• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

চিম্বুক পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন

  বান্দরবান প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫০
আনারস
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের শেরন পাড়া ও ফারুক পাড়ার বম সম্প্রদায়ের আনারস (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলনে আনারস বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে বম সম্প্রদায়রা। এই মৌসুমের হাটবাজারে এসেছে বিভিন্ন প্রজাতির আনারস। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও হরমোন ব্যবহারের ফলে আনারসের প্রচুর আগাম ফলন আসছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও আনারস চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার পাহাড়ি এলাকাতে প্রতিবছর কয়েক শত একর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়ে থাকে। এবারে ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। সারাদেশের মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সবচেয়ে বেশি ফলে পার্বত্য বান্দরবানে। এ জাতের আনারসকে স্থানীয়ভাবে দেশীয় জাতের আনারসও বলা হয়। দেশি জাতের আনারস পাকলে খুব মিষ্টি হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে দেশি জাতের আনারসের কদরও বেশি। এছাড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সিঙ্গাপুরি আনারসের চাষও হয়।

কৃষিবিদরা জানিয়েছেন, পার্বত্যাঞ্চলে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষরণের জন্য তিন পার্বত্য জেলায় হিমাগার আর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা গেলে প্রতি বছর কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা। একদিকে পচনশীল পণ্য আর নষ্ট হবে না, অন্যদিকে কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মৌসুমে বান্দরবানে আনারসে প্রচুর ফলন হয়েছে। তবে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে না পারলে সংরক্ষণের অভাবে উৎপাদিত প্রচুর আনারস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের। এই বছর অধিক পরিমাণের আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে পর্যটন এলাকা চিম্বুক পাহাড়ে।

উপজেলার বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়িদের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আনারস জেলার বিভিন্ন বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আনারস যাচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। 

ফারুক পাড়ার চাষি লাল থোয়াই বম বলেন, আমরা বমরা বিভিন্ন ফলের বাগান চাষ করে পাহাড়ের অন্যান্য সম্প্রদায়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ফারুক পাড়া ৬ মাইলে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে পাইকার ব্যবসায়ীরা কিনছেন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আমাদের উৎপাদিত আনারসগুলো দেশি জাতের ও আকারে বড় এবং খুবই রসালো।

চিম্বুক পাহাড়ের শেরন পাড়ার আনারস চাষি লাল সল বাম বলেন, আমরা আনারস বিক্রি করে আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বী হয়েছি। তবে আমরা যে পরিমাণে আনারস উৎপাদন করেছি তা খুচরা বাজারে বিক্রয় করা সম্ভব না। তাই বাজারে আনা সব আনারস একসঙ্গে বিক্রি করতে হয় পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে। খুচরা বিক্রিতে দাম বেশি পাওয়া গেলেও তাড়াতাড়ি বিক্রি করতে না পারলে আনারসগুলো পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দাম কম পাওয়া গেলেও বাজারে নিয়ে আসা আনারস পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়।

এই বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক দৈনিক অধিকারকে বলেন, আনারসের জন্য বিখ্যাত এলাকা চিম্বুক পাহাড়। সেখানে বম সম্প্রদায়রা প্রচুর পরিমাণে আনারস চাষ করে থাকে ও তারা অন্যান্য সম্প্রদাদের তুলনায় অনেক স্বাবলম্বী হয়েছে। বান্দরবানে সারা বছরই আনারস উৎপাদন হয়। বর্তমানে যে আনারসের উৎপাদন হচ্ছে সেগুলো বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে হরমোন জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে উৎপাদন হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌসুম ছাড়াও যে কোনো সময় আনারস উৎপাদন করা সম্ভব। এই মৌসুমে সদর উপজেলার ১শ ৬০ হেক্টরসহ পুরো জেলায় ৪ হাজার ৭শ ৮৫ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়েছে। তা ছাড়া কাঁচা পণ্য সংরক্ষণে বান্দরবানের কোথাও হিমাগার না থাকা ও যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে বাজারজাত নিয়ে লোকসানের শঙ্কাতেও ভুগছেন চাষিরা।

ওডি/এসজেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড