপারি অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত চলে। এ সময়ে কৃষকদের হাতে কোনো টাকা-পয়সা থাকে না। তাছাড়া এ সময় কৃষকরা বোরো, গমসহ রবিশস্য চাষে ব্যস্ত থাকে। গাছের সুপারি বিক্রি করে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে কৃষি কাজে লাগাতে পারে এ টাকা।

চাষিদের ক্ষতি কাটানোর জন্য জেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা আবু হেনা মো. জাফর জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাষিদের পরিশ্রম, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপারির উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

ওডি/এসজেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড